সুপ্রিম কোর্টের রায়ে অধিকাংশ সংরক্ষণ খারিজের পরেও বিক্ষিপ্ত অশান্তি! বাংলাদেশ থেকে ফিরেছেন ৪৫০০-র বেশি ভারতীয়
রবিবার বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট সংরক্ষণ নিয়ে হাইকোর্টের রায় বাতিল করে দিয়েছে। সরকারি চাকরিতে ৯৩ শতাংশ পদ মেধার ভিত্তিতে পূরণ করার নির্দেশ দিয়েছে। তারপরেই বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে বিক্ষিপ্ত অশান্তির খবর পাওয়া হয়েছে। রবিবার দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বিভিন্ন সংবাদ সংস্থায় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, সংরক্ষণ সংস্কারের দাবিতে হওয়া আন্দোলনে বাংলাদেশে এখনও পর্যন্ত প্রায় দেড়শোজনের মৃত্যু হয়েছে। আর বিক্ষোভ হিংসার রূপ নেওয়ায় ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সহায়তায় প্রায় সাড়ে চার হাজার ভারতীয় দেশে ফিরেছেন। এঁদের বেশিরভাগই ছাত্রছাত্রী। এছাড়া নেপাল, ভূটান, মালদ্বীপ ও কানাডার প্রায় ৫৪০ নাগরিক ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সহায়তায় বাংলাদেশ থেকে ফিরেছেন বলে জানা গিয়েছে।

সংরক্ষণ নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট ও হাসিনা সরকার
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত সংরক্ষণ নিয়ে হাইকোর্টের একটি আদেশ খারিজ করে দিয়েছে। যেখানে সংরক্ষণ পুনর্বহালের কথা বলা হয়েছিল। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত নির্দেশ দিয়েছে, সরকারি চাকরিতে ৯৩ শতাংশ পদ মেধার ভিত্তিতে পূরণ করতে হবে। পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্ট আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের ক্যাম্পাসে ফিরে যেতে বলেছে।
প্রসঙ্গত, শেখ হাসিনার সরকরা ২০১৮ সালে সংরক্ষণ ব্যবস্থা বাতিল করে দিয়েছিল। কিন্তু নিম্ন আদালতের রায়ে গতমাস থেকে এটি ফের চালু হয়। তারপর থেকে বিক্ষোভ শুরু হয় ভারতের প্রতিবেশী এই রাষ্ট্রে। বিক্ষোভ এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায়, সেখানে সরকারের বিরুদ্ধে দমন-পীড়নের অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি বিরোধীদের বিরুদ্ধেও হিংসা ছড়ানোর অভিযোগ করে শাসকদল।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত বৃহস্পতিবার থেকে ইন্টারনেটের ওপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকার। শুক্রবার রাতে কার্ফু জারি করা হয়। দেখা মাত্র গুলির আদেশ দেওয়া হয়। ঢাকার রাস্তায় সেনা টহল দিতেও দেখা গিয়েছে।
দেশে ফিরেছেন সাড়ে চার হাজারের বেশি ভারতীয়
ভারতের বিদেশমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ৪৫০০-র বেশি ভারতীয় ছাত্রছাত্রী দেশে ফিরেছেন। সঙ্গে নেপালের প্রায় ৫০০ এবং ভূটানের ৩৮ জন এবং মালদ্বীপের একজনকে ভারতে আনা হয়েছে। বিদেশমন্ত্রকের তরফে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে ঢাকায় ভারতের হাই কমিশন ভারতীয় নাগরিকদের স্থলপথে দেশে ফেরার জন্য ব্যবস্থা করেছে।
চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনার হাইকমিশন এবং সহকারী হাইকমিশন ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। বিদেশ মন্ত্রকের দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভারতের মিশনগুলি বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অবশিষ্ট ভারতীয় ছাত্রদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।
এর আগে শুক্রবার ভারতের বিদেশমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছিল, বাংলাদেশে থাকা প্রায় সাড়ে আটহাজার ছাত্রছাত্রীর-সহ ভারতীয়ের সংখ্যা পনেরো হাজার।












Click it and Unblock the Notifications