আকাশে যুদ্ধবিমান, সমুদ্রে রণতরী এবং ওপর দিয়ে চলে যাচ্ছে ক্ষেপণাস্ত্র, চিনের সামরিক মহড়ায় অবরুদ্ধ তাইওয়ান
ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান সফরের পর চিন আগ্রাসী সামরিক মহড়া শুরু করেছে। এই মহড়ায় একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপন, যুদ্ধবিমান ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি সামরিক অভিযানের অজুহাত দেখিয়ে তাইওয়ান প্রণালীকে চিন অবরুদ্ধ রেখেছে। যার ফলে কোনও জাহাজ তাইওয়ানে প্রবেশ করতে পারছে না। বেশিরভাগ দেশ সাময়িকভাবে বিমান পরিষেবা বন্ধ রেখেছে। যার ফলে তাইওয়ান বর্তমানে বিচ্ছিন্ন একটি দেশে পরিণত হয়েছে।

সামরিক মহড়ায় ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ
চিন সামরিক মহড়ায় তাইওয়ানের কাউশিওং, তাইচুং, তাইপে, সুয়াও ও হুয়ালিয়েন শিপিং বন্দরগুলো অবরুদ্ধ করে রেখেছে। এছাড়া একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র চিন সামরিক অভিযানের নাম করে উৎক্ষেপণ করছে। জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্র তাইওয়ানের বাণিজ্যিক এলাকার ওপর দিয়ে যাচ্ছে। সেই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো জাপানের এক চেটিয়া অঞ্চলের আশেপাশে পড়ছে। এই ঘটনায় চিনের অন্য কোনও উদ্দেশ্য বা পরিকল্পনা থাকতে পারে বলে চিনের কূটনীতিক মহল মনে করছে। জাপান ও তাইওয়ানকে তাইওয়ান প্রণালী জুড়ে রেখেছে। সেই তাইওয়ান প্রণালীকে চিনের অবরুদ্ধ করে দেওয়ার ঘটনা নতুন করে একাধিক প্রশ্নের জন্ম দেয়। তারমধ্যে তাইওয়ানের উপকূল রেখা থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে চিন সামরিক মহড়া চালাচ্ছে। চিনের তরফে জানানো হয়েছে, রবিবার পর্যন্ত এই সামরিক অভিযান চালাবে।

চিনের অন্য কোনও অভিসন্ধি
চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানানো হয়েছে, ডিএফ-১৭ হাইপারসনিক মিশাইল মোতায়েন করা হয়েছে। সমুদ্রে একাধিক যুদ্ধ জাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে। তার মধ্যে দুটো বিমানবাহী যুদ্ধ জাহাজও মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়াও চিন তাইওয়ান প্রণালীতে দূর পাল্লার লাইভ ফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে। চিনের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তাইওয়ানের চারপাশে এই ধরনের মহড়া পরিকল্পনা করেই করা হয়েছে। অন্যদিকে, শুক্রবার তাইওয়ান দাবি করেছে, ৬৮টি যুদ্ধবিমান ও ১৩টি যুদ্ধ জাহাজ তাইওয়ানের সীমান্তে প্রবেশ করেছে।

আটকে একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজ
তাইওয়ানকে অবরুদ্ধ করতে যুদ্ধ জাহাজগুলো দ্বীপরাষ্ট্রটিকে ঘিরে রেখেছে। তাইওয়ানের বন্দরগুলো চিন অবরুদ্ধ করে রেখেছে। এই বন্দরগুলো তাইওয়ানের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক বন্দর হিসেবে পরিচিত ছিল। তাইওয়ানের উত্তরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বন্দর তাইপে। সেখানে প্রতিবছর প্রায় ৩০০০টি জাহাজ আসে। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের মধ্যে রাসায়নিক, চিনি, অ্যালুমিনিয়ম, সার, তেল, প্যাকেটজাত খাবার আমদানি রফতানি হয় তাইওয়ানের বন্দর থেকে। চিন অবরুদ্ধ করার ফলে বহু জাহাজ আটকে রয়েছে।

পাল্টা চাপ আমেরিকার
চিনের সামরিক মহড়ার প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে আমেরিকা। তাইওয়ানের পূর্বে ইতিমধ্যে আমেরিকা যুদ্ধ জাহাজ মোতায়েন করে রেখেছে। চারটি যুদ্ধ জাহাজ মোতায়েন করেছে। তারমধ্যে একটা পারমাণবিক বিমানবাহী রণতরী। সামরিক দিক থেকে চিনের থেকে অনেকটাই দূর্বল তাইওয়ান। তবে আমেরিকা তাদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications