দক্ষিণ আফ্রিকায় বিধ্বংসী বন্যা, ভেসে যাচ্ছে জনজীবন! ইতিমধ্যে মৃত চার শতাধিক
দক্ষিণ আফ্রিকায় বিধ্বংসী বন্যা, ভেসে যাচ্ছে জনজীবন! ইতিমধ্যে মৃত চার শতাধিক
দক্ষিণ আফ্রিকার বিধ্বংসী বন্যায় মৃতের সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে। উদ্ধারকারীরা দুর্যোগের পাঁচ দিন পরেও নিখোঁজদের জন্য অনুসন্ধানের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের আঞ্চলিক প্রধান সিফো হ্লোমুকা জানিয়েছেন, "দুঃখজনকভাবে মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে, সর্বশেষ সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে।

দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূলীয় শহর ডারবানে আছড়ে পড়ে মারাত্মক ঝড়। তার পাঁচ দিন পরেও পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং স্বেচ্ছাসেবকরা ডজনেরও বেশি নিখোঁজ লোকের সন্ধান পেয়েছে। এই 'নজিরবিহীন' বন্যা প্রায় দক্ষিণ আফ্রিকার ৪১ হাজার জনকে প্রভাবিত করেছে এবং ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছে জনজীবন।
কোয়াজুলু-নাটাল প্রদেশে এখনও পর্যন্ত ৫৫ জন নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বন্যায় নিখোঁজ হওয়া আরও ১২ জনের খোঁজে শুক্রবার ভোরে গাড়ি ও হেলিকপ্টারের একটি বহর ডারবানের পশ্চিমে একটি উপত্যকায় চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছে। কোনও মানুষকে জীবিত উদ্ধারের মরিয়া অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।
স্বেচ্ছাসেবক-চালিত সংস্থা রেসকিউ সাউথ আফ্রিকার পরিচালক ট্র্যাভিস ট্রওয়ার বলেছেন, বৃহস্পতিবার ৮৫জনের আর্তি চিৎকার শুনেও কেবল মৃতদেহই খুঁজে পাওয়া গিয়েছে। "এটি দুর্ভাগ্যজনক, তবে আমরা মানুষের প্রাণ বাঁচানোর জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছি।" ডারবানের উত্তরে একটি ছোট বিমানবন্দরে উদ্ধার কেন্দ্র করা হয়েছে।
হাজার হাজার মানুষ বাড়িঘর হারিয়ে গৃহহীন হয়ে গিয়েছেন। শহরজুড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে, মেঝেতে বিছানো কার্ডবোর্ডের চাদর এবং গদিতে ঘুমোতে হচ্ছে মানুষকে। স্বেচ্ছাসেবকরা হ্যান্ড গ্লাভস এবং ট্র্যাশ ব্যাগ-সহ, ইস্টার উইকএন্ড ছুটির দিনের আগে ঝড় আছড়ে পড়ে। সৈকত শহরজুড়ে শুধু ধ্বংসলীলা।
৩৫ বছর বয়সী সফ্টওয়্যার ম্যানেজার মরনে মাস্টার্ড ডারবানের বিখ্যাত উমহলাঙ্গা সমুদ্র সৈকতে উদ্ধারকারী হিসিবে অন্তর্ভুক্ত স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যে ছিলেন। তিনি বলেন, "এটি আমার স্থানীয় সৈকত যেখানে আমি আমার শিশুদের নিয়ে এসেছিলাম। এবং এখানেই আমরা আমাদের সপ্তাহান্তে কাটাই। সেখানে আজ ধ্বংসের ছবি।"
সৈকতের হোটেল-রেস্তোরাঁগুলিতে স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য বিনামূল্যে সকালের নাস্তার অফার করেছিল। সেখানে তিনি সহকর্মী, পরিবার এবং বন্ধুদের সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিলেন। বৃষ্টিপাতের দিনটির কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, "এই বাস্তব আমরা আগে অনুভব করেনি। সম্পূর্ণ ধ্বংস, একটি ভয়ঙ্কর দৃশ্য, সৈকতে ছড়িয়ে পড়া জিনিসগুলি অবশ্যই কারও বাড়ি থেকে এসেছে। ঝাড়ু, ঘরের পাত্র, এগুলো দেখে কষ্ট হচ্ছে, ইচ্ছে করছে কাঁদতে।
ডারবানের দরিদ্রতর বাসিন্দাদের মধ্যে কিছু মানুষ সারিবদ্ধ হয়ে ফেটে যাওয়া পাইপ থেকে জল সংগ্রহ করছিলেন। তাঁদের স্বল্প সম্পত্তি পুনরুদ্ধার করতে মাটি খনন করছেন তাঁরা। প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা ত্রাণ তহবিল গঠন করেছেন। অঞ্চলটিকে র্যোগপূর্ণ রাজ্য ঘোষণা করেছেন। আবহাওয়া বিদরা জানান, বেশ কয়েকদিন ধরে এই অঞ্চলে নদিরবিহীন বৃষ্টিপাত হয়েছে। কিছু এলাকায় ৪৮ ঘন্টার বেশি ৪৫০ মিলিমিটার বা ১৮ ইঞ্চি বৃষ্টিপাত হয়েছে যা ডারবানের বার্ষিক বৃষ্টিপাতের প্রায় অর্ধেক।












Click it and Unblock the Notifications