খামেনেইকে লক্ষ্য করলে সর্বাত্মক যুদ্ধ, মৃত ৫,০০০ পেরোতেই আমেরিকাকে কড়া হুঁশিয়ারি তেহরানের
ওয়াশিংটনের সঙ্গে টানাপোড়েন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইরান স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লা আলি খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে যে কোনও হামলা মানে হবে 'পুরো ইরান জাতির বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ'। ইতিমধ্যে অস্থিরতার জেরে মৃত্যুর সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার দাবিও উঠে এসেছে।
প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশ্কিয়ান শনিবার 'এক্স' হ্যাণ্ডেলে পোস্ট করে লেখেন, "যে কোনও অন্যায় আগ্রাসনের জবাব হবে কঠোর ও অনুতাপজনক।" তাঁর মন্তব্য অনুযায়ী, খামেনেইকে লক্ষ্য করে আঘাত হানা মানে হবে 'ইরান জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা'।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি সাক্ষাৎকারে ইঙ্গিত দেন, প্রতিবাদ ও দমন পীড়ন চললে ওয়াশিংটন হস্তক্ষেপে পিছপা হবে না। 'ইরানে নতুন নেতৃত্বের সময় এসেছে' এমন মন্তব্যও করেন তিনি।
পেজেস্কিয়ান অভিযোগ করেন, ইরানের অর্থনৈতিক সংকটে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের নিষেধাজ্ঞা ও দীর্ঘদিনের বৈরিতাই বড় ভূমিকা রেখেছে। যদিও একইদিনে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান ৮০০ জন বন্দির নির্ধারিত মৃত্যুদণ্ড থামিয়েছে, যা নিয়ে তিনি তেহরান নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানান।
এর পাল্টা হুঁশিয়ারি দেন খামেনেই। তিনি ট্রাম্পকে 'অপরাধী' বলে আক্রমণ করেন ও স্বীকার করেন যে কয়েক হাজার মানুষ সাম্প্রতিক অস্থিরতায় নিহত হয়েছে, তবে অভিযোগ তোলেন, এর পেছনে 'ইসরায়েল ও মার্কিনপন্থী সন্ত্রাসী চক্র' কাজ করেছে।
গত মাসে তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারে অর্থনৈতিক ক্ষোভ থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুত রাজনৈতিক রূপ নিয়ে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। ছাত্র, দোকানদার, নারী পুরুষ সকল স্তরের মানুষ রাস্তায় নেমে শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়। নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন, ইন্টারনেট বন্ধ, গ্রেপ্তার পরিস্থিতি ক্রমশ দমনমূলক হয় ও সহিংসতা বাড়তেই থাকে।
এদিকে ইরানের বিচারবিভাগ জানিয়েছে, বিক্ষোভ ঘিরে কিছু মামলাকে 'মোহরেব' অর্থাৎ 'ঈশ্বরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। বিচার বিভাগের মুখপাত্র আসগর জাহাঙ্গির বলেন, ইসলামি আইনে এটি সবচেয়ে কঠোর দণ্ডগুলোর একটি।
সরকারি সূত্রে দাবি, মৃত্যুর সংখ্যা 'বড় আকারে বাড়বে না', বরং অভিযোগ প্রতিবাদীদের পেছনে বিদেশি শক্তির মদত রয়েছে। উত্তর পশ্চিমের কুর্দি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে সবচেয়ে তীব্র সংঘর্ষ ও মৃতের সংখ্যা বেশি বলে দাবি উঠেছে। সেইসঙ্গে সীমান্ত পেরিয়ে কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রবেশের চেষ্টারও অভিযোগ আনা হয়েছে।
ইন্টারনেট মনিটরিং সংস্থা নেটব্লকস জানায়, স্বল্পসময়ের জন্য ইন্টারনেট চালু হলেও পরক্ষণেই তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। অন্যদিকে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বিভিন্ন শহরে নিরাপত্তাবাহিনীর দমন পীড়নের দৃশ্য দেখা যায়।












Click it and Unblock the Notifications