এরাজ্যের বউমাকে বাংলাদেশের স্কুলে গণধর্ষণ
স্কুলের ক্লাসরুমে স্বামীর সামনে এক শিক্ষিকার গণধর্ষণের অভিযোগের প্রমাণ মিলল ডাক্তারি পরীক্ষায়। বৃহস্পতিবার ঘটনাটি ঘটে বাংলাদেশের বরগুনার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। নির্যাতিতার স্বামী নন্দীগ্রামের বাসিন্দা
স্কুলের ক্লাস রুমে স্বামীর সামনে এক শিক্ষিকা গণধর্ষণের অভিযোগের প্রমাণ মিলল ডাক্তারি পরীক্ষায়। গত বৃহস্পতিবারের বাংলাদেশের বরগুনার বেতাগীর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওই ঘটনায় এলাকার মানুষ ক্ষুব্ধ, স্তম্ভিত। স্কুলে যেতে ভয় পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন ওই শিক্ষিকা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা।

নির্যাতনের শিকার ওই শিক্ষিকা সংবাদ মাধ্যমকে জানান, তার সঙ্গে যা হয়েছে, তা যেন আর কোনও মেয়ের সঙ্গে না হয়। অভিযুক্তরা অনেক বড় সন্ত্রাসী। তাঁর পরিবার চায় না তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা লড়েন। আর তাঁর স্বামী চান তাঁকে নিয়ে ভারতে চলে যেতে চান। রাজি না হওয়ায় শনিবার সকালে তাঁর স্বামী চলে গিয়েছেন। তিনি এখন কী করবেন ভেবে পাচ্ছেন না। অভিযোগকারী শিক্ষিকা জানিয়েছেন, অভিযুক্তরা তাঁর স্বামীকে বেদম মারধর করেছে। এরপর ওরা তাঁকে চেয়ারে বসিয়ে দুজনে চেপে ধরে রাখে এবং তাঁর সামনেই তাঁকে নির্যাতন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার শিক্ষিকার ওপর পৈশাচিক নির্যাতন চালায় ছয়জনের একটি দল। স্থানীয় সূত্রের খবর, বেতাগীর প্রাথমিক বিদ্যালয় দুপুর আড়াইটে ছুটির পর বারান্দায় এক সহকারী শিক্ষিকা তাঁর স্বামী সঙ্গে কথা বলছিলেন। ঘটনা চক্রে শিক্ষিকার স্বামী ভারতীয় নাগরিক। সে পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দী গ্রাম থানা এলাকার বাসিন্দা। তাদের কথা বলতে দেখে স্থানীয় কিছু যুবক জড়ো হয়। তারা স্কুলের মধ্যে প্রবেশ করার চেষ্টা করলে শিক্ষিকা বাধা দেন। দরজা ভেঙে ৬-৭ যুবক ভিতরে ঢুকে শিক্ষিকার স্বামীকে মারধর করে পরিচয় জানতে চায়। শিক্ষিকার স্বামীর পরিচয় জেনে তারা একটি ক্লাসে আটকে রাখে। অন্য একটি ক্লাসে শিক্ষিকাকে আটকে যুবকরা গণধর্ষণ করে বলে অভিযোগ।
ঘটনার পর শিক্ষিকা স্বামীকে নিয়ে বেতাগী থানায় ছয়জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন। অভিযুক্তরা হল হোসনাবাদ ইউনিয়নের কদমতলা গ্রামের সুমন বিশ্বাস, রাসেল, সুমন কাজী, রবিউল, হাসান ও জুয়েল । যদিও, এই মুহূর্তে অভিযোগকারী শিক্ষিকা ও তাঁর পরিবার ভয়ে মামলা চালাতেও চাইছেন না। তাঁদের নিরাপত্তায় বিদ্যালয়ে ও বাড়িতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

শনিবার দুপুরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল মজিদ বিদ্যালয়ে গিয়ে ওই শিক্ষিকার লিখিত জবানবন্দি নিয়েছেন। এর আগে জেলা মহিলা পরিষদের নেতারাও বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষিকার সঙ্গে কথা বলেন।
বেতাগী থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি মো. মামুন অর রশিদ জানিয়েছেন, আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। শনিবার দুই আসামির দুই বাবাকে আটক করা হয়েছে। পরিবারটির নিরাপত্তায় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বরগুনা পুলিশ সুপার বিজয় বসাক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, পুলিশি তদন্ত শুরু করেছে। থানা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে। পুলিস খুব তাড়াতাড়ি দোষীদের গ্রেপ্তার করার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।












Click it and Unblock the Notifications