ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসী পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ আকার নেবে, রাষ্ট্রপুঞ্জে বলল আমেরিকা
ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসী পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ আকার নেবে, রাষ্ট্রপুঞ্জে বলল আমেরিকা
রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণ নিয়ে রাষ্ট্রসংঘে কড়া অবস্থান আমেরিকার৷ পূর্ব ইউক্রেনে শান্তিরক্ষা অভিযানের ছু্তোয় রাশিয়ার সেনা মোতায়েন অবাস্তব এবং মস্কো থেকে বিচ্ছিন্ন অঞ্চলগুলিকে স্বাধীন হিসাবে স্বীকৃতি না দিয়ে যুদ্ধের অজুহাতের অংশ, বলে রাশিয়ার সমালোচনা করল আমেরিকা৷ সোমবার রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে মার্কিন রাষ্ট্রদূত লিন্ডা থমাস-গ্রিনফিল্ড ১৫ সদস্যের কাউন্সিলের একটি জরুরি বৈঠক করেন৷ সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর সেখানে তিনি বলেছেন, 'সমগ্র ইউক্রেন জুড়ে, ইউরোপ জুড়ে এবং বিশ্বজুড়ে রাশিয়ার এই পদক্ষেপের পরিণতি ভয়াবহ হবে।'

যে কোনও সময় ইউক্রেন আক্রমণের জন্য দেশটির সীমান্তে দেড় লক্ষ সৈন্য মোতায়েন করা হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই অভিযোগ করেছে৷ ঠিক এরপরই মস্কো এবং পশ্চিমের দেশগুলির মধ্যে উত্তেজনা চরমে উঠেছে। অন্যদিকে রাশিয়া পুরোপুরি অস্বীকার করেছে যে তারা ইউক্রেন আক্রমণ করতে চায় এবং এই ধরণের হিস্টিরিয়ার জন্য পশ্চিমের দেশগুলিকেই অভিযুক্ত করেছে তারা। রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে দুটি বিচ্ছিন্ন অঞ্চল, স্বঘোষিত ডোনেস্ক পিপলস রিপাবলিক এবং লুগানস্ক পিপলস রিপাবলিক-কে স্বাধীন হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। তবে এই ধরনের বেআইনি পদক্ষেপ বেআইনি শান্তি আলোচনাকে ধ্বংস করবে বলে জানিয়েছেন আমেরিকা৷
২০১৪ এবং ২০১৫ সালের চুক্তি ইউক্রেন এবং রাশিয়ার মধ্যে সংঘর্ষের অবসান ঘটিয়েছিল৷ কিন্তু পুতিন সেই চুক্তি মানছেন না এই অভিযোগ তুলে টমাস-গ্রিনফিল্ডের বক্তব্য, প্রেসিডেন্ট পুতিন মিনস্ক চুক্তিকে টুকরো টুকরো টুকরো টুকরো করে ফেলেছেন। আমরা স্পষ্ট বলছি যে আমরা বিশ্বাস করি না যে তিনি (পুতিন) এখানেই থামবেন। অন্য দিকে পূর্ব ইউক্রেনে ইতিমধ্যেই বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে রুশ সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। পুতিন সোমবার পূর্ব ইউক্রেনের ডনবাস অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখার জন্য রুশ বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপুঞ্জে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া নিরাপত্তা পরিষদকে বলেছেন, আমরা সবসময় যে কোনও সমস্যার কূটনৈতিক সমাধানের জন্য উন্মুক্ত রয়েছি। তবে, ডনবাসে নতুন করে রক্তপাত ঘটাত এমন কিছুতে আমরা অনুমতি দিতে পারি না৷
সোমবার রাশিয়া দুটি অঞ্চলকে স্বাধীনতার স্বীকৃতি দেওয়ার পর ইউক্রেন নিরাপত্তা পরিষদে বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন এবং ফ্রান্স সহ কাউন্সিলের আট সদস্য কিয়েভের এই অনুরোধকে সমর্থন করেছেন। শেষ কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এটি ছিল ইউক্রেনের বিষয়ে নিরাপত্তা পরিষদের তৃতীয় বৈঠক। ২০১৪ সালে রাশিয়া ইউক্রেনের ক্রিমিয়া অঞ্চল দখল করার পর থেকে ইউক্রেন সংকট নিয়ে আলোচনা করার জন্য নিরাপত্তা পরিষদে কয়েক ডজন বার বৈঠক হয়েছে৷ কিন্তু নিরাপত্তা পরিষদ রাশিয়ার বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ নিতে পারে না কারণ রাশিয়া, ফ্রান্স, ব্রিটেন, চীন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতোই ভেটো-পাওয়ারের অংশীদার৷ অন্যদিকে রাষ্ট্রসংঘের এক আধিকারিক সূত্রে খবর, রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বিশ্বাস করেন যে রাশিয়া পূর্ব ইউক্রেনকে স্বাধীন সত্তা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ইউক্রেনের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বকে লঙ্ঘন করেছে।












Click it and Unblock the Notifications