Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

পরমাণু বৈঠকের পরই শক্তি প্রদর্শন, রাশিয়াকে সঙ্গে নিয়ে সমুদ্রে ইরানের যুদ্ধ মহড়া

পরমাণু কূটনীতির টেবিলে কথাবার্তা শেষ হতেই সমুদ্রপথে শক্তি প্রদর্শন। আমেরিকার সঙ্গে বৈঠকের পরই রাশিয়াকে পাশে নিয়ে যৌথ নৌমহড়ায় নামল ইরান। পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত আবহে এই পদক্ষেপ নতুন করে কূটনৈতিক সমীকরণকে জটিল করে তুলেছে।

ওমান উপসাগর ও উত্তর ভারত মহাসাগরে রাশিয়ার নৌবাহিনীর সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া চালিয়েছে তেহরান। সমুদ্রপথের নিরাপত্তা জোরদার ও দ্বিপাক্ষিক সামরিক সহযোগিতা গভীর করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ এমনটাই দাবি ইরানের। মহড়ায় অংশ নেয় আলভান্দ শ্রেণির ডেস্ট্রয়ার, ক্ষেপণাস্ত্রবাহী রণতরী, হেলিকপ্টার, ল্যান্ডিং ক্র্যাফ্ট, বিশেষ প্রশিক্ষিত 'স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ' ও দ্রুতগতির যুদ্ধ স্পিডবোট।

এই সামরিক তৎপরতার পটভূমিতে রয়েছে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় হওয়া আমেরিকা ও ইরান বৈঠক। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও তাঁর জামাতা জ্যারেড কুশনার উপস্থিত ছিলেন আলোচনায়। ইরানের প্রতিনিধিদলে ছিলেন বিদেশ মন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। বৈঠকের পর আরাঘচি জানান, ভবিষ্যৎ আলোচনার রূপরেখা নিয়ে প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছে। কিন্তু ওয়াশিংটনের তরফে ভিন্ন সুর শোনা যায়। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভেন্স স্পষ্ট করে দেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ করার মূল দাবি মানতে রাজি নয় তেহরান। পাশাপাশি ইরানকে দেওয়া হয়েছে দু'সপ্তাহের সময়সীমা।

এই সময়সীমা কার্যকর হওয়ার আগেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দেশের সঙ্গে যৌথ মহড়া শুরু করায় কূটনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। অনেকের মতে, এটি ওয়াশিংটনের চাপের জবাবে তেহরানের কৌশলগত বার্তা।

পরমাণু ইস্যু ঘিরে উত্তেজনা অবশ্য নতুন নয়। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা আইএইএ একাধিকবার ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। আইএইএ-র মহাপরিচালক রাফায়েল ম্যারিয়ানো গ্রোসি সম্প্রতি দাবি করেন, ইরান উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চালাচ্ছে, যা পরমাণু অস্ত্র নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে তেহরান।

এরই মধ্যে ১৩ জুন ইজরায়েল অপারেশন রাইজিং লিওন নামে তেহরান ও একাধিক পরমাণুকেন্দ্রে হামলা চালায়। তার কিছুদিন পর ২২ জুন আমেরিকা অপারেশন মিডনাইট হামার এর আওতায় ফোরডো, নাতানজ ও ইসফাহানে বি ২ বোমারু বিমান দিয়ে আঘাত হানে, ব্যবহার করা হয় শক্তিশালী জিবিইউ ৫৭ বাঙ্কার ব্লাস্টার। যদিও ২৪ জুন ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হয়, তবু ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধে এখনও সম্মত হয়নি ইরান।

এদিকে, মার্কিন নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কলন ও ইউএসএস জেরাল্ড আর ফর্ড পশ্চিম এশিয়ায় মোতায়েন রয়েছে। জবাবে হরমুজ প্রণালীর কাছে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ও মহড়া চালিয়েছে তেহরান।

কূটনৈতিক আলোচনার আড়ালে শক্তির প্রদর্শন এই দ্বিমুখী কৌশলেই এগোচ্ছে ইরান। রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামরিক সমন্বয় স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে, চাপের মুখে নতি স্বীকার নয়, বরং পাল্টা অবস্থানেই থাকবে তেহরান। ফলে পরমাণু চুক্তি ঘিরে ভবিষ্যৎ সমঝোতা এখন অনিশ্চয়তার ঘেরাটোপে।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+