আমেরিকার পর দ্বিতীয় স্থানে রাশিয়া, দেশে করোনা সংক্রমণের সংখ্যা ২৩২,০০০ জন
আমেরিকার পর দ্বিতীয় স্থানে রাশিয়া, দেশে করোনা সংক্রমণের সংখ্যা ২৩২,০০০ জন
করোনার গ্রাসে গোটা বিশ্ব। চিনের উহান শহর থেকে এটি ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের সমস্ত দেশে। গোটা বিশ্বে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের তালিকায় আমেরিকার পরই এখন নাম রয়েছে রাশিয়ার। অন্তত গত ২৪ ঘণ্টার পরিসংখ্যান তাই বলছে। যদিও সবমিলিয়ে স্পেন এখনও দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। রাশিয়ায় কোভিড–১৯ নিশ্চিত কেসের সংখ্যা ২৪২,০০০। আর স্পেনে ২ লক্ষ ৬৯ হাজারের কিছু বেশি।

গত ২৪ ঘণ্টায় দশ হাজারের বেশি নতুন সংক্রমণ
গত ২৪ ঘণ্টায় এই দেশে নতুন সংক্রমণের সংখ্যা ১০,৮৯৯ জন। জানা গিয়েছে, পরপর দশদিন এই সংখ্যা বেড়েছে ১০ হাজারের বেশি। সংক্রমণদের মধ্যে নাম রয়েছে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুটিনির মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভের। দেশের প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিনের পর দ্বিতীয় কোনও সরকারি উচ্চপদস্থ আধিকারিকের করোনা পজিটিভ দেখা দিয়েছে।

লকডাউন সহজ করে দিয়েছে প্রেসিডেন্ট
খবর পাওয়া যাচ্ছে যে প্রেসিডেন্ট পুটিন দেশের লকডাউন সহজতর করে দিচ্ছেন। মঙ্গলবার থেকেই কারখানা ও নির্মাণ কাজের সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা কাজে ফিরেছেন, যদিও মিঃ পুটিন অঞ্চলগুলির ক্ষেত্রে স্থানীয় পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে বিধিনিষেধ নির্ধারণের স্বাধীনতা দিয়েছেন। রাশিয়ায় সর্বোচ্চ করোনা সংক্রমণের পাশাপাশি এখানে মৃত্যুর সংখ্যা মাত্র ২,১১৬। যা অনেকটাই কম অন্যান্য দেশের তুলনায়। সরকারিভাবে জানা গিয়েছে যে দেশে গণ টেস্টের কারণের জন্যই মৃত্যুর হার কম, যদিও অনেকেই মনে করছেন যে মৃত্যুর হার অনেক বেশি সরকারি তথ্যের চেয়ে। অন্যদিকে, সেন্ট পিটার্সবার্গ হাসপাতালের আইসিইউতে আচমকাই আগুন ধরে যায় এবং পাঁচজন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়। ১৫০ জনকে সরিয়ে আনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

মুখপাত্র সহ বেশ কিছু মন্ত্রীও করোনা সংক্রমিত
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম মঙ্গলবার রিপোর্ট করেছে, প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র, যিনি ২০১২ সাল থেকে এই পদে রয়েছেন, তাঁর করোনা পজিটিভ পাওয়া গিয়েছে এবং তিনি হাসপাতালে ভর্তি। মুখপাত্র বলেছেন, ‘হ্যাঁ আমি অসুস্থ। আমার চিকিৎসা চলছে।' দু'সপ্তাহ আগে প্রধানমন্ত্রী মিশুস্তিনের টেস্ট করা হয় এবং রিপোর্ট পজিটিভ আসে। এরপর সংস্কৃতি মন্ত্রী ওলগা লিউবিমোভাও এই ভাইরাসের শিকার হন এমনকি পূর্তমন্ত্রী ভ্লাদিমির ইয়াকুসেভ ও তাঁর অধীনস্ত এক আধিকারিকও করোনা সংক্রমিত হয়। পেসকভ জানিয়েছেন যে তিনি একমাসের বেশি সময় আগে শেষবারের মতো দেখা করেছিলেন প্রেসিডেন্ট পুটিনের সঙ্গে। রাজধানীর বাইরে পুটিন তাঁর বাসভবনে নিঃশব্দে কাজ চালিয়ে চলেছেন এবং জানা গিয়েছে যে তাঁর স্বাস্থ্য ভালো রয়েছে। সোমবারই টেলিভিশনে ভাষণের মাধ্যমে তিনি ছয় সপ্তাহের কর্মবিহীন দিবসের অবসান ঘটিয়েছেন। মঙ্গলবার সকাল থেকে রাশিয়া ফের কাজে ফিরেছে। দেশের ওপর থেকে যদিও এর প্রকোপ কম হয়নি, প্রেসিডেন্ট তাই সতর্ক করে বলেছেন ‘বিপদ এখন রয়েছে।' কিন্তু তিনি এর পাশাপাশি এও জানিয়েছেন যে দেশের অর্থনীতিকে শুরু করতে হবে তাই অঞ্চলগুলির ক্ষেত্রে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধ করতে যদি স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কড়া বিধিনিষেধ চালু করতে চায় তবে করতে পারে।

মস্কোতে বাড়ানো হয়েছে লকডাউন
রাশিয়ার রাজধানী মস্কো করোনার উৎসকেন্দ্র হিসাবে উঠে এসেছে। দেশের অধিকাংশ কেসই এই শহরে রয়েছে। গত সপ্তাহে মেয়র রাজধানীর লকডাউন বাড়িয়ে ৩১ মে পর্যন্ত করে দিয়েছিলেন। তবে নির্মাণ সংক্রান্ত ও শিল্পোর সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা কাজে ফিরেছেন। প্রত্যেককে মুখে মাস্ক ও গ্লাভস পরা আবশ্যক বলে জানানো হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। দেশের বাসিন্দারা এখনও প্রয়োজনীয় পণ্যের কেনাকাটা, হাঁটতে বা কুকুরকে সঙ্গে নিয়ে হাঁটতে বেড়োনো ছাড়া তাঁরা বাড়ির বাইরে বেড়োচ্ছেন না।












Click it and Unblock the Notifications