ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস নিয়ে সতর্কতা জারি রাশিয়ার, নতুন এই ভাইরাস কতটা ঝুঁকিপূর্ণ জেনে নিন এক নজরে
ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস নিয়ে সতর্কতা জারি রাশিয়ার, নতুন এই ভাইরাস কতটা ঝুঁকিপূর্ণ জেনে নিন এক নজরে
করোনা ভাইরাসের আতঙ্কের পাশাপাশি আরও একটি রোগের সতর্কতা জারি করা হল রাশিয়ার পক্ষ থেকে। সোমবার এই দেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের (ডব্লিউএনভি) সম্ভাব্য বৃদ্ধি শরৎকালে দেখা দিতে পারে কারণ সেই সময় হাল্কা তাপমাত্রা এবং ভারী বৃষ্টিপাত মশার জন্য অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করে।
রাশিয়ার কনজিউমার হেলথ ওয়াচডগ রোসপোট্রেবনাডজোর বলেন, 'এ বছর অনুকূল জলবায়ু, প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত একটি উষ্ণ এবং দীর্ঘ শরৎ দিতে পারে এবং শরৎকালেই উচ্চ সংখ্যায় এই ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’ প্রসঙ্গত, রাশিয়ায় ৮০ শতাংশ ওয়েস্ট নাইল জ্বরের কেস রেকর্ড করা হয়েছে।

ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস কী
ডব্লিউএনভি একটি সংক্রমক রোগ যা সংক্রামিত মশার দ্বারা ছড়ায়। সংক্রমিত কিউলেক্স মশার কামড়ে এটা প্রথমে পাখির মধ্যে ছড়ায় এবং তা পাখির মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। এর কারণে মানুষের জটিল স্নায়বিক রোগ হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে যে ভাইরাসটি প্রায় ২০ শতাংশ ক্ষেত্রে ওয়েস্ট নাইল জ্বরের সৃষ্টি করে। এটি জিকা, ডেঙ্গু এবং হলুদ জ্বরের ভাইরাসের সঙ্গে সম্পর্কিত।

ডব্লিউএনভি–এর উপসর্গ কী
ডব্লিউএনভিতে যাঁরা আক্রান্ত হন তাঁদের কোনও উপসর্গ থাকে না বা হাল্কা উপসর্গ হয়। উপসর্গের মধ্যে জ্বর, মাথা ব্যাথা, শরীরে বেদনা, ত্বকে র্যাশ বের হওয়া এবং গলা ব্যাথা অন্যতম। কিছুদিন বা কয়েক সপ্তাহ এই উপসর্গগুলি দেখা দেয় এবং সাধারণত তা নিজে থেকেই চলে যায়।

এই ভাইরাসের প্রকৃত উৎস কোথায়
হু-এর মতে, ১৯৩৭ সালে উগান্ডার ওয়েস্ট নাইল জেলায় এক মহিলার মধ্যে প্রথম এই রোগ দেখা দেয়। এরপর ১৯৫৩ সালে নাইল বদ্বীপ প্রদেশে একটি পাখিদের (কাক ও কোলাম্বিফর্মেস) মধ্যে এই রোগ সনাক্ত হয়। ১৯৯৭ সালের আগে, ডব্লিউএনভি পাখিদের জন্য রোগজীবাণু হিসেবে বিবেচিত ছিল না, কিন্তু সেই সময় ইসরায়েলে আরও বেশি মারাত্মক স্ট্রেন বিভিন্ন পাখির প্রজাতির মৃত্যুর কারণে এনসেফালাইটিস এবং পক্ষাঘাতের লক্ষণ উপস্থাপন করেছিল। হু বলেছে যে ডব্লিউএনভির কারণে মানুষের সংক্রমণ অনেক দেশে ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে রিপোর্ট করা হয়েছে।

কখন এই ভাইরাস বিপদজ্জনক
যদি ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস মস্তিষ্কে প্রবেশ করে, তবে তা জীবনের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এটি মস্তিষ্কের প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে, যাকে বলা হয় এনসেফালাইটিস, অথবা মস্তিষ্ক এবং মেরুদণ্ডকে ঘিরে থাকা টিস্যুর প্রদাহ, যাকে বলা হয় মেনিনজাইটিস।

কীভাবে সনাক্ত করা হয়
শারীরিক পরীক্ষা, ব্যক্তির পূর্ব ইতিহাস এবং ল্যাবোরেটরিতে এই ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা করে তা সনাক্ত করা হয়।

কাদের ঝুঁকি বেশি
বয়স্ক মানুষ, শিশু এবং যাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তাঁদের ঝুঁকি রয়েছে।

কীভাবে নিরাময় হবেন
এই ভাইরাসের কোনও নির্দিষ্ট ভ্যাকসিন বা চিকৎসা নেই। মশার কামড় থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখাই ডব্লিউএনভি থেকে সুরক্ষিত থাকার সেরা উপায়।












Click it and Unblock the Notifications