জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের প্রথম লক্ষ্য এই সুপার-আর্থ! এখানে মাত্র ১৮ ঘন্টায় এক বছর
জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের প্রথম লক্ষ্য এই সুপার-আর্থ! এখানে মাত্র ১৮ ঘন্টায় এক বছর
পৃথিবী যদি সূর্যের খুব কাছাকাছি থাকত, তাহলে কী ঘটত? তাহলে পৃথিবীতে ৩৬৫ দিনে এক বছর হত না, হয়তো এক বছর হত কয়েক ঘণ্টায়। তাহলে মহাবিশ্বে তো এমন কোনও গ্রহ থাকতেই পারে, যেখানে এক বছর অতিক্রান্ত হয় মাত্র কয়েক ঘণ্টায়। সম্প্রতি জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ এমন এক সুপার আর্থকে টার্গেট করেছে, যেখানে মাত্র ১৮ ঘন্টায় এক বছর হয়।

জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ প্রথম টার্গেট
এটা ঠিক যে, যদি পৃথিবীতে এক বছর মাত্র ১৮ ঘণ্টায় অতিবাহিত হয়ে যায়, তাহলে মানব সভ্যতার বা মানুষের কোনও অস্তিত্ব থাকত না। এখন যদি এমন কোনও গ্রহের হদিস পাওয়া যায়, তবে তার অবস্থা ঠিক কী হবে। জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ শীঘ্রই খুঁজে বের করবে তা। জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ প্রথম টার্গেট করেছে এমনই এক সুপার আর্থকে।

১৮ ঘণ্টায় এই গ্রহে এক বছর হয়
পৃথিবী থেকে প্রায় ১,৫০,০০০ কিলোমিটার দূরে এক সুপার আর্থের হদিশ পেয়েছে জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ। জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ এখন সেই সুপার আর্থে খুঁটিনাটি জানার অপেক্ষায় রয়েছে। প্রাথমিকভাবে যে তথ্য উঠে এসেছে, এই সুপার আর্থ অতি-গরম, যেখানে মাত্র ১৮ ঘন্টার মধ্যে তা সূর্যের চারপাশে ঘুরে আসতে পারে। অর্থাৎ ১৮ ঘণ্টায় এই গ্রহে এক বছর অতিক্রম হয়ে যায়।

মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে সুপার আর্থের উপস্থিতি
জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের টিম শীঘ্রই গ্যালাক্সিজুড়ে গ্রহের ভূতাত্ত্বিক বৈচিত্র্য এবং পৃথিবীর মতো পাথুরে গ্রহের বিবর্তন বোঝার চেষ্টা করছে। যদিও এই জাতীয় গ্রহগুলি আমাদের নিজস্ব সৌরজগতে নেই। এ জাতীয় পাথুরে প্রায় পৃথিবীর আকারের অত্যন্ত গরম ও তাদের সূর্যের কাছাকাছি থাকে। মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে এই সুপার আর্থের উপস্থিতি থাকা অস্বাভাবিক নয়।

সুপার-আর্থ ৫৫ ক্যানক্রি ই কী?
এই সুপার আর্থ ক্যানক্রি ই তার নক্ষত্রের এত কাছাকাছি যে, এই গ্রেহ পৃষ্ঠের তাপমাত্রা সাধারণ শিলা-গঠনকারী খনিজগুলির গলনাঙ্কের অনেক উপরে। বৈজ্ঞানিকভাবে যে সমস্ত গ্রহগুলি তাদের নক্ষত্রের কাছাকাছি, তা সবথেকে উষ্ণ স্থানটি তারা বা নক্ষত্রের মুখোমুখি থাকবে এটাই স্বাভাবিক। এখানে দিন ও রাতের মধ্যে তাপের পরিমাণ সময়ের সাথে খুব বেশি পরিবর্তন হয় না।

৫৫ ক্যানক্রি ই-র পর্যবেক্ষণ নাসার টেলিস্কোপে
নাসার স্পিটজার স্পেস টেলিস্কোপ থেকে ৫৫ ক্যানক্রি ই-র পর্যবেক্ষণগুলি থেকে বোঝা যায় যে, ওই গ্রহের উষ্ণতম অঞ্চলটি সেই অংশ থেকে অফসেট করা হয়েছে যেটি তারার দিকে সরাসরি মুখ করে রয়েছে। যখন দিন ও রাতের তাপমাত্রা পরিমাপ করা হয়, তখন বোঝা যায় মোট তাপের পরিমাণ পরিবর্তিত হয়, কিন্তু তা যৎসামান্য।

অনেকটা বুঝের মতো প্রকৃতি সুপার আর্থের
বিজ্ঞানীরা অনুমান করেছেন, ওই সুপার আর্থের একটি দিন থাকতে পারে এবং বুধের মতো রাতের চক্রে দুটি কক্ষপথে তা তিনবার ঘুরতে পারে। এটি ব্যাখ্যা করতে পারে কেন গ্রহের উষ্ণতম অংশটি স্থানান্তরিত হয়েছে। পৃথিবীর মতোই পৃষ্ঠটি উত্তপ্ত হতে সময় লাগে বলেও প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। এই গ্রহে দিনের সবথেকে উষ্ণ সময় হল বিকেলে, ঠিক দুপুরে নয়। স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক অ্যালেক্সিস ব্র্যান্ডেকার এমনই ব্যাখ্যা করেছেন সুপার আর্থ ক্যানক্রি ই সম্পন্ধে।












Click it and Unblock the Notifications