করোনা ভ্যাকসিনের দৌড়ে এগিয়ে রাশিয়া, মধ্য অগাস্টেই বাজারে আসছে প্রথম কোভিড প্রতিষেধক
করোনা মহামারির জেরে নাজেহাল গোটা বিশ্ব। সারা বিশ্বজুড়ে চলছে মৃত্যু মিছিল ও হু হু করে বেড়ে চলা সংক্রমণ। এরই মধ্যে আশার আলো দেখালো রাশিয়া। করোনার ভ্যাকসিন আগে বাজারে নিয়ে আসার দৌড়ে তারা এগিয়ে আছে বলে দাবি করল তারা। এমনকী তাদের দাবি ১০ থেকে ১২ অগাস্টের মধ্যে রাশিয়া করোনার টিকা বাজারে নিয়ে আসবে। যেটি বিশ্বের প্রথম কোভিড–১৯ ভ্যাকসিন হবে বলে জানিয়েছে তারা।

মস্কোর গামালেয়া ইনস্টিটিউট এবং রাশিয়ান প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ তহবিল দ্বারা প্রস্তুত প্রতিষেধকটি নিয়ামকদের দ্বারা নিবন্ধকরণের তিন থেকে সাত দিনের মধ্যে জনসাধারের ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত হতে পারে। এর আগে দেশের আর একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল যে ১৫ থেকে ১৬ অগাস্টের মধ্যে প্রতিষেধকটি অনুমোদন পেতে পারে। যদিও রাশিয়ার ভায়রোলজি ইনস্টিটিউট ইতিমধ্যেই দেশের সম্ভাব্যময় কোভিড–১৯ ভ্যাকসিন মানবদেহে প্রয়োগের কাজ শুরু করে দিয়েছে। ২৭ জুলাই পাঁচজন স্বেচ্ছাসেবীকে এই ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, প্রত্যেকেই ভালো আছেন।
রাশিয়ান ওষুধ প্রস্তুতকারক আর–ফার্মা করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন উৎপাদনের জন্য অ্যাস্ট্রাজেনেকার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। এর আগে ব্রিটেন, কানাডা ও আমেরিকা অভিযোগ জানিয়েছিল যে রাশিয়া হ্যাকারের মাধ্যমে কোভিড–১৯ প্রতিষেধক ও গবেষণার তথ্য চুরি করার চেষ্টা করছে। যদিও রাশিয়ার সম্পদ তহবিলের প্রধান জানিয়েছেন যে এই চুক্তি প্রমাণ করেছে যে মস্কোর কিছুই চুরি করার দরকার নেই। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রক স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে ভ্যাকসিনের পরীক্ষাগুলি পদ্ধতিগত বিধিমালার সঙ্গে পুরোপুরি মেনে চলছে, গবেষণার সময়কাল হ্রাস করার কোনও প্রচেষ্টা ছাড়াই। তবে এই ভ্যাকসিন চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়ে গেলে সবার আগে করোনার সামনের সারির স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
রাশিয়া এ বছর নিজেদের দেশের জন্য ৩০ মিলিয়ন ডোজ প্রস্তুত করছে তাদের প্রথম কোভিড–১৯ ভ্যাকসিনের। এছাড়া ১৭০ মিলিয়ন ডোজ তৈরি হবে আগ্রহ প্রকাশ করা পাঁচটি দেশ সহ বাইরের দেশগুলির জন্য। তবে, রাশিয়া এখনও তার করোনা ভাইরাস ভ্যাকসিন পরীক্ষার বৈজ্ঞানিক তথ্য প্রকাশ করতে পারেনি, সুতরাং, ভ্যাকসিনের সুরক্ষা এবং কার্যকারিতা সম্পর্কে প্রশ্ন রয়ে গেছে। এই ভ্যাকসিন বর্তমানে দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষায় রয়েছে। ৩ অগাস্টের পরে তৃতীয় দফার ট্রায়াল শুরু হতে পারে। এ প্রসঙ্গে রাশিয়ার স্বাস্থ্যসচিব কিরলি দিমিদ্রিভ বলেন, ঐতিহাসিক দিনের সামনে দাঁড়িয়ে আছে রাশিয়া।












Click it and Unblock the Notifications