Russia-Ukraine Crisis: 'বিতর্কিত' ইতিহাস ইউক্রেনের! দেশের অভ্যন্তরে রয়েছে একাধিক সমস্যা
Russia-Ukraine Crisis: 'বিতর্কিত' ইতিহাস ইউক্রেনের! দেশের অভ্যন্তরে রয়েছে একাধিক সমস্যা
রাশিয়া (russia) ইউক্রেনের (Ukraine) ওপরে শর্ত আরোপ করেছে। অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, তাঁরা শেষ পর্যন্ত লড়াই করবেন। সেই পরিস্থিতিতে দুদেশের যুদ্ধ আরও বেশ কয়েকদিন চলবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু ইউক্রেনকে ঘিরে বেশ কিছু বিতর্কও রয়েছে।

বিতর্কিত ইতিহাস
ইউক্রেনের অর্থ হল প্রান্ত। বর্তমান সময়ে রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লেও, উভয়েরই শিকড় রয়েছে মধ্যযুগীয় রাষ্ট্র কিয়েভান রুশে। যা কৃষ্ণসাগর থেকে বাল্টিকসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। গত বছর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যে রচনা তৈরি করেছিলেন, তা তিনি ছত্রে ছত্রে বোঝাতে চেয়েছেন, রাশিয়ান এবং ইউক্রেনিয়ানরা একই।
কিন্তু ইউক্রেনিয়ানদের দাবি তাদের নিজেদের ভাষা রয়েছে। আর এখনকার ইউক্রেন পোলিশ-লিথুয়ানিয়ান কমনওয়েলথের অংশ। আর ১৮ শতকের শেষ পর্যন্ত তাকা ককেশাস এবং ক্রিমিয়ান টাটার্সদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিল। পরবর্তী সময়ে যা জার সাম্রাজের অংশ হয়ে ওঠে। এর একটা অংশ পশ্চিম দিকে অস্ট্রো হাঙ্গেরিয়ান সাম্রাজ্যের অংশ ছিল।

স্ট্যালিনের সময়ে দুর্ভিক্ষ
জারদের থেকে ইউক্রেনের ক্ষমতা লেনিন হয়ে স্ট্যালিনের হাতে যায়। সোভিয়েট ইউয়নের অংশ হয়ে যায় এটি। অভিযোগ স্ট্যালিনের নীতির কারণে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। যা হলোডোমর নামে পরিচিত। সেই সময়ে প্রায় ৫০ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
তবে কিয়েভফ এবং মস্কোর মধ্যে উত্তেজনা ১৯৯১ সালে সোভিয়েট ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই। সেই সময় ইউক্রেনের অধিকাংশ জনগণ স্বাধীনতার পক্ষেই মত দেন। ২০১৪ সালে পশ্চিমী বিশ্বের মদতে রাশিয়ার সমর্থিত ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচ গদিচ্যুত হন। সেই সময় মস্কো ক্রিমিয়া দখল করে নেয় এবং পূর্ব দিকে থাকা ইউক্রেনের অংশে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সরাসরি মদত দিতে শুরু করে। সেই সময় প্রায় ১৪ হাজার মানুষের প্রাণ যায়।

ইউক্রেনে অর্থনৈতিক সমস্যা
২০১৪ সালে রাশিয়ার হাতে ক্রিমিয়া হারানো এবং শিল্প সমৃদ্ধ ডনবাস হারানোর ঘটনা ইউক্রেনের অর্থনীতিতেও ধাক্কা দেয়। জিডিপি প্রায় ছয় শতাংশের মতো রড়ে যা। এর পরের বছরে তা একদশমাংশ কমে। অন্যদিকে মুদ্রাস্ফীতিও প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়ে যায়। পরে অবশ্য অর্থনীতির কিছু পুনরুদ্ধার করা গেলেও সেখানকার প্রায় ৪ কোটি ৫০ লক্ষ মানুষ ইউরোপের মধ্যে তুলনামূলক গরিব। তাঁদের গড় মাসিক বেতন ৬১৫ ডলার, যা ৫৫০ ইউরোর সমান।
ইউক্রেন অবশ্য রাশিয়া যে গ্যাস ইউরোপে সরবরাহ করে, তার ট্রানজিট ফির ওপরে কিছুটা নির্ভর করে থাকে। তবে রাশিয়া তাও এড়িয়ে অন্য উপায় বের করে ফেলেছে। ২০০৬ এবং ২০০৯ সালে মস্কো শীতের সময় ইউক্রেনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। যার জেরে ইউরোপেও গ্যাসের ঘাটতি দেখা দেয়। সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনে দুর্নীতির প্রভাবও দেখা গিয়েছে।

চেরনোবিল নিয়েও সমস্যায়
রাশিয়া ইউক্রেনে হানা দেওয়ার প্রথমেই বিনা বাধায় চেরনোবিল পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি দখল করেছে। কিন্তু এই চেরনোবিলেই ১৯৮৬ সালের ২৬ এপ্রিল বিশ্বের সব থেকে বড় পারমানবিক দুর্ঘটনা ঘটেছিল। হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। তবে সঠিক সংখ্যাট এখনও পর্যন্ত সামনে আসেনি। তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন বিষয়টিতে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল বলে অভিযোগ।
সেই সময় ৩০ কিমি ব্যাসার্ধের মধ্যে থাকায় প্রায় সাড়ে তিনলক্ষ মানুষকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেই জায়গাটি এখনও কোনও মানুষের বসবাস নেই। কিছু কিছু মানুষ অবশ্য সেখানে ফিরে গিয়েছেন সররি নির্দেশি থাকা সত্ত্বেও। তবে বিশেষজ্ঞরা বলে থাকে ২৪ হাজার বছর পরে এই এলাকা সাধারণ মানুষের বসবাসের উপযুক্ত হয়ে উঠবে। বর্তমানে চেরনোবিল অবশ্য পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র বিন্দু হয়ে উঠেছে।












Click it and Unblock the Notifications