যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইউক্রেনে আটকে ২০ হাজারের বেশি ভারতীয় পড়ুয়া, আতঙ্কে দিন কাটছে অভিভাবকদের
যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইউক্রেনে আটকে ২০ হাজারের বেশি ভারতীয় পড়ুয়া, আতঙ্কে দিন কাটছে অভিভাবকদের
বৃহস্পতিবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুদ্ধ ঘোষণা করেছে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে। তারপর থেকেই ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকা থেকে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠছে গোটা দেশ। ইউক্রেন বলছে তাদের অন্তত ৪০জন সৈন্য মারা গেছে এবং তিরিশ জনের বেশি বেসামরিক মানুষ মারা গেছে। অন্যদিকে, বিদেশ মন্ত্রকের থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী প্রায় ২০ হাজার ভারতীয় পড়ুয়ার অভিভাবকেরা মরিয়া হয়ে উঠেছেন এবং তাঁরা ক্রমাগত তাঁদের সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন, যারা ওই ইউক্রেনে যুদ্ধের সময় আটকে পড়েছেন।

আশঙ্কায় দিন কাটছে মা–বাবার
পাঞ্জাবের লুধিয়ানার স্কুল শিক্ষিকা সুকন্যা ভাটিয়া ইউক্রেনের সাম্প্রতিক ঘটনা দেখে বেশ আতঙ্কে রয়েছেন, কারণ তাঁর মেয়ে ভানবি ভাটিয়া, যিনি তৃতীয় বর্ষের এমবিবিএস-এর ছাত্রী, তিনি ওখানে আটকে রয়েছেন। ভিডিও কলের মাধ্যমে তিনি অনবরত তাঁর মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন। ভাটিয়া বলেন, ‘আমরা জানি না আমাদের মেয়ের সঙ্গে কি হচ্ছে।' ইউক্রেনের সাম্প্রতিক খবরগুলি টিভিতে দেখে চলেছেন ওই স্কুল শিক্ষিকা। তিনি জানিয়েছেন যে ইউক্রেন সরকার জরুরি পরিস্থিতির ঘোষণা করেছেন এবং পড়ুয়াদের সরিয়ে নিয়ে যেতে বলেছে, কিন্তু পড়ুয়ারা কীভাবে দেশ ছাড়বে সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনও নির্দেশ দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, ‘ভাবনির ২৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের জন্য ওই দেশ ছাড়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই রাশিয়া হামলা চালিয়ে দিল।' এখন ইউক্রেন থেকে সব বিমান বাতিল করে দেওয়া হয়েছে এবং বিদেশ মন্ত্রক বিকল্প রুট খুঁজছেন পড়ুয়াদের সরিয়ে আনার জন্য।

উদ্বেগ বাড়ছে অভিভাবকদের
ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগে টার্নোপোল ন্যাশনাল মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া ভানবি ভাটিয়া তাঁর অভিভাবকদের জানিয়েছেন যে ইউক্রেনের বাসিন্দারা খাবার মজুত করে রাখছেন এবং অনেকেই কাছাকাছি মেট্রো স্টেশনে গিয়ে আশ্রয় নিচ্ছেন সুরক্ষার জন্য। ‘শহরে জলের ঘাটতি দেখা গিয়েছে।' জানিয়েছেন ভানবি। ভানবির বাবা অশ্বিনি জানিয়েছেন যে তাঁরা তাঁদের মেয়েকে ইউক্রেনে পড়াতে পাঠানোর জন্য ভাগ্যকে বাজিতে রেখেছেন। তিনি বলেন, ‘এখন সে তার পড়াশোনার অর্ধেক রাস্তায় রয়েছে এবং এখনই ইউক্রেনে অশান্তি শুরু হল। প্রথমত আমি আমার মেয়ের সুরক্ষা নিয়ে চিন্তিত এবং দ্বিতীয়ত আমার উদ্বেগ বাড়ছে তাঁর কেরিয়ারের কথা চিন্তা করে এবং স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসার আগে তাকে পড়াশোনা থেকে দূরে থাকতে হতে পারে।'

ডাক্তারি পড়ুয়ারা আটকে ইউক্রেনে
বিদিশার সৃষ্টি উইলসন, যিনি এখনও কিয়েভে রয়েছেন, তিনি ভিডিও কলের মাধ্যমে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে তিনি গত দু'হপ্তা ধরে ভারতে ফেরার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘গতকাল রাতে, আমরা জাতীয় জরুরি অবস্থা আরোপের কথা জানতে পারি। আমরা সুরক্ষিত জায়গাতেই রয়েছি কিন্তু আমরা বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পাচ্ছি, পুলিশের সাইরেন শুনছি এবং অ্যাম্বুলেন্সের ঘনঘন যাতায়াত দেখতে পাচ্ছি।' কলকাতার ২১ বছরের অনিন্দ্য শেখর ভদ্র বলেন, ‘যুদ্ধ পরিস্থিতি ভিনশিয়াতে', যেখানে তিনি এমবিবিএস কোর্সের তৃতীয় বর্ষের পড়াশোনা করছেন। তিনি বলেন, ‘আজকে সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ খুব জোরে বিস্ফোরণ হয়। রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা এবং এটিএমে লম্বা লাইন এবং শপিং মলে মানুষের ভিড় জিনিসপত্র মজুত করে রাখার। আমার নিজেরই দুধ আর চিনি কিনতে ৪৫ মিনিট সময় লেগেছে কাছাকাছি একটি দোকান থেকে।' ন্যাশনাল পিরোগভ মেমোরিয়াল মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ভদ্র ভিনশিয়াতে হস্টেলে থাকেন, যা কিয়েভের দক্ষিণপশ্চিম দিকে। তিনি বলেন, ‘অনলাইন ক্লাসের জন্য আমি থেকে যাই এখানে এবং জুন মাসে পরীক্ষা রয়েছে। কোভিড-১৯ মহামারির কামে আমি ইতিমধ্যেই কয়েকটা মাস হারিয়েছি।' তিনি জানিয়েছেন এই হামলার খবর সামনে আসার পর থেকেই তাঁর অভিভাবক প্রত্যেক সময় তাঁকে কল করছেন এবং ফিরে আসার জন্য বলছেন। কিন্তু ভদ্র বলেন, ‘বিমানবন্দরগুলি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমি আটকে পড়েছি।'

বুধবারই ফিরে আসেন ভোপালের বাসিন্দা
তবে এঁদের থেকে কিছুটা ভাগ্যবান ভোপালের বাসিন্দা হর্ষিত শর্মা। তিনি বুধবারই ইউক্রেন থেকে দেশে ফিরে এসেছেন। এর ঠিক একদিন পরই যুদ্ধ ঘোষণা করেছে রাশিয়া। তিনি বলেন, ‘ভিনিতশিয়া ন্যাশনাল পিরোগভ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের পড়ুয়া আমি। আমি যখন বিমানে উঠলাম তখন আবাসিক এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। উত্তেজনা ছিল সীমান্ত এলাকাগুলিতে। কিন্তু আমার এক বন্ধ যিনি ইউক্রেনে আটকে রয়েছেন তিনি জানিয়েছেন যে জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা হয়েছে দেশে। যুদ্ধ ঘোষণার পর পুলিশ বাহিনীর গতিবিধি বেড়ে গিয়েছে।' তিনি এও জানিয়েছেন যে তাঁর বিশ্ববিদ্যালের একশো জন পড়ুয়া এখনও আটকে রয়েছেন।
প্রতীকী ছবি












Click it and Unblock the Notifications