'১৯৭১ এর কথা মনে আছে? বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে উত্তেজনা শীঘ্রই কমানো জরুরি'! কেন এমন বললেন রুশ রাষ্ট্রদূত? জানুন
বাংলাদেশে চলতে থাকা অস্থিরতার মাঝেই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে এবার মুখ খুলল রাশিয়া। ঢাকায় বসে রুশ রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার গ্রিগোরিয়েভিচ খোজিন (Alexander Grigoryevich Khozin) স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন যে, ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে উত্তেজনা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কমানো জরুরি। তাঁর মতে, "দুই প্রতিবেশী দেশের স্থিতিশীল সম্পর্ক শুধু দু'দেশের জন্য নয়, গোটা দক্ষিণ এশিয়ার শান্তির জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।"

ঢাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রুশ রাষ্ট্রদূত বলেন যে, "উত্তেজনা যত তাড়াতাড়ি কমানো সম্ভব হবে, ততই ভালো। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সেই সময় রাশিয়াও পাশে ছিল। ভারত, বাংলাদেশ এবং রাশিয়া, এই তিন দেশ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছে।" তাঁর বক্তব্যে একথা স্পষ্ট যে, ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা মাথায় রেখেই এই সতর্কবার্তা।
খোজিন আরও জানান যে, রাশিয়া কোনওভাবেই ভারত এবং বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চায় না। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে উত্তেজনা যেন আর না বাড়ে, সেটাই মস্কোর কামনা। কারণ, বাংলাদেশ এই মুহূর্তে বহু সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে জনতার বিক্ষোভ ও হিংসা, আবার অন্যদিকে সংখ্যালঘুদের প্রতিবাদ। তার উপর আবার ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখ জাতীয় নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা।
বাংলাদেশে কেন বাড়ছে অস্থিরতা?
গত সপ্তাহেই গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন শরীফ ওসমান হাদি। তিনি হলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে হওয়া গণ আন্দোলনের এবং বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের অন্যতম মুখপাত্র ও প্রধান মুখ। ১২ই ফেব্রিয়ারি ঢাকা-8 কেন্দ্র থেকে তিনি বাংলাদেশ নির্বাচনে নির্দল প্রার্থী হিসাবেও লড়তেন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঠিক ৬ দিন পরই সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে তিনি মৃত্যু বরণ করলেন। জানা গিয়েছে যে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে যে বিদ্রোহ হয়েছিল, তাতে শরীফ ওসমান হাদির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। সেই আন্দোলন হওয়ার পরই শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটেছিল। আসন্ন নতুন বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে রয়েছে সাধারণ নির্বাচন। হাদি আসন্ন সেই নির্বাচনে লড়াইয়ের প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন। গত বছর শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর 'ইনকিলাব মঞ্চ' নামে যে সংগঠনটি গড়ে ওঠে, তার সঙ্গে হাদির নাম জড়িত ছিল। সেই সংগঠনই এখন রাস্তায় নেমে আন্দোলন চালাচ্ছে, যেখানে শেখ হাসিনা এবং ভারতের বিরুদ্ধেও স্লোগান উঠছে।
এই বিক্ষোভের মধ্যেই গত সপ্তাহে চট্টগ্রামে একদল উত্তেজিত বিক্ষোভকারী ভারতের সহকারী হাইকমিশনে হামলার চেষ্টা চালায়। এরপরই সেখানে ভিসা পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় ভারত। বাংলাদেশের ইসলামপন্থী গোষ্ঠী ও হাসিনা-বিরোধীদের একাংশের অভিযোগ যে, তাঁর সরকার নাকি ভারতের প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরশীল ছিল।
সংখ্যালঘু নির্যাতন ও সংবাদমাধ্যমে হামলা
চলতি অস্থিরতার মধ্যেই ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলায় এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে খুন করেছে উত্তেজিত জনতা। নিহতের নাম দীপু চন্দ্র দাস, বয়স ৩০। অভিযোগ উঠেছিল যে, তিনি ইসলাম ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর কথা বলেছিলেন। মৃত্যুর পর তাঁর দেহটিকে আগুন লাগানো হয় বলেও খবর।
পাশাপাশি, হাদির মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই বিক্ষোভ শুরু হয় বাংলাদেশে। রেহাই পাননি সেখানকার সাংবাদিকেরাও। বাংলাদেশের দুই সংবাদপত্র অফিসে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। 'প্রথম আলো' এবং 'দ্য ডেলি স্টার'-এর দফতরে প্রথমে ভাঙচুর হয় তারপরেই ধরিয়ে দেওয়া হয় আগুন। তবে, কেন এই সংবাদমাধ্যমগুলিকে টার্গেট করা হয়েছিল, তা এখনও স্পষ্ট হয়নি।
সব মিলিয়ে, বাংলাদেশের ভিতরের অশান্তি এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেই রাশিয়ার বার্তা স্পষ্ট। উত্তেজনা কমানোই এখন সবচেয়ে জরুরি, নাহলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে ইঙ্গিত দিচ্ছে আন্তর্জাতিক মহল।












Click it and Unblock the Notifications