ভোটের আগে বড় সিদ্ধান্ত! আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি সই করলেন ইউনূস, বাংলাদেশি পণ্যে ট্রাম্পের শুল্ক কত নামল?
১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে রয়েছে সাধারণ নির্বাচন। আর ভোটের ঠিক দুই দিন আগে গুরুত্বপূর্ণ এক আন্তর্জাতিক চুক্তি সই করল মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। আমেরিকার সঙ্গে 'পারস্পরিক শুল্ক চুক্তি' অর্থাৎ রিসিপ্রোকাল ট্যারিফ অ্যাগ্রিমেন্ট স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। যা ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

মহম্মদ ইউনূস নিজেই এই চুক্তির কথা জানিয়েছেন। এক্স (X)-এ করা একটি পোস্টে তিনি লিখেছেন যে, "সোমবার বাংলাদেশ এবং আমেরিকার মধ্যে এই চুক্তিটি সম্পন্ন হয়েছে। ফলে ওয়াশিংটন বাংলাদেশের পণ্যের উপর ১৯ শতাংশ শুল্কহার কমিয়েছে।" সেইসঙ্গে ওই পোস্টে ইউনূস, ভবিষ্যতে আমেরিকা আরও সুবিধা দেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছে বলে ঘোষণা করেছেন।
ইউনূসের পোস্ট অনুসারে, কিছু নির্দিষ্ট টেক্সটাইল এবং পোশাকপণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে শূন্য পারস্পরিক শুল্কের সুযোগ তৈরি করার জন্য বিকল্প একটি ব্যবস্থার কথাও ভাবছে আমেরিকা। বাংলাদেশের রপ্তানিতে পোশাক শিল্পের গুরুত্বের কথা মাথায় রেখেই এই বার্তাকে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অন্তর্বর্তী সরকার সূত্রে জানা গিয়েছে যে, এই চুক্তি আমেরিকার রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতেই স্বাক্ষর করা হয়েছে। বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান বাংলাদেশি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন। প্রায় ৯ মাস ধরে চলতে থাকা আলোচনা এবং দরকষাকষির পরই এই চুক্তিতে পৌঁছেছে দুই দেশ।
চুক্তি অনুসারে, আগের তুলনায় প্রায় ১ শতাংশ মোট শুল্কহার কমেছে। যদিও সংখ্যার দিক থেকে এই ছাড় খুব একটা বড় নয়, তবুও রপ্তানি নির্ভর অর্থনীতির জন্য এই সামান্য ছাড়কেই ইতিবাচক পদক্ষেপ বলে দেখছেন অর্থনৈতিক মহলের একাংশ।
তবে প্রশ্ন উঠছে অন্য এক জায়গায়। সাধারণ নির্বাচনের ঠিক আগে কেন অন্তর্বর্তী সরকার এরকম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যচুক্তি করল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে নানারকম আলোচনা। ভোটের মুখে এরকম সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক তাৎপর্য কী, ভবিষ্যৎ সরকারের উপর এর প্রভাবই বা কতটা পড়বে, এই সমস্ত প্রশ্ন ঘিরেই এখন সরগরম বাংলাদেশি রাজনীতি।












Click it and Unblock the Notifications