রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ: নো-ফ্লাই জোন আসলে কী, কেন ন্যাটো এটি মানতে চাইছে না

রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ: নো-ফ্লাই জোন আসলে কী, কেন ন্যাটো এটি মানতে চাইছে না

রাশিয়া ইউক্রেনের যুদ্ধ এখন অব্যাহত। দিন যত গড়াচ্ছে জোরালে হচ্ছে পরিস্থিতি। ৭৪ শতাংশ মানুষ নো-ফ্লাই জোনকে সমর্থন করেন। এটি জানা গিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক রয়টার্সের সমীক্ষা থেকে। রুশ বাহিনীর আক্রমণ থেকে বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষা করার জন্য জেলেনস্কি সরকার দেশে নো-ফ্লাই জোন কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন। ১.৭ মিলিয়নেরও বেশি লোক ইউক্রেন ছেড়ে অন্য দেশে আশ্রয় নিয়েছে।

কে ‘নো-ফ্লাই জোন’এর আহ্বান জানান

কে ‘নো-ফ্লাই জোন’এর আহ্বান জানান

যদিও ইউক্রেনের আকাশে 'নো-ফ্লাই জোন' জারি করতে ন্যাটো ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। তবে তা নিয়ে কিন্তু রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন হুঙ্কারের সুরে জানিয়েছেন, ইউক্রেনের আকাশে যদি কোন দেশের বিমান চলাচলের নিষিদ্ধ করে তা কিন্তু যুদ্ধ মতই হবে।

 নো-ফ্লাই জোন কী

নো-ফ্লাই জোন কী

পিটার হ্যারিস কলোরাডো স্টেট ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সহযোগী অধ্যাপক জানান, একটি নির্ধারিত ভৌগলিক স্থান, যেখানে নির্দিষ্ট ধরণের বিমান যাতায়াত একেবারেই নিষিদ্ধ। পুরো ইউক্রেন জুরে আকাশে সামরিক বিমান, বিশেষ করে রুশ সামরিক বিমানের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা।

কী বলছেন জেলেনস্কি

কী বলছেন জেলেনস্কি

দেশের ওপর এই নো-ফ্লাই জোনের পক্ষ নিয়েছেন জেলেনস্কি সরকার। রুশ জেট যাতে ইউক্রেনের আকাশে না উড়তে পারে তারজন্য ন্যাটোর কাছে অনুরোধ করেছিল প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। কারণ হিসাবে তিনি ব্যাখা করে জানিয়েছেন এই পদক্ষেপ কিন্তু বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষা করবে। রবিবার তিনি বলেন,ইউক্রেনের আকাশ পথ বন্ধ করুন। রুশ ক্ষেপণাস্ত্র, যুদ্ধ বিমানের জন্য বন্ধ করার জন্য এটি বন্ধ করা দরকার।

নো-ফ্লাই জোনের বিরোধিতা

নো-ফ্লাই জোনের বিরোধিতা

রাশিয়াকে পারমাণবিক শক্তি বলে অভিহিত করেছেন বেশ কিছু কর্মকর্তাসহ বিশেষজ্ঞ। কিন্তু কেন? কারণ, যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেনের উপর ন্যাটো-আরোপিত নো-ফ্লাই জোনের বিরোধিতা করার জন্য।

আগে কোথায় কোথায় নো-ফ্লাই জোন বলবৎ করা হয়েছিল?

আগে কোথায় কোথায় নো-ফ্লাই জোন বলবৎ করা হয়েছিল?

ইরাক: ১৯৯২ সাল থেকে ২০০৩ ইরাকে মার্কিন হামলার আগে পর্যন্ত নো-ফ্লাই জোন ছিল। সময়টা শুরু হয় প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধের পর। সেই সময় রাষ্ট্রপতির বিমান হামলা থেকে শুরু করে বিদ্রোহী অঞ্চলগুলো রক্ষা করার জন্য দক্ষিণ ও উত্তর ইরাকের একটি নো-ফ্লাই জোন ঘোষণা ক রা হয়েছিল।

বসনিয়া: সালটা ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৫ সালে ন্যাটো বিমান বাহিনী বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার প্রজাতন্ত্রে উপর নো-ফ্লাই জোন আরোপ করেছিলেন। কারণ স্বরূপ দেখা গিয়েছে সার্ব বিমান বাহিনীর হামলা থেকে বসনিয়া দেশকে রক্ষা করার জন্য। ১৯৯৩ সালে বসনিয়া আকাশ সীমা রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনী সমস্ত ব্যবস্থা জন্য অনুমোদন পাশ করার ব্যবস্থা করেছিল ন্যাটো।

লিবিয়া: সালটা ২০১১ সেই সময় দেশের দীর্ঘদিনের নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান হওয়ার পর নো-ফ্লাই জোন করার আহ্বান জানানো হয়েছিল। যদিও তখনও নো- ফ্লাই জোন আরোপ করা হয়েছিল। ন্যাটোর হস্তক্ষেপে গাদ্দাফিকে ক্ষমতাচ্যূত করার জন্য সক্রিয় হয়ে ওঠে সকল নাগরিক। এই ঘটনার কয়েক মাস পর বিরোধী যোদ্ধাদের হাতে বন্দী ও নিহত হন গাদ্দাফি।

মানবতাবাদী নো-ফ্লাই জোন আরোপ করা হলে ইউক্রেনের বেসামরিক নাগরিকদের জন্য ভালো হবে।

 হ্যারিস কী বললেন

হ্যারিস কী বললেন

হ্যারিস বলেন, কোনও ভুল পথ বেছে নিলেই বা ভুল কোনও গণনা করলেই অনেকটাই বিপদের সম্মুখীন হতে হবে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে। তিনি আরও বলেন, ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে সমযোতা থাকত তাহলে যুদ্ধ কেন্দ্র থেকে বেসাময়িক নাগরিকদের পালানোর জন্য ন্যাটো বা অন্য দেশ প্রয়োজন হত।

কী বলছেন বাইডেন সরকার

কী বলছেন বাইডেন সরকার

ইউক্রেন ওপর নো-ফ্লাই জোন কার্যকর করার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তাঁর সহযোগীরা এটি প্রত্যাখান করছে।

 হোয়াইট হাউসের মুখপাত্রের মত কী

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্রের মত কী

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জেন সাকি বলেন, নো-ফ্লাই জোনের প্রয়োজন এটি করলে বেসাময়িক নাগরিকদের রক্ষা করা সম্ভব হবে।

এন্টনি ব্লিঙ্কেন বলেন

এন্টনি ব্লিঙ্কেন বলেন

সেক্রেটারি অফ স্টেট এন্টনি ব্লিঙ্কেন বলেন, রাশিয়া এটি সরাসরি যুদ্ধে নেমেছে। কিন্তু আমরা সরাসরি জড়াবো না। এটি একটি যুদ্ধে ঝুঁকি যা ইউক্রেন থেকে ইউরোপ পর্যন্ত বিস্তত হতে পারে।

লিন্ডা থমাস গ্রিনফিল্ড জানান

লিন্ডা থমাস গ্রিনফিল্ড জানান

জাতিসংঘের দূত লিন্ডা থমাস গ্রিনফিল্ড বলেন, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন খুব স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে আমেরিকা যুদ্ধে জেনে প্রস্তুত। কিন্তু আমেরিকার সেনাদের স্থলে বা আকাশে রাখা যাবে না।

 কী জানাচ্ছেন ন্যাটো

কী জানাচ্ছেন ন্যাটো

নো-ফ্লাই জোন কার্যকর করা হলে সামগ্রিক জোটকে রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে ফেলবে। আমরা এই সংঘাতের অংশ নই। ন্যাটো মহাসচিব জেনস স্টলটেনবার্গ বলেন, এটি করলে মানুষের আরও দুর্ভোগের শেষ থাকবে না।

কী জানাচ্ছে রাশিয়া

কী জানাচ্ছে রাশিয়া

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লামাদিমির পুতিন ইউক্রেনের উপর নো-ফ্লাই জোন আরোপ করা হলে সেটি যুদ্ধে সমান হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। তখন যুদ্ধে আরও ভয়াবহ হতে পারে।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+