সরকার গঠনের দিনে তালিবানদের অতিথি হতে চলেছে চিন-পাকিস্তান, আর কাদের আমন্ত্রণ জেনে নিন
সরকার গঠনের দিনে তালিবানদের অতিথি হতে চলেছে চিন-পাকিস্তান, আর কাদের আমন্ত্রণ জেনে নিন
বিদ্রোহের কফিনে শেষ পেরেকটা পুঁতে ফেলেছে তালিবানরা। পঞ্জশির দখল করে নিয়েছে তারা। এবার আর অপেক্ষা নয়। এবার সরকার গঠনের তোরজোর শুরু করে দিয়েছে তারা। শোনা যাচ্ছে বড় করেই সরকার গঠনের অনুষ্ঠান করবে তালিবানরা। আর তাতে তারা আমন্ত্রণ জানাবে চিন এবং পাকিস্তানকে। এই দুই রাষ্ট্রই প্রথম আফগানিস্তানে তালিবানদের শাসনকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। তবে তালিকায় শুধু এই দুই দেশ নয় আরও দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হবে বলে জানিয়েছে তালিবানরা।

পঞ্জশির দখলে
অপশেষে পঞ্জশিরও দখলে নিয়ে নিল তালিবানরা। গতকয়েকদিন ধরেই পঞ্জশির দখলে মরিয়া হয়ে উঠেছিল তারা। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া থেকে শুরু করেইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া। ফুড সাপ্লাই বন্ধ করে দেওয়া কী করেনি তারা। সবরকম চেষ্টা চালিয়েছে। সোমবার সকাল থেকে পঞ্জশিরে বোমা বর্ষণ করেছে তািলবানরা। তাঁদের সঙ্গে এঁটে উঠতে না পেরে শেষ পর্যন্ত নর্দান অ্যালায়েন্সের পক্ষ থেকে সন্ধির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। সেটা মেনে নেয়নি তালিবানরা। উল্টে নর্দান অ্যালাসেন্সের মুখপাত্রকে খুন করে জবাব দিয়েছিল তারা। যুদ্ধে মারা যান সালেহ-র ভাইপোও। তারপরেই গা ঢাকা দেন সালেহ। প্রবল বোমা বর্ষণের মাঝে নিজেদের রক্ষা করতে পারল না পঞ্জশির। সেই তালিবানদের দখলে গেল আফগানিস্তানের এই দুর্গম পার্বত্য উপত্যকা।

সরকার গঠনের প্রস্তুতি
কাবুল দখলের পর থেকেই সরকার গঠনের প্রস্তুতি শুরু করে তালিবানরা। কিন্তু সব ঠিক করেও পরপর দুবার পিছিয়ে যায় সরকার গঠনের প্রক্রিয়া। তার অন্যতম কারণ ছিল পঞ্জশির এমনই মনে করা হচ্ছে। সেই পঞ্জশির এখন তালিবানদের দখলে। কাজেই আর কোনও বাধা রইল না। পুরো আফগানিস্তান এখন তালিবানদের দখলে। এবার সরকার গঠন চূড়ান্ত করে ফেলতে চাইছে তারা। তালিবানদের পক্ষ থেকেই এই নিয়ে বিভিন্ন গোষ্ঠির মধ্যে আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে। খলিল হাক্কানি ইতিমধ্যেই আলোচনায় শুরু করে দিয়েছে। তালিবানদের মুখপত্র জবিহুল্লাহ জানিয়েছেন তাঁরা সরকার গঠনের জন্য একমত হতে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে আলোচনা শুরু করেছেন।

আমন্ত্রণ একাধিক দেশকে
শোনা যাচ্ছে সরকার গঠনের অনুষ্ঠান বড় করে করতে চাইছে তালিবানরা। তাঁরা গোটা বিশ্বকে জানাতে চাইছে তালিবান সরকারের নাম। সেকারণে একাধিক দেশকে সরকার গঠনের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। তালিকায় শীর্ষে রয়েছে চিন এবং পাকিস্তান। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য এই চিন এবং পাকিস্তানই প্রথম আফগানিস্তানে তালিবান শাসনকে স্বীকৃতি জানিয়েছিল। তালিকায় অন্য যে দেশগুলি রয়েছে তার মধ্যে থাকছে কাতার, রাশিয়া, তুরস্ক, ইরান। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য রাশিয়াও তালিবানদের স্বীকৃতি দিয়েছিল। যেসব দেশ তালিবানদের স্বীকৃতি দিয়েছিল তাদেরই সরকার গঠনের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে তারা।

পাকিস্তানের উল্লাশ
আফগানিস্তানে তালিবান শাসনের পর যেন একটু বেশি উৎসাহে ফুটছে পািকস্তানের জঙ্গি সংগঠনগুলি। ইতিমধ্যেই পাকিস্তানের একাধিক জঙ্গি সংগঠনে হাত মিলিয়েছে তালিবানদের সঙ্গে। আল কায়দার প্রতিনিধিরা তালিবানদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সরাসরি আফগানিস্তানে পৌঁেছ গিয়েছে। সেখানে থেকে কাজ করছে তারা। তালিবানদের একাধিক অভিযানে সামিল হয়েছে আল কায়দা।












Click it and Unblock the Notifications