ইউক্রেন যুদ্ধে বড়সড় সেনা-ক্ষয়ের কথা স্বীকার করে নিল রাশিয়া
প্রায় দেড়মাসের বেশি সময় ধরে ইউক্রেনে লড়াই চালাচ্ছে রাশিয়া। প্রথমে অনেকেই ভেবেছিলেন পরমাণু শক্তিধর রাশিয়ার সামনে বড়জোর এক সপ্তাহ কিংবা দশদিন টিকবে ইউক্রেন প্রতিরক্ষা। তবে বাস্তব একেবারে অন্য কথা বলছে! এখনও সেয়ানে সেয়ানে লড়ে চালাছে ইউক্রেনীয় ফৌজ। এতদিন যুদ্ধ চলার ফলে যে রাশিয়ারও সমূহ ক্ষতি হচ্ছে এবার তা কার্যত মেনেই নিল মস্কো৷

রাশিয়ান মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ তাদের দেশের সেনায় ক্রমবর্ধ্বমান মৃত্যুর সংখ্যার জন্য শোকজ্ঞাপন করেছেন। এই ঘটনাকে ভীষণ দুঃখজনক বলে অভিহিত করেছেন তিনি৷ একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তাঁদের জন্য এই ঘটনা একেবারেই অপ্রীতিকর। ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া রাশিয়া সেনার বড় অংশ শহিদ হয়েছেন এই যুদ্ধে। ২৪ ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেন আক্রমণ করে রাশিয়া। তারপর থেকেই ন্যাটোর সু'নজরে থাকা দেশটিকে শ্মশানে পরিণত করেছে রুশ বাহিনী। ক্রমাগত শেলিং, বোমারু বিমানহানা থেকে শুরু করে সেনা মার্চ! ইউক্রেনের রাজধানী শহর কিয়েভকেও ছাড়েনি তারা৷ হাজার হাজার মানুষ মারা গিয়েছেন এই আক্রমণে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪ মিলিয়ন মানুষ অন্য দেশে পালিয়ে গিয়েছেন এই যুদ্ধের ফলে।
যুদ্ধের শুরু থেকেই বহির্বিশ্বের সেরকম কোনও সহায়তা পায়নি ইউক্রেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ ইউরোপের একাধিক দেশ ব্যবসা বানিজ্যে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপালেও কেউই সামনাসামনি যুদ্ধে নামতে চায়নি। এরই মাঝে রাষ্ট্রসংঘ তাদের মানবাধিকার কাউন্সিল থেকে রাশিয়াকে সাসপেন্ড করেছে। তবে রাশিয়াকে সবচেয়ে বড় ক্ষত দিয়েছে ইউক্রেনই। মস্কো এর আগেই স্বীকার করে নিয়েছিল, যতটা তাড়াতাড়ি এই আক্রমণ তথা অভিযান শেষ হবে ভেবেছিল তারা তত তাড়াতাড়ি অভিযান শেষ করতে পারেনি৷ এবার তারা স্বীকার করে নিল বিপুল পরিমাণে সেনার শহিদ হ্বার কথাও।
উল্লেখ্য, যুদ্ধের ফলেই গত তিন দশকে সবচেয়ে খারাপ অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সম্মুখীন রাশিয়া৷ প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিন জানিয়েছেন, সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেস বাণিজ্যক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রিয় দেশের তালিকা থেকে তাদের নাম বাদ দিয়েছে৷












Click it and Unblock the Notifications