দক্ষিণ কোরিয়ায় হ্যালোইন উৎসবে পদপিষ্টে মৃত বেড়ে ১৫১, জাতীয় শোক ঘোষণা প্রেসিডেন্টের
হ্যালোইন রাত উদযাপন করার আগেই বড়সড় বিপর্যয় নেমে এল দক্ষিণ কোরিয়ার সিওলে। শনিবার রাতে সঙ্কীর্ণ গলিতে প্রায় লক্ষ লোকের ভিড়ে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ১৫১ জনের এবং আহতের সংখ্যা একশোরও বেশি। আহতদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য প্রশাসনিক কর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইয়ুন সুক ইয়ল।

কীভাবে ঘটল এই পদপিষ্টের ঘটনা
মধ্য সিওলে এই জমায়েত হয় এবং তারপরই এই বিপত্তি ঘটে। স্থানীয় রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রায় এক লক্ষ মানুষ, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই কিশোর-কিশোরী এবং বছর ২০-এর তরুণ-তরুণীরা হ্যালোইন উদযাপনের আগে কেনাকাটার জন্য জমায়েত হয়েছিলেন এলাকার সঙ্কীর্ণ ও ছোট গলির মধ্যে। আসলে ৩১ অক্টোবর হ্যালোইন। আর তা উদযাপনের আগে কেনাকাটা করার জন্য সিওলের ছোট্ট গলির বাজারে ভিড় জমিয়েছিলেন সকলে। একটি সঙ্কীর্ণ গলিতে কয়েকশো দোকানের ভিতর বহু ক্রেতা ছিলেন। রাস্তায়ও জমায়েত ছিল। সে সময়ই এই বিপর্যয় ঘটে।

জাতীয় শোক হিসাবে ঘোষণা প্রেসিডেন্টের
রবিবার প্রেসিডেন্ট ইয়ুন সুক ইয়ল এই ঘটনাকে জাতীয় শোক হিসাবে ঘোষণা করেন এবং সঙ্গে এও জানান যে সরকারের পক্ষ থেকে আহতের চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং নিহতদের শেষকৃত্যের বন্দোবস্ত করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট এও বলেছেন যে সরকার এই দুর্ঘটনার কারণ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখবে এবং এই একই ধটনা যাতে ভবিষ্যতে না ঘটে তার জন্য মৌলিক উন্নতি করবে।

ভয়াবহ পদপিষ্টের সাক্ষী দক্ষিণ কোরিয়া
দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে এটি সবচেয়ে ভয়াবহ পদপিষ্টের ঘটনার সাক্ষী থাকল দেশবাসী। প্রত্যক্ষদর্শীরা আতঙ্কের সেই দৃশ্য বর্ণনা করার সময় বলেছেন, 'মানুষ যেন দাবার গুটির মতো এক এক করে পড়ে যাচ্ছিলেন।' দমকলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বলা হয়েছে যে ভয়াবহ পদপিষ্টে মৃত্যু হয়েছে ১৯ জন বিদেশির। মৃতদের মধ্যে ৯৭ জন মহিলা এবং ৫৪ জন পুরুষ বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ এবং দমকলবাহিনীর কর্মীদের শনিবার রাতে সরু গলির বিশৃঙ্খলার মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্তদের পুনরুজ্জীবিত করতে দেখা গিয়েছে। এক প্রত্যক্ষদর্শীর কথায়, 'সমাধির মতো মানুষ একের পর এক স্তর সাজিয়ে শুয়েছিল। কিছুজন তাঁদের জ্ঞান ওখানেই হারিয়ে ফেলেন আবার কিছুজন ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।'

ভারত সহ একাধিক দেশের শোক জ্ঞাপন
২০২০ সালের মহামারির পর এ বছর প্রথম হ্যালোইন ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ায়, যেখানে বাইরে বেরোলো মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক ছিল না। ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এই দুর্ঘটনায় তাঁর শোক জ্ঞাপন করেছেন এবং তিনি জানিয়েছেন যে দক্ষিণ কোরিয়ার এই দুর্ঘটনায় ভারত অত্যন্ত শোকগ্রস্ত এবং তরুণদের প্রানহানির ঘটনায় তিনি গভীরভাবে শোকাহত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও সদ্য নিয়োগ হওয়া ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনক এই ঘটনায় টুইটারের মাধ্যমে শোক জ্ঞাপন করেছেন।












Click it and Unblock the Notifications