ব্রিটেনের ক্ষমতার শীর্ষে ভারতীয় বংশোদ্ভূত, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন ঋষি সুনক
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হলেন ঋষি সুনক
ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভুত ঋষি সুনক। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তিনি ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন পেনি মর্ডান্ট। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য কমপক্ষে ১০০ জন টোরি সাংসদের সমর্থনের প্রয়োজন। দুই পক্ষই ১০০ জন টোরি সাংসদের সমর্থন আদায় করতে পারলেই কনজারভেটিভ পার্টির সদস্যদের মধ্যে ভোট হতো। কিন্তু পেনি মর্ডান্ট ১০০ জন টোরি সাংসদের সমর্থন আদায় করতে পারেননি।

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় ঋষি সুনকের
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ৪৫ দিনের মাথায় লিজ ট্রাস পদত্যাগ করেন। তারপর থেকেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কনজারভেটিভ দলের অভ্যন্তরে ঋষি সুনকের নাম উঠে আসে। বরিস জনসন নিজের ক্যারাবিয়ান ছুটি বাতিল করে লন্ডনে চলে আসেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর দৌড়ে অংশ নেবেন বলে জানা যায়। তিনি দাবি করেন, ১০০ জন টোরি সাংসদ তাঁকে সমর্থন করেছেন। কিন্তু আচমকাই তিনি প্রধানমন্ত্রীর লড়াইয়ে অংশগ্রহণ কবেন না জানিয়ে দেন। এরপরেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ঋষি সুনকের জয়ের সম্ভাবনা প্রবল হয়।

সাধারণ নির্বাচনের ডাক বিরোধী দলের
ব্রিটেনের বিরোধী দল লেবার পার্টির তরফে এই প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের বিরোধিতা করেছে। লেবার পার্টির সাংসদরা সাধারণ নির্বাচনের ডাক দিয়েছেন। তাঁরা এভাবে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনকে অগণতান্ত্রিক বলে আখ্যা দিয়েছেন। টোরি সাংসদরা নিজেরা ভোট দেশের প্রধানমন্ত্রী ঠিক করছেন। এটা খুব বিরক্তিকর। দেশের মানুষকে তাঁদের প্রধানমন্ত্রী ঠিক করতে দেওয়া হোক বলে লেবার পার্টির তরফে জানানো হয়েছে।

বাড়ল পাউন্ডের দাম
সোমবার সকাল থেকেই ব্রিটেনে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে থাকে। তার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে পাউন্ডের দাম। এবং কমে যেতে থাকে ঋণের সুদের হার। ৩০ বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে বন্ডের সুদের হার ৩.৯ শতাংশ কমে যায়। যার ফলে দেশের অভ্যন্তরে ঋণের সুদের হার কমে যেতে থাকে। সম্প্রতি লিজ ট্রাস প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় মিনি বাজেট পেশ করেছিলেন। সেই সময় ঋণের সুদের হার হয়েছিল ৫.১৭ শতাংশ।

আর্থিক সঙ্কটে ব্রিটেন
ব্রিটেন বর্তমানে আর্থিক সঙ্কটের মধ্যে রয়েছে। লিজ ট্রাস প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনের সময় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, শুল্কের হার কমাবেন। মূল্যস্ফীতি রোধ করবেন। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরেই লিজ ট্রাস শুল্কের হার কমান। যার ফলে ব্রিটেনের আর্থিক সঙ্কট আরও জোড়াল হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতেই তিনি নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেন। শুল্কের হার আগের পর্যায়ে নিয়ে যান। এরপরেই দলের অভ্যন্তরে তিনি বিরোধের মুখে পড়েন। তারপর থেকেই লিজট্রাসের পদত্যাগের জল্পনা বাড়তে থাকে। পদত্যাগের পর লিজ ট্রাস বলেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রতিশ্রুতি রাখতে পারেননি। তাই পদত্যাগ করছেন।












Click it and Unblock the Notifications