২৪০ কোটি মার্কিন ডলারের চিনা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে চুক্তি স্বাক্ষর পাকিস্তানের
২৪০ কোটি মার্কিন ডলারের চিনা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে চুক্তি পাকিস্তানের, সমস্যায় পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বাসিন্দারা
ভারত-চিন সংঘাতের আবহেই বৃহস্পতিবার পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বাসভবনে চিন ও পাকিস্তানের মধ্যে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ত্রিস্তরীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হল। প্রায় ১১২৪ মেগাওয়াটের এই কোহালা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে খরচ হতে চলেছে প্রায় ২৪০ কোটি মার্কিন ডলার।

একক বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বিনিয়োগ
শুক্রবার এই চুক্তি স্বাক্ষরের সময়কালে উপস্থিত ছিলেন পাক অধিকৃত কাশ্মীরের প্রধানমন্ত্রী রাজা ফারুক হায়দার, চীনা দূত ইয়াও জিং, চিন-পাকিস্তানের অর্থনৈতিক যোগাযোগ সংক্রান্ত বিভাগের(সিপিইসি) প্রধান প্রাক্তন লেফটেন্যান্ট জেনারেল অসীম সালিম বাজওয়া। এছাড়াও বরাত প্রাপ্ত চিনা সংস্থার আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন। আন্তর্জাতিক সূত্রের খবর অনুযায়ী, পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ঝিলাম নদীর উপর এই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বরাত পেয়েছে কোহালা হাইড্রাপাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড(কেএইচসিএল)। কেএইচসিএল মূলত চিনের থ্রি গর্যেস কর্পোরেশন(সিটিজিসি)-এর একটি অংশ।

পাকিস্তানের জন্য বিদেশি বিনিয়োগের পথ খুলে গেল, মত ইমরানের
শুক্রবার জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিষয়ে বলতে গিয়ে পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান জানিয়েছেন, "পাকিস্তানের জন্যে বিদেশি বিনিয়োগের পথ খুলে গেল এবং পাকিস্তান যে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রবলভাবে সক্ষম, তা স্পষ্ট করে দেব আমরা।" ইমরান খান আরও জানান, "সিপিইসির আওতায় কোহালা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কারণে পাকিস্তানে যে বিপুল বিনিয়োগ হতে চলেছে, তার ফলে দেশে বেকারত্বের সমস্যা কমবে।"

জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের জেরে পূর্বেই ক্ষতিগ্রস্ত পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের বাসিন্দারা
ইমরান খান বেকারত্ব দূরের দাওয়াই দিলেও পাকিস্তান সরকারের এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বাসিন্দারা। ইতিমধ্যেই পাক অধিকৃত কাশ্মীরে নিলাম-ঝিলাম শক্তি প্রকল্পের জেরে নিলাম নদীর গতিপ্রকৃতি ও রূপ বদল হয়েছে, ফলে ওই অঞ্চলের জলবায়ুতেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। সমস্যায় পড়ছেন নিলাম নদী তীরবর্তী অঞ্চলের বাসিন্দারা। মুজাফফরবাদের এক সমাজকর্মীর বক্তব্য অনুযায়ী, " এই প্রকল্পগুলির জেরে নদীর গতিপথকে কাশ্মীর থেকে টেনে পাকিস্তানের শুরু অর্থাৎ কোহালায় টেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এই কার্যের ফলে নদী তীরবর্তী অঞ্চলের বাসিন্দারা প্রবল সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।"

পাকিস্তান উপকৃত হলেও সমস্যায় পাক অধিকৃত কাশ্মীর
মুজাফফরবাদের ওই সমাজকর্মীর মতে, "নিলাম-ঝিলাম শক্তিপ্রকল্পের জেরে নিলাম নদীর জলপ্রবাহ ভারসাম্য হারিয়েছে, ফলে নদী তীরবর্তী অঞ্চলের বাসিন্দারা ইতিমধ্যেই গ্রীষ্মকালে বেড়ে চলা তাপমাত্রা টের পাচ্ছেন। এখন এই প্রকল্পের জেরে ঝিলাম নদী তীরবর্তী বাসিন্দারাও ভুক্তভোগী হবেন।" নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সমাজকর্মীর মতে, সিপিইসির এই প্রকল্পে পাকিস্তান উপকৃত হলেও পাক অধিকৃত কাশ্মীর সমস্যার সম্মুখীন হবে। ওই সমাজকর্মী আরও জানিয়েছেন যে, "এখন কথা হচ্ছে বেকারত্ব মেটানোর, কিন্তু নিলাম-ঝিলাম শক্তি-প্রকল্পে প্রতিদিনের হিসেবে মজুরদের বেতনের পরিমাণ ছিল যৎসামান্য। তাছাড়া এই ধরনের প্রকল্প মাত্র কয়েক বছরের জন্য হয়, তাই এই শক্তি-প্রকল্প যে দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্বের সমস্যা ঘোচাবে, এমনটা ভাবা ভুল।"












Click it and Unblock the Notifications