মহাকাশে প্রাণের খোঁজ, জাপানি গবেষকদের প্ররিশ্রমে এসেছে সাফল্য
মহাকাশে প্রাণের খোঁজ, জাপানি গবেষকদের প্ররিশ্রমে এসেছে সাফল্য
মহাকাশে প্রাণের খোঁজ পেলেন জাপানি গবেষকরা। তবে সরাসরি জীবন্ত কোনও প্রাণী বা উদ্ভিদ নয় প্রথমবারের মতো মহাকাশে অ্যামিনো অ্যাসিড আবিষ্কার করেছেন জাপানের গবেষকরা৷ এই অ্যামিনো অ্যাসডিই হল জীবনের মূল উপাদান৷ মহাকাশে উড়ন্ত একটি গ্রহাণুতে অ্যামিনো অ্যাসিডের খোঁজ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা৷ হায়াবুসা-২ মিশনের মাধ্যমে গ্রহাণু রিগু থেকে সংগ্রহ করে নিয়ে আসা নমুনায় ২০টি অ্যামিনো অ্যাসিড শনাক্ত করেছেন। এই অনুসন্ধান বৈজ্ঞানিকদের দাবিকে মহাবিশ্বে কার্বন এবং জৈব পদার্থের চিহ্ন থাকার দাবিকে নিশ্চিত করেছে।

কী তথ্য দিচ্ছে জাপানি স্পেশ এজেন্সি?
জাপানি স্পেস এজেন্সি, জাক্সা জানিয়েছে কীভাবে তারা সৌরজগতে বিভিন্ন বস্তু কাজ করছে এবং পৃথিবীর জীবনের সঙ্গে তাদের কোনরকম সম্পর্ক রয়েছে কিনা তার সূত্র খুঁজে পাওয়ার জন্য গবেষণা চালাচ্ছে। অ্যামিনো অ্যাসিড হল এরকম একটি অণু বা একক যা প্রোটিন গঠন করতে একত্রিত হয় এবং জীবনের প্রাথমিক ফেজ তৈরি করে। এই অ্যামিনো অণুগুলি জীবিত প্রাণীর জন্য অপরিহার্য কারণ তারা খাদ্য, বৃদ্ধি, শরীরের টিস্যুগুলি মেরামত করতে এবং অন্যান্য বিভিন্ন শারীরিক কার্য সম্পাদনে সহায়তা করে। এগুলি শরীরের শক্তির উৎস হিসাবেও ব্যবহৃত হয়। এর আগে পৃথিবীতে পড়ে যাওয়া বিভিন্ন গ্রহাণুতেও এই অ্যামিনো অ্যাসিড শনাক্ত করা গিয়েছিল৷ যদি সেগুলির চিহ্নই পাওয়া গিয়েছিল মাত্র কারণ গ্রহাণুগুলি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে প্রবেশের সময় পুড়ে যায় এবং প্লাজমা তৈরি করে ফেলে৷

কী বলছেন জাপানের ভূবিজ্ঞানের অধ্যাপক?
এ প্রসঙ্গে, হোক্কাইডো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-বিজ্ঞানের অধ্যাপক হিসায়োশি ইউরিমোটো বলেছেন, রিগুর উপাদানগুলি হল সৌরজগতের সবচেয়ে আদিম উপাদান। রিগু একটি সিআই কনড্রাইট গ্রহাণু, এক ধরনের পাথরযুক্ত কার্বন-সমৃদ্ধ গ্রহাণু যার রাসায়নিক সংমিশ্রণ সূর্যের সঙ্গে সবচেয়ে সাদৃশ্যপূর্ণ। এই গ্রহাণুগুলি, জল এবং জৈব উপাদানে সমৃদ্ধ, কয়েক কোটি বছর আগে নবজাতক পৃথিবীতে জীবনের বীজ বপন করার একটি সম্ভাব্য উৎস হয়ে থাকতে পারে এই গ্রহাণুগুলি।'

কি উদ্দেশ্য নিয়ে শুরু হয়েছিল হায়াবুসা-২?
এই গ্রহাণুগুলি সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে কিন্তু গ্রহের তুলনায় অনেক ছোট, সৌরজগতের প্রাচীনতম বস্তুগুলির মধ্যে একটি হল এই গ্রহাণু। তাই পৃথিবী কীভাবে গঠিত এবং বিবর্তিত হয়েছে তা ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করে এই মহাজাগতিক বস্তু। হায়াবুসা-২ মিশনটি সৌরজগতের গ্রহগুলির সৃষ্টির সঙ্গে সম্পর্কিত উত্তর খোঁজার উদ্দেশ্য নিয়ে শুরু করেছিল জাপান। ২০১৪ সালে হায়াবুসা-২ মিশন লঞ্চ করা হয়েছিল। এবং অত্যন্ত পাথুরে পৃষ্ঠ থাকা সত্ত্বেও দুবার রিগুতে নেমেছিল হায়াবুসা-২ এর রোভার৷ ২০১৮ সালের জুন মাসে সেখানে পৌঁছানোর পর দেড় বছর ধরে সফলভাবে তথ্য এবং নমুনা সংগ্রহ করেছিল জাপানের এই মহাকাশ রোভারটি।












Click it and Unblock the Notifications