আমেরিকায় প্রচণ্ড শীতঝড়, ১৪,০০০ এর বেশি ফ্লাইট বাতিল, ৮.৫ লক্ষ মানুষ বিদ্যুৎহীন
ভয়ঙ্কর শীতঝড়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে আমেরিকার পূর্ব ও মধ্যাঞ্চল। নিউ মেক্সিকো থেকে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার মাইল বিস্তৃত অঞ্চলে তুষারপাত, বরফবৃষ্টি ও হিমেল হাওয়ায় কার্যত জনজীবন স্থবির। ২১ কোটিরও বেশি মানুষ এই দুর্যোগের প্রভাবে পড়েছেন। কোথাও তাপমাত্রা শূন্যের অনেক নিচে, কোথাও বরফের স্তর এমন পুরু যে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থাই ভেঙে পড়েছে।
ইতিমধ্যে দেশজুড়ে ৮.৫ লক্ষের বেশি গ্রাহকের বাড়িতে বিদ্যুৎ নেই। সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চল, কেবল টেনেসিতেই প্রায় ২ লক্ষ ৯০ হাজার মানুষ বিদ্যুৎহীন। পাশাপাশি মিসিসিপি, লুইজিয়ানা ও টেক্সাসে ১ লক্ষের বেশি মানুষ অন্ধকারে। বরফের ভারে গাছ ও বৈদ্যুতিক লাইন ভেঙে পড়ায় দ্রুত মেরামত কার্যও বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে।

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে গণ পরিবহন ব্যবস্থা এক ধরনের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। শনিবার থেকে সোমবার তিন দিনে ১৪ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল। একদিনে ১০ হাজার ফ্লাইট বাতিলের মতো নজিরবিহীন পরিস্থিতি দেখা গিয়েছে। ডালাস, শার্লট, নিউ ইয়র্ক ও বোস্টনের মতো বড় এয়ারপোর্টগুলোতে যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। ডি আইসিংয়ের সমস্যায় বড় বিমান সংস্থাগুলিও সময়সূচি গুছিয়ে উঠতে পারেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস (এনডব্লিউএস) এই ঝড়কে "ঐতিহাসিক ও ব্যতিক্রমী" বলে বর্ণনা করেছে। তাদের মতে, ওহাইও ভ্যালি থেকে উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে ঝড়ের তুষার স্তুপ জমে রয়েছে, আবার নিম্ন মিসিসিপি ও দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলে বরফের স্তর ক্রমশ বিপজ্জনক পরিণতি ডেকে আনছে। আবহাওয়াবিদ অ্যালিসন স্যানটোরেলি বলেন এই ঝড়ের বিস্তার ও তীব্রতা একইসঙ্গে বিরল।
দেশজুড়ে মহাসড়কগুলোও বহু স্থানে 'অপ্রবেশযোগ্য' হয়ে পড়েছে। কালো বরফ (ব্ল্যাক আইস) ও ঘন তুষারপাতের জেরে ভ্রমণে কঠোর সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে হাইপোথার্মিয়া বা ফ্রস্টবাইটের আশঙ্কাও বাড়ছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রায় ২০টি রাজ্যে জরুরি অবস্থা অনুমোদন করেছেন যার মধ্যে টেনেসি, জর্জিয়া, নর্থ ক্যারোলাইনা, মেরিল্যান্ড, কেনটাকি, লুইজিয়ানা, মিসিসিপি, ইন্ডিয়ানা, আরকানসাস ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া উল্লেখযোগ্য। ফেডারেল উদ্ধারকারী দল ও সামগ্রী আগেই মোতায়েন করেছে এফইএমএ। হোমল্যান্ড সিকিউরিটির সচিব ক্রিস্টি নোয়েম জনগণকে খাদ্য ও জ্বালানি মজুত রাখার পরামর্শ দিয়ে বলেন "অতি ঠান্ডার দিন আসছে, প্রস্তুত থাকুন।"
ঝড়ের দাপট এখনও কমার কোনো লক্ষণ নেই। তাপমাত্রা দক্ষিণের উপসাগরীয় উপকূল পর্যন্ত শূন্যের নিচে নামতে পারে যা মার্কিন আবহাওয়া মানচিত্রে বিরল ঘটনা বলেই বিশেষজ্ঞদের মত।












Click it and Unblock the Notifications