বাড়ছে তালিবানি ফতোয়ার ফাঁস! বন্ধ কো-এডুকেশন, ছাত্রীদেরও পড়াতে পারবেন না কোনও শিক্ষক
বন্ধ কো-এডুকেশন, এবার ছাত্রীদেরও পড়াতে পারবেন না কোনও শিক্ষক
মসনদে বসেই একের পর এক ফতোয়া জারি করে চলেছে তালিবানেরা। ইতিমধ্যেই কর্মরত মহিলাদের বাড়িতে থাকার নিদান দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পোশাক-আশাকের উপরেও চেপেছে একাধিক তালিবানি ফতোয়া। এমতাবস্থায় এবার আফগানিস্তানে বন্ধ হয়ে গেল কো-এডুকেশন। সেই সঙ্গে গার্লস স্কুলেও আর মেয়েদের পড়াতে পারবেন না পুরুষ শিক্ষকেরা। সম্প্রতি এক নতুন ফতোয়া জারি করে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে তালিবান সরকার।

শরিয়তি নিয়ম মেনেই হবে পড়াশোনা
অন্যদিকে গত সপ্তাহেই হেরাতে তালিবানেরা ঘোষণা করেছিল স্কুলে ছাত্র ও ছাত্রীরা একসঙ্গে ক্লাস করতে পারবে না। তালিবানদের দাবি শরিয়ত আইন মেনেই তৈরি হবে নতুন দেশ। তালিবানদের নতুন শিক্ষা মন্ত্রী জানান ইসলাম, রাষ্ট্রের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি অনুযায়ী গড়া হবে সমাজ। আর তাই এখন থেকে আর ছেলে ও মেয়েরা একই ক্লাসে পড়াশোনা করতে পারবে না। গোটার পড়শোনার সিস্টেমটাই হবে শরিয়তি আইন মেনে।

কী বলছেন তালিব শিক্ষামন্ত্রী
তালিব শাসনের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষামন্ত্রী আবদুল বাকি হক্কানি রবিবার কাবুলের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন অধ্যাপক এবং শির্ক্ষার্থীর সঙ্গে বৈঠক করেন বলে জানা যায়। তারপরেই নতুন করে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয় নয়া সিদ্ধান্তের কথা। এদিকে গত ১৫ অগাস্ট কাবুল দখলের পরই হেরাতের পাশাপাশি একাধিক প্রদেশে কো-এডুকেশন নিষিদ্ধের ঘোষণা করে স্থানীয় তালেবান প্রশাসন। স্পষ্ট ভাষায় জানানো হয় এখন থেকে আর সরকারি ও বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ছেলে ও মেয়েরা একসঙ্গে পড়াশোনা করতে পারবেন না।

কড়া সমালোচনা শুরু হয়েছে গোটা বিশ্বজুড়েই
এদিকে তালিবানদের এই প্রতিক্রিয়াশীল সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা শুরু হয়েছে গোটা বিশ্বজুড়েই। যদিও তাতে যে তাদের বিশেষ কিছুই এসে যায় না তা তাদের বর্তমান পদক্ষেপেই স্পষ্ট। অন্যদিকে আফগানিস্তানের ক্ষমতায় তালিবানেরা ফিরতেই প্রতি জায়গাতেই চালু হচ্ছে পুরনো নিয়ম-নীতি। এদিকে তালিবান নেতৃত্বের এই সিদ্ধান্তের জেরে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশেষ সমস্যা না হলেও বেকায়দায় পড়বে বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলি, এমনটাই মত ওয়াকিবহাল মহলের।

উচ্চশিক্ষায় খোলা দরজা
তাদের সাফ বক্তব্য, বিশ্ববিদ্যালের হাতে পর্যাপ্ত মহিলা লেকচারার নেই। অন্যদিকে শিক্ষা নিয়ে নানা রকম জল্পনার মধ্যেই আবার মেয়েদের উচ্চশিক্ষার অনুমতি দিল তালিবানেরা। তবে কখনওই ছেলে মেয়ে একসাথে ক্লাস করতে পারবে না। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ছেলেমেয়েকে একসঙ্গে ক্লাস করতে না দেওয়ার বিরোধিতা করেছে আফগানিস্তানের কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। তাদের দাবি বিশ্ববিদ্যালের হাতে পর্যাপ্ত মহিলা লেকচারার নেই। এতে ক্ষতি হবে পড়াশোনার।












Click it and Unblock the Notifications