ফের বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে রকেট হামলা, ক্রমেই তৈরি হচ্ছে যুদ্ধের আবহ!
ফের ইরাকের রাজধানীতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে রকেট হামলার ঘটনা ঘটল। ঘটনায় কোনও হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও জানা গিয়েছে তিনটি রকেট আছড়ে পড়ে বাগদাদের গ্রিন জোনে। হামলার সঙ্গে সঙ্গেই এলাকায় নিরপত্তারক্ষীদের তৎপর করতে বেজে ওঠে সাইরেন।

কী এই গ্রিন জোন?
প্রসঙ্গত, বাগদাদের গ্রিন জোনটি ১০ বর্গ কিলোমিটার বিস্তৃত একটি অঞ্চল। এটি বাগদাদে মধ্যবর্তী অঞ্চলের খার্খ জেলায় অবস্থিত। আমেরিকান নেতৃত্বাধীন জোট দেশগুলি ২০০৩ সালের ইরাক আগ্রাসনের পর থেকেই এই এলাকাটা অভিযানে যুক্ত কর্তৃপক্ষের সরকারি কেন্দ্রস্থল। বর্তমানে এই শহরে এটি আন্তর্জাতিক উপস্থিতির কেন্দ্র হিসাবে রয়েছে এই গ্রিন জোন।

আমেরিকার বায়ুসেনা ঘাঁটিতে রকেট হামলা
এর আগে ১২ জানুয়ারি ইরাকে বাগদাদের উত্তর দিকে অবস্থিত আমেরিকার বায়ুসেনা ঘাঁটিতে চারটি রকেট হামলা চালানো হয়। ঘটনায় বায়ুসেনার চার কর্মী জখম হয়েছিলেন৷ সম্প্রতি বেশ কয়েকবার অ্যামেরিকার ঘাঁটিতে রকেট ও মর্টার হামলা চালানো হয়েছে৷ ঘটনাগুলিতে ইরাকের সেনাকর্মীরাই বেশি জখম হয়েছেন৷ কিন্তু, গতবছরের ডিসেম্বর এই হামলায় একজন অ্যামেরিকান ঠিকাকর্মী মারা যান।

আমেরিকান দূতাবাস চত্বরে ঢুকে পড়ে ইরানের সমর্থকরা
গত ২৯ ডিসেম্বর আমেরিকান বিমান হানায় ইরানের মদতপুষ্ট এক বিদ্রোহী সংগঠনের প্রায় ১২ জনকে হত্যা করা হয়৷ এরপরেই আল-শাবি নামের এক দলের সমর্থকরা নিরাপত্তা বলয়ের ঘেরাটোপে থাকা আমেরিকান দূতাবাস চত্বরে ঢুকে পড়ে৷ ইরাক থেকে অ্যামেরিকান সেনা তুলে নেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে৷ আগুন লাগানো হয় দূতাবাসে৷ স্লোগান ওঠে 'আমেরিকার মৃত্যু হোক'৷ আমেরিকার অভিযোগ, ওই সমস্ত ঘটনার পিছনে ইরানের সেনার অন্যতম কমান্ডার কাশেম সুলেমানির হাত ছিল।

কাসেম সুলেমানির হত্যা
এরপরেই ৩ জানুয়ারি ভোরে আমেরিকার ড্রোন হামলায় নিহত হন কাসেম সুলেমানি সহ মোট আটজন। ভোর রাতে বাগদাদ বিমানবন্দরে আমেরিকার সেনার অভিযানে মারা যান ইরানের জেনারেল কাশেম সুলেমানি। বাগদাদের মার্কিন দূতাবাসে হামলার বড়সড় মূল্য দিতে হবে তেহরানকে এমনটাই ঘোষণা করেছিলেন অ্যামেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, আর হলও তাই৷ দেশের বাইরে কর্মরত আমেরিকার নাগরিকদের রক্ষার জন্য সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ করা হয়েছে৷ পদক্ষেপ করা হয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশেই৷

প্রতিশোধের হুঙ্কার
এরপর ইরানের কুদস ফোর্সের প্রধান জেনারেল কাশেম সুলেমানির হত্যার প্রতিশোধের হুঙ্কার দিয়েছিলেন ইরানের ক্ষমতার অলিন্দে থাকা আয়াতুল্লাহ খামেনি। আমেরিকার সব ধরনের বাহিনীকে জঙ্গি হিসাবে ঘোষণা করে ইরান। এরপর থেকেই ইরাক সহ আফ্রিকাতে থাকা আমেরিকার বিভিন্ন ঘাঁটিতে হামলা চালানোর ঘটনা ঘটেছে।












Click it and Unblock the Notifications