আবারও বিতর্কিত মন্তব্য, নবী বিতর্ক নিয়ে মুখ খুললেন তসলিমা নাসরিন
বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিন ভারতীয় জনতা পার্টির বরখাস্ত হওয়া মুখপাত্র নুপুর শর্মার নবী মহম্মদ সম্পর্কে করা মন্তব্য এবং তাঁর জেরে তৈরি হওয়া বিতর্ক নিয়ে মুখ খুললেন। এমনিতে তিনি যখনই কোন ধর্ম নিয়ে বিশ্বের যে কোনও প্রান্তে কোনও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে তিনি প্রতিস্থান বিরোধী মন্তব্য করেছেন। নবী মহম্মদ বিতর্কেও মুখ খুললেন নিজের দেশ বাংলাদেশে নির্বাসিত লেখিকা।

টুইটারে তসলিমা নাসরিন এই ইস্যুতে যে হিংসা এবং বিক্ষোভ শুরু হয়েছে তা নিয়ে নিন্দা করেছেন।বাংলাদেশের সাহিত্যিক টুইট করে বলেছেন যে, "আজকে যদি নবী মুহম্মদ বেঁচে থাকতেন, তাহলে সারা বিশ্বের মুসলিম ধর্মান্ধদের উন্মাদনা দেখে অবাক হয়ে যেতেন।"
নূপুর শর্মার মন্তব্য নিয়ে ভারতের দিল্লি, উত্তর প্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ এবং ঝাড়খণ্ড সহ ভারতের বেশ কয়েকটি রাজ্যে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর তসলিমা নাসরিনের এই মন্তব্য করেছেন। বিক্ষোভকারীরা নুপুর শর্মাকে গ্রেপ্তার এবং কিছু ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের দাবিও জানায়।
নবী বিতর্ক ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিবেশী বাংলাদেশেও। শুক্রবার, হাজার হাজার মানুষ নবী মহাম্মদকে নিয়ে নূপুর শর্মার মন্তব্যের প্রতিবাদে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় মিছিল করেছে। বাংলাদেশে বিক্ষোভকারীরা ভারত সরকার ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে স্লোগান দেয় এবং ১৬ জুন ভারতীয় দূতাবাস ঘেরাও করার ডাক দেয়। বিক্ষোভকারীরা ভারতীয় পণ্য বয়কটেরও আহ্বান জানায়।
তিনি তাঁর দেশের এই ইস্যুতে চলা প্রতিবাদ নিয়ে বলেছেন যে , "বাংলাদেশের ধর্মোন্মাদ লোকেরা দেশ জুড়ে তাণ্ডব করছে, কারণ ভারতের একজন রাজনীতিক তাদের ধর্মগুরু সম্পর্কে কিছু বলেছে। কী বলেছে , আমার ধারণা, তারা জানে না। আমি যখন তাদের ধর্ম এবং ধর্মগুরু নিয়ে বহুকাল আগে কিছু সত্য কথা বলেছিলাম, তখন তারাও এমন তাণ্ডব করেছিল। বেশিরভাগ উন্মাদই জানতো না আমি ঠিক কী বলেছিলাম। তাণ্ডব করার আগে তাদের জানার দরকার হয় না কে কী বলেছে, যা বলেছে তার সঙ্গে সত্যের কোনও সম্পর্ক আছে কি না, তাদের এও জানার দরকার হয় না সত্যটাই বা কী। ধর্মোন্মাদদের কানে কেউ যদি এই খবর পৌঁছে দিতে পারে, ধর্মগুরু নিয়ে কেউ কোনও প্রশ্ন করেছে , অমনি তারা বদ্ধোন্মাদের মতো রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে। কোনও প্রশ্ন চলবে না, সমালোচনা চলবে না, নিন্দে চলবে না, এমনকী কোনও সত্য কথাও বলা চলবে না। গুরুকে নিয়ে ঐতিহাসিক সত্যও উচ্চারণ করা নিষিদ্ধ। তাঁর সম্পর্কে ধর্মীয় পুস্তক কী লিখেছে, তা-ও বলা বারণ। এতগুলো মুসলিম দেশও কী করে বাকস্বাধীনতার বিপক্ষে এক পায়ে দাঁড়িয়ে গেল জানিনা।"
সাহিত্যিক আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন যে , "পৃথিবী কি তাহলে মুসলিম বনাম অমুসলিমে ভাগ হয়ে যাবে একদিন! আপাতত এইটুকু জানি, ভারতীয় পণ্য ছাড়া বাংলাদেশের চলবে না। ভারতের পেঁয়াজ রসুন থেকে শুরু করে গরু ছাগল পর্যন্ত বাংলাদেশে যাচ্ছে। হিন্দু ভারতের পণ্য ছাড়া মুসলমান বাংলাদেশের ঈদ উৎযাপন হয় না। সুতরাং আলটিমেটলি সমঝোতা করতেই হবে। ভুলে যেতে হবে কার অনুভূতির কোথায় আচঁড় লেগেছে। সবচেয়ে বড় জিনিস অন্ন বস্ত্র বাসস্থান। এইসবে আচঁড় পড়লে একেবারেই চলে না।" অনুভূতি ধুয়ে বেশিদিন জল খাওয়া যায় না।"












Click it and Unblock the Notifications