ইউক্রেনে একের পর বিমান হানা-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ, চেরনোবিল পরমাণু কেন্দ্র দখল রাশিয়ার
ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে রাশিয়া। বৃহস্পতিবার রাত থেকেই ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের আকাশে উড়ছে যুদ্ধ বিমান। সেই বিমান হানায় মুহুর্মুহু বোমা পড়ছে। ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হচ্ছে।
ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে রাশিয়া। বৃহস্পতিবার রাত থেকেই ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের আকাশে উড়ছে যুদ্ধ বিমান। সেই বিমান হানায় মুহুর্মুহু বোমা পড়ছে। ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হচ্ছে। এভাবেই ইউক্রেনের চেরনোবিল পারমাণবিক কেন্দ্র দখল করে নিয়েছে রাশিয়া। যার ফলে পরমাণু যুদ্ধের আশঙ্কাও থেকে যাচ্ছে।

শুক্রবার সকাল থেকেই বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠছে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ। বিভিন্ন এলাকা থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যাচ্ছে। ভয়ে ঘর ছাড়ছেন বহু মানুষ। রাশিয়ার বিমান হানায় বহু ঘর-বাড়ি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। এর মধ্যেই মানুষের মনে ভিড় করেছে পারমাণবিক যুদ্ধে আশঙ্কা। কেননা ১৯৮৬ সালের সেই ঘটনা এখনও ইউক্রেনবাসীর মনে টাটকা।
১৯৮৬ সালের ২৬ এপ্রিল ঘটেছিল সেই রুদ্ধশ্বাস ঘটনা। বর্তমানে রাশিয়া তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্গত ইউক্রেনের চেরনোবিল শহরে ঘটেছিল পারমাণিবক দুর্ঘটনা। বিশ্বে সেই ঘটনার স্মৃতি আজও টাটকা। সই ঘটনায় ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছিল। বিস্ফোরণের ফলে সৃষ্ট তেজস্ক্রিয়তার কবলে পড়েছিলেন লক্ষ লক্ষ মানুষ।
সেই পারমাণবিক দুর্ঘটনার ফলে রাতারাতি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল ইউক্রেমের চেরনোবিল শহর। সেই চেরনোবিলই দখল করে নিয়েছে রাশিয়া। চেরনোবিলের পারমাণবিক কেন্দ্রও স্বভাবত ফরে রাশিয়ার দখলে চলে এসেছে। সবাই চাইছেন, ৩৫ বছর আগেকার সেই ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না হয়। কিন্তু এই যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানিয়েছেন, আমাদের সেনারা রাশিয়াকে জবাব দিচ্ছে। নিজের জীবন উৎসর্গ করেও দেশকে রক্ষা করতে তাঁরা মরিয়াও। তাঁরা চাইছে ১৯৮৬ সালের সেই ভয়ঙ্কর ঘচনা যেন আর না ঘটে। জেলনস্কি মনে করেন, এটা শুধু ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঘোষণা নয়, এটা গোটা ইউরোপের বিরুদ্ধে যুদ্ধ।
জেলেনস্কি এই বার্তা দেওয়ার সময়ই চেরনোবিল আক্রমণ করে রাশিয়া। এবং তা দখল করে নেয়। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের অফিস থেকেই রাশিয়ার চেরনোবিল দখলের কথা স্বীকার করে নেন। ফলে উদ্বেগ আরও বেড়ে গিয়েছে পরমাণু যুদ্ধ নিয়ে। এই আশঙ্কা আরও বেড়ে গিয়েছে ফ্রান্সের বিদেশমন্ত্রীর কথায়। তিনি বলেন, রাশিয়া যদি পরমাণু যুদ্ধের কথা ভাবে, তবে যেন মনে রাখে ন্যাটোর হাতেও রয়েছে পারমাণবিক অস্ত্র।
বৃহস্পতিবার রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে দেয়। রাশিয়ার সেনা ইউক্রেনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারপর ইউক্রেনের বিভিন্ন জায়গায় বিমান হানা হয় এবং ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। কিয়েভ ও খারকভের বিমানঘাঁটি দখল করে নেয় রাশিয়া। এখন পর্যন্ত ১৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। গোটা বিশ্বের নজর এখন যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের দিকে।












Click it and Unblock the Notifications