সূর্যের আরও কাছাকাছি, ফের ইতিহাস গড়ার দিকে এগিয়ে চলেছে পার্কার সোলার প্রোব
সূর্যের আরও কাছাকাছি, ফের ইতিহাস গড়ার দিকে এগিয়ে চলেছে পার্কার সোলার প্রোব
পৃথিবী সহ গোটা সৌরজগতের শক্তির প্রধান উৎস হল সূর্য। কখনও দেবতা রূপে আবার কখনও জীব জগতের কারক রূপে দেখা হয় এই নক্ষত্রকে। আর এই সূর্যকে ঘিরে জল্পনা ও রহস্যের অন্ত নেই। কিন্তু এই সব রকম জল্পনা মেটাতে সূর্যের কাছাকাছি মহাকাশযান পাঠানো হয় নাসার পক্ষ থেকে। আর সেই রোবোটিক স্পেসক্রাফ্ট বা মহাকাশযান পার্কার সোলার প্রোব জানিয়েছে এইসব রহস্য ভেদ করা সম্ভব। সূর্যকে ছোঁয়ার ইতিহাসও গড়ে ফেলেছে নাসা। গতবছর ডিসেম্বরে ইতিহাস গড়েছেন মার্কিন মহাকাশ চর্চা কেন্দ্র নাসা।সূর্যকে ছুঁয়ে এল পার্কার সোলার প্রোব। ইতিহাস গড়া সেই মহাকাশযানটি ফের নতুন মিশনে যেতে চলেছে বলে জানা গিয়েছে।

আরও কাছাকাছি
জানা গিয়েছে, পার্কার সোলার প্রোবটি ঘণ্টায় ৩,৫৯২ কিলোমিটার বেগে সূর্যের চারদিকে ঘুরে বেড়াচ্ছে। নাসা জানিয়েছে, যে পার্কার মহাকাশযান আগের চেয়ে সূর্যের আরও কাছাকাছি আসতে চলেছে। পার্কার সোলার প্রোব টিমের পক্ষ থেকে টুইট করে জানানো হয়েছে, মহাকাশযানটি সূর্যের কাছাকাছি যাওয়ার সময় পৃথিবীর দিকে মুখ করে যাবে। পৃথিবীর সঙ্গে বিভিন্ন মিশনের সুযোগ রয়েছে।

পার্কার নাম হল কীভাবে?
পার্কার সোলার প্রোবের নামকরণ হয়েছে ইউজিন পার্কারের নামে। তিনি সৌরবায়ুর ধারণা দিয়েছিলেন। সৌর ক্রিয়াকলাপ সম্পর্কে তথ্য সরবরাহ করার পাশাপাশি রহস্যময় বিষয় নিয়ে আলোচনা করবে। ২০১৮ সালে সূর্যকে ঘিরে সমস্ত রহস্যের বিষয় জানার চেষ্টা করার পাশাপাশি অধ্যয়ন শুরু হয়েছে। সেই সময় পার্কার সোলার প্রোব চালু করা হয়েছিল। সম্প্রতি, সূর্যের উপর উল্লিখিত ক্রিয়াকলাপের সঙ্গে, মহাকাশের আবহাওয়া বোঝার জন্য এই বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সৌর-গবেষণার বিষয়
বর্তমান বিজ্ঞানের অগ্রগতি অন্যতম মাত্রায় গিয়ে পৌঁছেছে। কিন্তু এক্ষেত্রে ভবিষ্যতে আমাদের প্রধান নক্ষত্র সূর্য সম্পর্কে বেশকিছু বিষয় খেয়াল রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন। যেমন, সৌর করোনা, সৌর বায়ুকে উত্তপ্ত এবং ত্বরান্বিত করে এমন শক্তির প্রবাহের সন্ধান করা প্রয়োজন। সৌর বায়ুর উৎসে প্লাজমা এবং চৌম্বক ক্ষেত্রের গঠন এবং গতিশীলতা নির্ধারণ করা দরকার।

টাচ দ্য সান মিশন
নাসার ১৫০ কোটি ডলারের সান মিশন হল টাচ দ্য সান। আর সেই মিশনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করছে পার্কার সোলার প্রোব নামের এই মহাকাশযানটি। পার্কার সোলার প্রোব হলো মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার একটি রোবটিক স্পেসক্রাফট মহাকাশযান। এটির পথ চলা শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালে। এটিকে মহাকাশে নিয়ে যায় ডেল্টা ফোর হেভি নামের একটি শক্তিশালী রকেট। মূলত এর উদ্দেশ্য সূর্যের সম্পর্কে আরো বেশি গবেষণা এবং তথ্য সংগ্রহ করা, পাশাপাশি সূর্যের নানা অজানা রহস্যের উন্মোচন করা।

পার্কারের আগামী কর্মসূচি
আগের কাজে অভাবনীয় সাফল্য লাভের পর খুব তাড়াতাড়ি পরবর্তী মিশনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে পার্কার। নাসা জিনিয়েছে পার্কার সোলার প্রোব ঘন্টায় ৬,৯২,০১৭ প্রায় কিলোমিটার বেগে সূর্যের চারপাশে আঘাত হানবে। প্রোবটি সূর্যের পৃষ্ঠের নয়টি সৌর ব্যাসার্ধের কাছাকাছি যাবে, যা সূর্যের ব্যাসার্ধের নয় গুণ বা প্রায় ৬১,৬৩৭৮৭ কিলোমিটার।












Click it and Unblock the Notifications