দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রাক্তন প্রেসিডেন্টকে সঙ্গে নিয়ে প্রতারণা! আরব আমিরশাহীতে গ্রেফতার গুপ্তা ব্রাদার্স
দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রাক্তন প্রেসিডেন্টকে সঙ্গে নিয়ে প্রতারণা! আরব আমীরশাহিতে গ্রেফতার গুপ্তা ব্রাদার্স
সংযুক্ত আরব আমীর শাহিতে (UAE) গ্রেফতার করা হল গুপ্তা পরিবারের (Gupta Family) দুই সদস্যকে। এই দুজনের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার (South Africa) বিভিন্ন সরকারি কোম্পানিতে তছরুপের কিংপিন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সেদিক থেকে দেখতে গেলে এই গ্রেফতার বড় পদক্ষেপ।

ইউএইতে আটক গুপ্তা ব্রাদার্স
দক্ষিণ আফ্রিকার বিচারমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, রাজেশ ও অতুল গুপ্তাকে সংযুক্ত আরব আমীর শাহীতে আটক করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে, অভিযুক্তদের দক্ষিণ আফ্রিকার গাতে তুলে দেওয়ার জন্য।

আগেই ইন্টারপোলের মোস্ট ওয়ান্টেডের তালিকায়
সংযুক্ত আরব আমীর শাহির সঙ্গে প্রত্যার্পণ চুক্তির প্রায় ১ বছর পরে গুপ্তা ব্রাদার্সকে দক্ষিণ আফ্রিকার হাতে তুলে দেওয়া কার্যকর হতে চলেছে। এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্তমান প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার ২০১৮ সালে সংযুক্ত আরব আমীর শাহি কর্তৃপক্ষের কাছে গুপ্তা পরিবারের সদস্যদের প্রত্যার্পণের জন্য আবেদন করেছিলেন। এরপর আমেরিকার তরফে গুপ্তা ব্রাদার্সের ভিসার ওপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এছাড়া তাদের সম্পদের ওপরেই বিধিনিষেধ আরোপ করে আমেরিকা। অন্যদিকে
ব্রিটেন গত বছর একই পথ অনুসরণ করে। এরপর গত ফেব্রুয়ারিতে ইন্টারপোল গুপ্তা পরিবারের দুই ভাইকে তাদের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকা-ভুক্ত করে।

যুক্ত দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্টও
দক্ষিণ আফ্রিকায় তিন বছরের বেশি সময় ধরে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত চলছে। এই মামলায় নাম জড়িয়েছে সেখানকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমারও। অনেক সাক্ষীই অভিযোগ করেছে, সেখানকার রাষ্ট্রীয় পরিবহণ, বিদ্যুৎ, অস্ত্র কোম্পানিতে
অর্থ তছরুপে এরা জড়িত। দক্ষিণ আফ্রিকার বর্তমান সরকারের অভিযোগ জুমার শেষ নয় বছরে কমপক্ষে ৫০০ বিলিয়ন রেন্ড অর্থাৎ প্রায় ৩২ বিলিয়ন ডলার সরানো হয়েছিল। যদিও গুপ্তা ব্রাদার্স এবং প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জুমা তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা
অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ প্রস্তুত সংস্থা এসকন হোল্ডিংস লিমিটেড ছাড়াও রেল-বন্দর কোম্পানি ট্রান্সনেট এমওসি লিমিটেডের ক্ষতির পিছনেও এদেরকে দায়ী করা হচ্ছে। ২০১৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার সেন্ট্রাল ফ্রি স্টেট প্রভিন্সে দুগ্ধ প্রকল্পে এখটি সন্দেহজনক
টেন্ডার নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার গুপ্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে। যেখানে তাদের নিয়ন্ত্রিত একটি কোম্পানিতে ২১ মিলিয়ন রেন্ড দেওয়া হয়েছিল।
২০১৫-র ডিসেম্বরে জুমা তৎকালীন অর্থমন্ত্রী হ্লানহলা নেনেকে বরখাস্ত করেন। তবে যাঁকে আনা হয়েছিল, সেই ভ্যান রুয়েন সেখানকার মুদ্রা রেন্ডের কোনও উন্নতি করতে পারেননি। আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের প্রতিবাদের জেরে তাঁকে সরিয়ে
প্রবীন গোর্ধনকে সেই পদে আনা হয়।

দুর্নীতিতে যুক্ত থাকাদের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা
বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকা সরকারের তরফে দুর্নীতির সঙ্গে যুক্তদের কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তরা আদালতে দিন কাটাবে বলে মন্তব্য করেছেন এক সরকারি আধিকারিক। সেক্ষেত্রে গুপ্তা কিংপিনদের শাস্তি আসন্ন বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।












Click it and Unblock the Notifications