মাস্ক চিহ্নিত করেছিলেন 'সাপ' বলে! সেই সার্জিও গোরকে ভারতে নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত করলেন ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সার্জিও গোরকে ভারতের পরবর্তী মার্কিন রাষ্ট্রদূত ঘোষণা করেছেন। ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শীতল সম্পর্ক যখন আরও খারাপের দিকে এগোচ্ছে, বিশেষত মার্কিন পণ্যের ওপর ভারতের শুল্ক দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা নিয়ে উত্তেজনা চলছে, ঠিক সেই সময়েই এই ঘোষণা সামনে এল। গোরকে একই সঙ্গে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবেও নিযুক্ত করা হয়েছে।
ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এই ঘোষণা করেছেন। তিনি গোরের প্রশংসা করে বলেছেন যে, গোর হাজার হাজার রাজনৈতিক পদে কর্মী নিয়োগে সহায়তা করেছেন, যা প্রশাসনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ট্রাম্প উল্লেখ করেন, "সার্জিও একজন দারুণ বন্ধু। তিনি বহু বছর ধরে আমার পাশে রয়েছেন।"

এখ প্রশ্ন হল, কে এই সার্জিও গোর? সার্জিও গোর ২০২০ সাল থেকে ট্রাম্পের রাজনৈতিক কার্যক্রমে জড়িত। তিনি ট্রাম্পকে সমর্থনকারী তহবিল সংগ্রহ ও রাজনৈতিক অ্যাকশন কমিটিতে বিভিন্ন ভূমিকা পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি হোয়াইট হাউসের প্রেসিডেন্ট পার্সোনেল অফিসের প্রধান হিসেবে কাজ করছেন। সেনেট তাঁর রাষ্ট্রদূত পদের মনোনয়ন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি এই পদে বহাল থাকবেন।
সার্জিও গোর তাসখন্দে জন্মগ্রহণ করেন। এটি সেই সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ ছিল। ১৯৯৯ সালে তিনি পরিবারের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসেন। যুক্তরাষ্ট্রে থিতু হওয়ার পর তিনি ওয়াশিংটন ডিসির জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। সেখানে তিনি ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন, কলেজ রিপাবলিকানস-এ যোগ দেন এবং ইয়াং আমেরিকাস ফাউন্ডেশনের একটি ক্যাম্পাস শাখা প্রতিষ্ঠা করেন।
পড়াশোনা শেষ করে গোর রিপাবলিকান রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশ করেন এবং কেন্টাকির সেনেটর র্যান্ড পলের সাথে কাজ করেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেটওয়ার্কে ঢুকে পড়েন। ট্রাম্পের ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের সঙ্গেও খাতির হয়। পরবর্তীতে গোর ও ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র মিলে একটি প্রকাশনা সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ট্রাম্প এবং ইলন মাস্কের মধ্যে সংঘাতে গোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। টেসলার সিইও এবং সার্জিও গোরের মধ্যে কয়েক মাস ধরে মতবিরোধ চলছিল। মে মাসে টেসলার সিইও ট্রাম্প প্রশাসন থেকে পদত্যাগ করার আগে এই বিবাদ চরম আকার ধারণ করে। সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, মার্চ মাসের একটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে উত্তেজনা দেখা দেয়। সেখানে মাস্ক এজেন্সির বাজেট কাটছাঁট নিয়ে অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিবাদে জড়ান। যদিও সে সময় প্রকাশ্যে গোরের নাম আসেনি, তবে ভিতরের খবর অনুযায়ী, তিনি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে মাস্কের প্রভাবের বিরোধিতা করেছিলেন।
এরপর গোর নাসার প্রধান হিসেবে জ্যারেড আইজ্যাকম্যানের মনোনয়ন আটকাতে দেন। জ্যারেডকে মাস্ক দৃঢ়ভাবে সমর্থন করেছিলেন। ট্রাম্প পরে স্বীকার করেন যে এই সিদ্ধান্তে মাস্ক অসন্তুষ্ট হয়েছেন। এর প্রতিক্রিয়ায় মাস্ক এক্স-এ পোস্ট করে প্রকাশ্যে গোরের সমালোচনা করেন এবং তাকে 'সাপ' বলে অভিহিত করেন।












Click it and Unblock the Notifications