ইউক্রেন নিয়ে এবার একগুচ্ছ শর্ত দিল রাশিয়া, ট্রাম্প কি মানবেন?
ইউক্রেনের সঙ্গে মার্কিন সামরিক সহযোগিতা পুনরায় শুরু হয়েছে আমেরিকার। আর তারপরই রাশিয়ার অবাক করা ব্যবহার অনেকের মনেই অনেক প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। ইউক্রেনের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা পুনরায় শুরু হওয়ার একদিন পরই রাশিয়া জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে সরাসরি ফোনে কথা বলাটা প্রয়োজন। অন্তত বুধবার পর্যন্ত টেলিফোনিক কথাবার্তার বিষয়টিই সকলের নজরে ছিল। আর এবার কথা বলার আগে আরও শর্ত এল মস্কো থেকে।
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করতে এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের জন্য মার্কিন প্রশাসনের কাছে শর্তাবলির একটি তালিকা দিয়েছে মস্কো। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই ব্যক্তির বরাত দিয়ে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। তবে তালিকার নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি, এবং মস্কো কিয়েভের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসতে রাজি কি না, তাও স্পষ্ট নয়।

রাশিয়ার দাবিগুলো কী কী?
এর আগেও রাশিয়া যেসব শর্ত দিয়েছিল, নতুন তালিকায় সেগুলোর মিল রয়েছে -
১) কিয়েভকে ন্যাটোর সদস্যপদ না দেওয়ার নিশ্চয়তা
২) ইউক্রেনে বিদেশি সেনা মোতায়েন বন্ধ রাখা
৩) ক্রিমিয়া ও চারটি দখলকৃত অঞ্চলকে রাশিয়ার অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়া
৪) ন্যাটোর পূর্ব দিকে সম্প্রসারণ বন্ধ করা
এই দাবিগুলো ২০২১-২২ সালের আলোচনার সময়ও তুলেছিল রাশিয়া, কিন্তু সেগুলো গ্রহণ করা হয়নি তখন। তবে এবার টেলিফোনিক বার্তার আগে ফের একবার সেই দাবি গুলিই সামনে আনল রাশিয়া।
আপাতত, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অপেক্ষায় আছেন রাশিয়ার প্রতিক্রিয়ার জন্য। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, তিনি ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতিকে প্রথম ধাপে সমর্থন করবেন। তবে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যুদ্ধবিরতি হলে, রাশিয়া তা আরও শক্তি সঞ্চয়ের জন্য ব্যবহার করতে পারে।
মার্কিন কংগ্রেস ও ইউরোপীয় বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাশিয়ার উদ্দেশ্য শুধুমাত্র শান্তি আলোচনা নয়, বরং পশ্চিমা শক্তিগুলোর সঙ্গে কৌশলগত সুবিধা আদায়। রাশিয়া-মার্কিন সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা করছে দুই দেশই। তাই স্বাভাবিক ভাবেই ইউক্রেন নিয়ে মার্কিন-রাশিয়া দুটি পৃথক আলোচনায় লিপ্ত হয়েছে। একটি আলোচনা, মার্কিন-রাশিয়া সম্পর্ক পুনঃস্থাপন নিয়ে এবং অন্যটি, ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি চুক্তি নিয়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়ার দাবি কেবল ইউক্রেনের জন্য নয়, বরং পশ্চিমা দেশগুলির সামরিক শক্তিকে সীমিত করতে চায় তারা। মার্কিন গোয়েন্দারা মনে করেন, পুতিন যুদ্ধবিরতিকে কৌশলগত সুবিধার জন্য ব্যবহার করতে পারেন। কিছু ইউরোপীয় বিশ্লেষক বলছেন, আমেরিকার সাম্প্রতিক নীতিতে ইউরোপ আতঙ্কিত। তারা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো ইউক্রেনকে পরিত্যাগ করছে এবং রাশিয়ার সঙ্গে আপস করতে চাইছে।
রাশিয়ার দাবি নিয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে আলোচনা চলছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধবিরতি বা নতুন চুক্তি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশ্ব কূটনীতিতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হতে পারে বলেই এবার মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।












Click it and Unblock the Notifications