খোলাখুলি বলুন আপনারা রাশিয়াকে ভয় পান, ন্যাটোকে তোপ ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতির
খোলাখুলি বলুন আপনারা রাশিয়াকে ভয় পান, ন্যাটোকে তোপ ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতির
ইউক্রেনকে একপ্রকার গাছে তুলে মই কেড়ে নিয়েছে ন্যাটো৷ রাশিয়াকে বাগে রাখতে ইউক্রেনের সামনে ন্যাটোর সদস্যপদ ঝুলিয়ে রাখলেও শেষমেশ কিয়েভকে ন্যাটোকে জায়গা দেয়নি আমেরিকার সহ মিত্র দেশগুলি৷ কিন্তু ২৪ ফেব্রু রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করা থেকেই নিষেধাজ্ঞা ও হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে আমেরিকার সহ ন্যাটোর সদস্যরা৷ যদিও যুদ্ধের মাঝেও বারবার ন্যাটোর সদস্যপদ চেয়ে ব্যর্থ হয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি৷ তাই এবার সরাসরি ন্যাটোকে কটাক্ষ করার রাস্তায় হাঁটলেন।

সম্প্রতি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেছেন, উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থা (ন্যাটো) রাশিয়াকে 'ভয় পেয়েছে'। তিনি বলেছিলেন যে ন্যাটো - মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ ৩০ টি দেশের একটি আন্তঃসরকারি সামরিক জোট। তাদের স্পষ্ট করা উচিৎ যে তারা ন্যাটোতে 'আমাদের গ্রহণ করছে' কিংবা 'আমাদের গ্রহণ করছে না'। সঙ্গেই তিনি যোগ করেছেন, ন্যাটোর এখন বলা উচিত যে তারা আমাদের গ্রহণ করছে, অথবা খোলাখুলিভাবে স্বীকার করা উচিত যে তারা রাশিয়াকে ভয় পায় বলে আমাদের গ্রহণ করছে না৷ কিয়েভ ইন্ডিপেনডেন্ট সোমবার জেলেনস্কির বক্তব্য প্রকাশ করেছে৷
এখানেই থামেননি জেলেনস্কি, তিনি আরও যোগ করেছেন, প্রায় ২৭ দিন ধরে যুদ্ধ চলছে৷ এই যুদ্ধের সমাপ্তি প্রয়োজন৷ ন্যাটোতে না যুক্ত করেও ন্যাটোর সদস্য দেশগুলি আমাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারে। আর সেখানেই যুদ্ধের সমাপ্তি সম্ভব৷ প্রসঙ্গত ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগদানের উচ্চাকাঙ্ক্ষার কারণেই এই যুদ্ধ শুরু হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন৷ যা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে গত মাসে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালানোতে উৎসাহ যুগিয়েছিল৷ এর আগে, জেলেনস্কি বলেছিলেন যে ইউক্রেন ন্যাটোর সদস্যপদ পাওয়ার জন্য আর উৎসুক নয়। আমি এই প্রশ্নে (ন্যাটোতে যোগদান) অনেক আগেই উৎসাহ হারিয়েছি। যখন বুঝতে পেরেছিলাম যে ন্যাটো ইউক্রেনকে মেনে নিতে প্রস্তুত নয়।
চলতি মাসের শুরুতেই জেলেনস্কি বলেছিলেন, ন্যাটো বিতর্ক তৈরি এবং রাশিয়ার সঙ্গে সংঘর্ষের ভয় পায়৷ অন্যদিকে রাশিয়া জানিয়েছে যে পুতিন এবং জেলেনস্কির মধ্যে একটি বৈঠকের বিষয়ে আলোচনা করা খুব তাড়াতাড়ি ছিল কারণ চলমান মস্কো-কিয়েভ যুদ্ধ নিয়ে শান্তি আলোচনায় এখনও কোনও অগ্রগতি হয়নি। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, দুই রাষ্ট্রপতির মধ্যে একটি বৈঠক হওয়ার জন্য আলোচনার প্রয়োজন। এ নিয়ে হোমওয়ার্ক করতে হবে। আপনাকে আলোচনায় আগ্রহী হতে হবে৷ যদিও ইউক্রেন এবং রাশিয়ার প্রতিনিধিরা ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকেই যুদ্ধের সমাপ্তির জন্য বেলারুশে ব্যক্তিগতভাবে তিন দফা আলোচনা করেছে। ১৪ মার্চ ভিডিও কনফারেন্সে দু'পক্ষ তাদের চতুর্থ দফা আলোচনা শুরু করেছে। প্রসঙ্গত গত সপ্তাহে, ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতির উপদেষ্টা মাইখাইলো পোডোলিয়াক বলেছিলেন যে পুতিন আগামী দিনে জেলেনস্কির সঙ্গ আলোচনায় বসতে পারেন।












Click it and Unblock the Notifications