লাদাখে ড্রাগনদের সেনা বৃদ্ধির মাঝেই মস্কোতে বৈঠক, চিনা বিদেশমন্ত্রীকে কড়া বার্তা জয়শঙ্করের
চিন-ভারত সীমান্তে তপ্ত আবহাওয়া এখনও বিরাজমান। আর এই পরিস্থিতিতেই বৃহস্পতিবার মুখোমুখি হলেন ভারত ও চিনের বিদেশমন্ত্রী। মস্কোয় সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের পার্শ্ব বৈঠকে অংশ নেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। উপস্থিত ছিলেন রাশিয়া ও চিনের বিদেশমন্ত্রীও। ত্রিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয় বৈঠকে।

চিনের উদ্দেশে যে বার্তা দিয়েছিলেন জয়শঙ্কর
কিন্তু মস্কোয় যাওয়ার আগেই চিনের উদ্দেশে যে বার্তা দিয়েছিলেন জয়শঙ্কর, তার আঁচ কি পড়েনি বৈঠকে? মস্কোয় বৈঠকে অংশ নেওয়ার আগে তিনি বলেছিলেন, সীমান্তে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গালওয়ানের পর এইবার প্যাংগং দক্ষিণ প্রান্তে সংঘর্ষ পরিস্থিতি। এই আবহে যদি দুই দেশের বিদেশমন্ত্রীর বৈঠক হয়, তবে তাঁদের আলোচনায় অবশ্যই প্রভাব পড়বে বলে মনে করছিল রাজনৈতিক মহলের একাংশ। সূত্রের খবর, চিনের বিদেশমন্ত্রীর উদ্দেশে সেইরকমই বার্তা দিয়েছেন জয়শংকর।

শান্তি ফেরাতে চিনকে বার্তা জয়শঙ্করের
গত ১৫ জুন ভারত-চিন সেনা সংঘর্ষে শহিদ হয়েছেন ২০ জন ভারতীয় জওয়ান। তারপর থেকে আরও আঁটোসাঁটো হয়েছে সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা। আরও কড়া হয়েছে নজরদারি। এইসব কিছুর মাঝেই গত কয়েক দিনে একাধিকবার ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালায় চিনা সেনা। আর এরই মাঝে প্যাংগং হ্রদের উত্তর তীরে ফিঙ্গার ৫-এর সামনে গোপনে নির্মাণ কাজ জারি রেখেছে চিনা সেনা। এই বিষয়ে ঘোর আপত্তি জানান ভারতীয় বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। এদিনের বৈঠকে তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, এপ্রিল পূর্ববর্তী স্থিতাবস্থা ফেরাতে হবে চিনকে।

লাদাখের বিষয়ে বিশদে আলোচনা হয়
লাদাখের প্যাংগং হ্রদের কাছে গ্রিন টপের উপর থেকে চিনা সেনা দখলদারি সরাতে না চাওয়াতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও তিক্ত হচ্ছে চিনের। প্যাংগং সোতে চিনা সেনারা ফিঙ্গার ৫ এ ফিরে এসেছিল, তবে তারা এখনও ফিঙ্গার ৪-এর রিজলাইন দখল করে রয়েছে। চিনা সেনারা ফিঙ্গার ৪ থেকে ফিঙ্গার ৮-এর মধ্যে ৮-কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকাজুড়ে তাদের তৈরি কাঠামোগুলিকেই এলএসি বলে দাবি করে যাচ্ছে এখনও। জানা গিয়েছে দুই দেশের বিদেশমন্ত্রীর মধ্যে এই বিষয়ে বিশদে আলোচনা হয় এদিন।

সেনা মোতায়েন করতে শুরু করে চিনা সেনা
৭ সেপ্টেম্বর প্যাংগং লেকের দক্ষিণে দুই পক্ষই গুলি ছো়ড়ার পরেই সেনা মোতায়েন করতে শুরু করে চিনা সেনা। সরকারি সূত্র বলছে , এই মুহূর্তে উভয় পক্ষের সেনা একে অপরের থেকে অল্প দূরত্বে রয়েছে৷ ভারতীয় সেনা তাদের কর্মকাণ্ডে গভীর নজর রাখছে৷ জানা গিয়েছে চিনের তরফে অন্তত ২০ থেকে ৩০টি ট্যাঙ্ক মোতায়েন করা হয়েছে প্যাংগং এলাকায়।

যুদ্ধের জন্যে তৈরি হচ্ছে চিন
জানা গিয়েছে চিন প্যাংগং এলাকায় নিজেদের ৫ থেকে ৬ হাজার সৈন্য মোতায়েন করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তুলেছে। ভারতীয় সেনার অধীনে থাকা গুরুত্বপূর্ণ চূড়াগুলি দখলের উদ্দেশ্যেই সেখানে সৈন্য বহর বাড়াচ্ছে পিএলএ। তাছাড়া ট্যাঙ্ক স্কোয়াড্রনও মোতায়েন করেছে চিন। পুরদস্তুর যুদ্ধের জন্যে তৈরি হচ্ছে তারা।

জয়শঙ্কর ও ওয়াংয়ের বৈঠকের মূল বিষয়
সূত্র অনুযায়ী, এই উত্তেজনার আবহে জয়শঙ্কর ও ওয়াংয়ের বৈঠকের মূল বিষয় ছিল লাদাখ। লাদাখ সীমান্তে পরিস্থিতি শান্ত করা এবং প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় সেনা সরানোর বিষয়েই আলোচনা হয়েছে। লাদাখ সংঘর্ষ আবহে এই প্রথম মুখোমুখি জয়শঙ্কর এবং ওয়াং। জয়শঙ্কর নাকি চিনা মন্ত্রীকে সরাসরি প্রশ্ন করেন যে কেন এখনও সেখানে সেনা বৃদ্ধি করছে চিন। শুধু তাই না, তিনি চিনা সেনার পক্ষ থেকে অকারণ উস্কানির বিষয়টিও উত্থাপন করেন। তবে চিনের তরফে এই বিষয়ে কী জবাব দেওয়া হয়েছে তা জানা যায়নি।

প্রেস বিবৃতিতে যা বলা হয়
ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের পর একটি প্রেস বিবৃতি দেওয়া হয়। তাতে জানানো হয়, রাশিয়া-ভারত-চিনের ত্রিপাক্ষিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বৈঠকে। আন্তর্জাতিক ও জাতীয় স্তরে প্রতিটি দেশের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেছেন বিদেশমন্ত্রীরা। একইসঙ্গে বিশ্বাসযোগ্যতা, বন্ধুত্ব প্রসঙ্গও উঠে এসেছে বৈঠকে। তবে মূল ফোকাস যে ছিল লাদাখের উপরই, তা বলাই বাহুল্য।












Click it and Unblock the Notifications