আগুনে ঝলসে যাওয়া দফতর থেকেই লড়াই শুরু! প্রকাশিত হল 'প্রথম আলো' ও 'ডেইলি স্টার', কী বার্তা দুই সংবাদপত্রের?
এক দিন সম্পূর্ণ ভাবে বন্ধ থাকার পর আজ আবারও প্রকাশিত হল বাংলাদেশের প্রথম সারির দুই সংবাদপত্র, 'প্রথম আলো' এবং 'ডেইলি স্টার'। গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার এই দুই কাগজেরই কোনও ছাপা বা অনলাইন সংস্করণ প্রকাশ করা যায়নি। কর্মীদের দাবি যে, পত্রিকার দীর্ঘ ইতিহাসে এরকম পরিস্থিতি আগে কখনও তৈরি হয়নি।

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ঢাকার কারওয়ান বাজারে ওই দুই সংবাদপত্রের দফতরেই হামলা চালিয়েছিল উত্তেজিত জনতা। ব্যাপক ভাঙচুর সহ অগ্নিসংযোগের কারণে কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছিল কর্তৃপক্ষ। যদিও পুলিশ জানিয়েছে যে, এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তবে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে ও গতকাল সকালে ঢাকার শীর্ষ পুলিশ কর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত দফতর পরিদর্শন করেছেন।
শনিবার প্রকাশিত 'প্রথম আলো'-র প্রথম পাতায় বড় শিরোনামটি হল, "প্রথম আলো-ডেইলি স্টার আক্রান্ত"। সেখানে হামলাটির পুরো ঘটনার বিবরণ সহ বিভিন্ন মহলের প্রতিক্রিয়া এবং ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান হাদির শেষকৃত্য সংক্রান্ত সমস্ত খবর রয়েছে। পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের বক্তব্যও ছাপা হয়েছে 'প্রথম আলো'-র প্রথম পাতায়।
অন্যদিকে, ইংরেজি দৈনিক পত্রিকা 'ডেইলি স্টার'-এর প্রথম পাতায় এক শব্দের শিরোনাম দিয়েছে, "Unbowed"। এর মাধ্যমে হামলা অথবা হুমকির কাছে মাথা না নত করার বার্তাও দিয়েছে পত্রিকাটি। হাদির শেষকৃত্যের খবরটিও পত্রিকার প্রথম পাতায় জায়গা পেয়েছে।
গতকালই মুহাম্মদ ইউনূস ফোনে দুই পত্রিকার সম্পাদকের সঙ্গে কথা বলেছেন। হামলার তীব্র নিন্দা করে তিনি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে স্পষ্ট বার্তাও দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেই গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন শরীফ ওসমান হাদি। তিনি হলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে হওয়া গণ আন্দোলনের এবং বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের অন্যতম মুখপাত্র ও প্রধান মুখ। ১২ই ফেব্রিয়ারি ঢাকা-8 কেন্দ্র থেকে তিনি বাংলাদেশ নির্বাচনে নির্দল প্রার্থী হিসাবেও লড়তেন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঠিক ৬ দিন পরই সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে তিনি মৃত্যু বরণ করলেন। জানা গিয়েছে যে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে যে বিদ্রোহ হয়েছিল, তাতে শরীফ ওসমান হাদির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। সেই আন্দোলন হওয়ার পরই শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটেছিল। আসন্ন নতুন বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে রয়েছে সাধারণ নির্বাচন। হাদি আসন্ন সেই নির্বাচনে লড়াইয়ের প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন।
উল্লেখ্য, শরীফ ওসমান হাদির হলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে হওয়া গণ আন্দোলনের এবং বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের অন্যতম মুখপাত্র ও প্রধান মুখ। ১২ই ফেব্রিয়ারি ঢাকা-8 কেন্দ্র থেকে তিনি বাংলাদেশ নির্বাচনে নির্দল প্রার্থী হিসাবেও লড়তেন। তাঁর মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই বিক্ষোভ শুরু হয় বাংলাদেশে।রেহাই পেলেন না সেখানকার সাংবাদিকেরাও। গতকাল রাতেই বাংলাদেশের দুই সংবাদপত্র অফিসে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। 'প্রথম আলো' এবং 'দ্য ডেইলি স্টার'-এর দফতরে প্রথমে ভাঙচুর হয় তারপরেই ধরিয়ে দেওয়া হয় আগুন।
কিন্তু এরকম ভয়ানক ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরেও শনিবার আবারও প্রকাশ্যে ফিরে এসেছে দুই সংবাদপত্র। এবং স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, কোনোরকমের চাপ বা হিংসার মুখেও তারা থামবে না।












Click it and Unblock the Notifications