বিতর্কের মাঝেও করোনা চিকিৎসায় রেমডেসিভিরকে নয়া নামে ছাড়পত্র আমেরিকার, দানা বাঁধছে বিতর্ক
বিতর্কের মাঝেও করোনা চিকিৎসায় রেমডেসিভিরকে নয়া নামে ছাড়পত্র আমেরিকার, দানা বাঁধছে বিতর্ক
হু-এর সলিডারিটি সমীক্ষায় রেমডেসিভির আশানুরূপ ফল না করলেও মার্কিন মুলুকে গিলিয়াড আইএনসি ছাড়পত্র দিল সহজেই! বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রশাসন প্রথম কোভিড প্রতিরোধী ওষুধ হিসেবে রেমডেসিভির ব্যবহারের অনুমতি দিল, তবে তা কিন্তু অন্য নামেই। সূত্রের খবর, হাসপাতালে ভর্তি কোভিড আক্রান্তদের শরীরে এখন থেকে ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে প্রবেশ করানো হবে এই ওষুধ। যদিও হু-এর সতর্কীকরণ লঙ্ঘন করার ফলে দানা বাঁধছে আশঙ্কা।

বাড়ছে দ্রুত সুস্থতার হারও
গিলিয়াড আইএনসি নামক মার্কিন সংস্থা বর্তমান এই ড্রাগের নাম রেখেছে 'ভেকলারি', যা আদি ওষুধ রেমডেসিভিরের জাতভাই বলেই মনে করছেন সকলে। আমেরিকার জাতীয় স্বাস্থ্য সংস্থার একটি বৃহৎ সমীক্ষায় সম্প্রতি দেখা গেছে, হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের সেরে ওঠার সময়সীমা গড়ে ৫ থেকে ১৫ দিন কমিয়ে এনেছে এই ড্রাগ। এই মাসের শুরুতেই অসুস্থ বোধ করায় মার্কিন রাষ্ট্রপতিও স্বয়ং এই ওষুধ নেন। ফলে মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ মন্ত্রক যে এই ওষুধকে ছাড়পত্র দেবে, তা বলাই বাহুল্য।

১২ বছরের কমবয়সী রোগীদের জন্য নয় ‘ভেকলারি’
মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ মন্ত্রকের বিধি অনুযায়ী, যেসকল রোগীদের ভেকলারি দেওয়া হবে তাঁদের বয়স ১২ বছরের উর্দ্ধে এবং ওজন কমপক্ষে ৪০ কিলোগ্রাম হতেই হবে। ভেকলারি আদতে ভাইরাসের প্রজনন ক্ষমতাকে দমন করে। গবেষকদের মতে, ভেকলারি প্রয়োগের পূর্বে রোগীর স্বাস্থ্য সংক্রান্ত কয়েকটি পরীক্ষানিরীক্ষা করে নেওয়া কিন্তু আবশ্যিক। পাশাপাশি বিধি অনুযায়ী, ম্যালেরিয়ার ড্রাগ হাইড্রক্সিক্লোরোক্যুইনের সঙ্গে ভেকলারি প্রয়োগে ওষুধের কার্যকারিতা হ্রাস পেতে পারে বলেও তারা জানাচ্ছেন।

রেমডেসিভিরের মূল্য ঘিরে ধন্দ
সম্প্রতি গিলিয়াড প্রধান ডঃ মারদাদ পার্সি জানিয়েছেন যে, এখন কোভিডের বিরুদ্ধে লড়ার জমি ক্রমশ শক্ত করছে মানুষ। যদিও প্রায় ৫০টি দেশে ভেকলারি আংশিক ছাড়পত্র পেলেও এই মহার্ঘ ওষুধের শিথিল মূল্য ঘিরে আন্তর্জাতিক বাজারে দানা বাঁধছে বিতর্ক। গত সপ্তাহেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক সমীক্ষায় উঠে আসে যে, কোভিডের কারণে মৃত্যু আটকাতে ব্যর্থ ভেকলারি। ফলে এই ড্রাগের ব্যবহার ঘিরে উঠছে প্রশ্ন।

ভেকলারির একটি কোর্সের মূল্য প্রায় ১.৭ লক্ষ টাকা!
আন্তর্জাতিক সূত্রের খবর, মার্কিন মুলুক সহ অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশে সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার আওতায় থাকা কোভিড আক্রান্তদের একটি কোর্সের মূল্য হিসেবে গিলিয়াড সংস্থা নিচ্ছে প্রায় ১.৭২ লক্ষ টাকা! অন্যদিকে রোগী বেসরকারি চিকিৎসার আওতায় থাকলে খরচ বেড়ে দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২.৩ লক্ষ টাকা। ফলে করোনা আবহে চিকিৎসার খরচ কিভাবে চালাবেন রোগীরা, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলি। অন্যদিকে ডেক্সামিথানোজ স্টেরয়েডও যে আশাবাদী ফল দিচ্ছে, তা জানিয়েছেন কোভিড বিজ্ঞানীরা।
দুর্গাপুজোর সমস্ত খবর, ছবি, ভিডিও দেখুন এক ক্লিকে












Click it and Unblock the Notifications