দক্ষিণ আফ্রিকার নয়া কোভিড ভ্যারিয়েন্ট ঘিরে ত্রস্ত বিশ্ব! নেপথ্যে কোন ভয়াবহতার কারণ
করোনা ভাইরাসের নয়া ভ্যারিয়েন্ট সার্স সিওভি টু যা করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে, তা দক্ষিণ আফ্রিকার একটি অংশ থেকে উঠে আসছে। কোয়াজুলু নাটালের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর কমিউনিকেবল ডিজিজের বিজ্ঞানীরা এই নয়া সার্স কোভিড ভ্যারিয়েন্টের সন্ধান পেতেই তা নিয়ে একাধিক তথ্য প্রকাশ্যে এনেছেন। যে সমস্ত তথ্য রীতিমতো ভয় দেখাচ্ছে।

কেন এটি ভয়ঙ্কর?
জানা যাচ্ছে, যে ভ্যাকসিন গ্রহণের পরও এই বিশেষ করোনা ভ্যারিয়েন্ট ভ্যাকসিন গ্রাহকদের রীতিমতো গ্রাস করতে পারে। এদের মারণ ক্ষমতার চাইতেও ভয়াবহ হচ্ছে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ক্ষমতা। যা ইতিমধ্যেই আফ্রিকায় থাকা বিভিন্ন এলাকার মানুষকে রীতিমতো উদ্বেগে রেখেছে। এদিকে, চিনে এই নয়া ভ্যারিয়েন্ট সি১.২ খুঁজে পাওয়া গিয়েছে। এছাড়াও মরিশাস, কঙ্গো, ইংল্যান্ডে এমন করোনা ভ্যারিয়েন্টের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে।

করোনার অন্যান্য ভ্যারিয়েন্টের থেকে ভয়াবহতা বেশি
উল্লেখ্য, করোনার বাকি ভ্যারিয়েন্টের থেকে এই ভ্যারিয়েন্টের ভয়াবহতা অনেক বেশি। এক গবেষণা অনুযায়ী , এই ভ্যারিয়েন্টের মিউটেশনের সংখ্যা অনেকটাই বেশি। ভ্যারিয়েন্টস অফ ইন্টারেস্টের নিরিখে এই ভ্যারিয়েন্ট ঘিরে উদ্বেগ সারা বিশ্বে ছড়াতে শুরু করেছে। যেভাবে দক্ষিণ আফ্রিকা জুড়ে এই ভ্যারিয়েন্টের ভয়াবহতা বাড়তে শুরু করেছে, তাতে রীতিমতো ভয়াবহ পরিস্থিতি দানা বাঁধতে থাকছে গোটা দেশে। C.1.2 শীর্ষণ এক স্ট্রেইন ৪১.৮ বার প্রতি বছর মিউটেশন করছে বলে জানা যাচ্ছে। বিশ্বে ভাইরাস মিউটেশনের হারের থেকে এটির মিউটেশন দ্বিগুণ বলে জানা যাচ্ছে।

ভ্যাকসিন নেওয়া থাকলেও ভয়ঙ্কর এই ভ্যারিয়েন্ট!
গবেষণায় দেখা যাচ্ছে ,ভ্যাকসিনগুলি যে দিশা ধরে মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা করোনার বিরুদ্ধে গড়ে তোলার বন্দোবস্ত করেছে, সেই দিশাকেই কার্যত ধাক্কা দিচ্ছে এই নয়া ভ্যারিয়েন্ট। এই ভ্যারিয়েন্টের ক্ষমতা রয়েছে যার হাত ধরে ভ্যাকসিনের কার্যকারিতাকে ফাঁকি দিতে পারে এরা। আপাতত যা গবেষণার ফলাফল এসেছে, তাতে এমনটাই জানা গিয়েছে। যে রোগীরা করোনা থেকে সেরে উঠে করোনার আলফা বা বিটা ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলেছেন, এই নয়া ভ্যারিয়েন্ট তাঁদের ক্ষেত্রেও ত্রাস স্বরূপ হয়ে উঠছে।

উপসর্গ কী?
এখনও পর্যন্ত যা খবর মিলেছে, তাতে এই নয়া ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে যে গবেষণা পত্র প্রকাশ্যে এসেছে, তা নিশ্চিত করা এখনও বাকি। সেই জায়গা থেকে, দেখা যাচ্ছে যে, করোনার মতোই এই ভ্যারিয়েন্টেক দাপটে একই প্রকারের উপসর্গ দেখা দেয় শরীরে। নাকে সর্দি ভাব, টানা কাশি, গলা ব্যথা, সারা গায়ে যন্ত্রণার সঙ্গেই আচমকা গন্ধ না পাওয়া ও স্বাদ হারিয়ে যাওয়ার মতো বৈশিষ্ট দেখা দেয় শরীরে। এর সঙ্গেই হাতের পেশীতে ব্যাথা, চোখ গোলাপী ধাঁচের রঙ গ্রহণ করার মতো উপসর্গরে কথাও বলা হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications