লাদাখ ইস্যুতে ১৪০ মিনিট বৈঠক, মস্কোয় চিনা প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে কোন কড়া বার্তা দিলেন রাজনাথ সিং?
১৪০ মিনিটের একটি বৈঠক এবং সেখানেই চিনকে কড়া ভাষায় ভারতের অবস্থান বুঝিয়ে দিলেন রাজনাথ সিং। বৃহস্পতিবারই এই বৈঠকের জন্য চিনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর তরফ থেকে আর্জি জানানো হয়েছিল৷ সেই অনুযায়ী শুক্রবার এই বৈঠকের সম্ভাবনা তৈরি হয়৷ আর শেষ পর্যন্ত সেই বৈঠকে চিনকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে বললেন রাজনাথ সিং।

রাত সাড়ে ন'টায় ভারত-চিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠক শুরু হয়
শুক্রবার মস্কোর মেট্রোপোল হোটেলে ভারতীয় সময় সাড়ে ন'টায় ভারত-চিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠক শুরু হয়। দু'ঘণ্টা কুড়ি মিনিট ধরে এই বৈঠক চলে বলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে ৷ রাজনাথ সিংয়ের সরকারি হ্যান্ডেল থেকেও জানানো হয় এই বৈঠক ১৪০ মিনিট ধরে চলেছে।

বিশ্বাসের ভিত্তি
এর আগে এদিন এসসিওর বৈঠকে রাজনাথ চিনকে তোপ দেগে বলেছিলেন, 'এসসিও সদস্য দেশগুলির শান্তিপূর্ণ স্থিতিশীল ও সুরক্ষিত অঞ্চল চায়। এসসিওভুক্ত দেশগুলিতে বিশ্ব জনসংখ্যার ৪০ শতাংশেরও বেশি মানুষ বাস করে। বিশ্বাস ও সহযোগিতার আবহাওয়া, অ-আগ্রাসন, আন্তর্জাতিক বিধি ও মানদণ্ডের প্রতি সম্মান, একে অপরের আগ্রহের প্রতি সংবেদনশীলতা এবং শান্তিপূর্ণ সমাধান; এগুলোই এই এলাকাতে শান্তি স্থাপন করতে সাহায্য করবে।'

বৈঠক নিয়ে ছিল চরম সংশয়
তবে এদিন মস্কোয় ভারত-চিন এই বৈঠক হবে কি না তা নিয়ে ছিল চরম সংশয়। সাংহাই কোঅপরাশেন অর্গানাইজেশনের বৈঠকে অংশ নিতে যাওয়ার আগে কেন্দ্রের সূত্রে জানানো হয়েছিল যে রাজনাথের এই সফরে চিনা মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের প্রশ্ন নেই বিশেষজ্ঞদের মত, লাদাখের প্যাংগংয়ে উত্তেজনার মাঝেই চিনা প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে কড়া বার্তা দেওয়ার লক্ষ্যেই রাজনাথ সিং এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

সমস্যা জারি প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায়
কয়েকমাস ধরেই সমস্যা জারি প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায়। জুনে ভারত-চিন সেনা সংঘর্ষে শহিদ হন একাধিক ভারতীয় জওয়ান। তারপর থেকে উভয় দেশের সম্পর্কে একটা চিড়ও ধরেছে। যদিও দু'দেশের বিদেশমন্ত্রক বার বার জানাচ্ছে, সেনা ও কূটনৈতিক পর্যায়ে ক্রমাগত আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা চলছে। এই পরিস্থিতিতে আজ সন্ধ্যার বৈঠক খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। পূর্ব লাদাখে সীমান্ত সমস্যার পর দু'দেশের মধ্যে এই প্রথম একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হতে চলেছে।

নিয়ন্ত্রণ রেখায় উত্তপ্ত হয় পরিস্থিতি
জুনের পর আবার গত শনিবার প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় উত্তপ্ত হয় পরিস্থিতি। ভারত ভূখণ্ডে ঢোকার চেষ্টা করে লাল ফৌজ। কিন্তু তাদের গতিবিধি লক্ষ্য করে আগে থেকেই রুখে দাঁড়ায় ভারতীয় সেনা। এই নিয়ে গতকাল পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে লাদাখ যান সেনা প্রধান নারাভানে। তিনি জানান, বর্তমানে সেখানকার পরিস্থিতি সামান্য চিন্তার। যে কোনও পরিস্থিতির জবাব দিতে সদা প্রস্তুত রয়েছে ভারতীয় সেনা। এই পরিস্থিতিতেই চিন-ভারত প্রতিরক্ষা পর্যায়ের এই বৈঠক যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনীতিবিদদের একাংশ।

স্থিতাবস্তা লঙ্ঘন করে চিনা বাহিনী
কয়েকদিন আগেই পূর্ব লাদাখের প্যাংগং এলাকায় স্থিতাবস্তা লঙ্ঘন করে চিনা বাহিনী। প্যাংগং লেকের দক্ষিণ দিক থেকে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে তারা৷ তবে প্যাংগং সো লেকের দক্ষিণ তীরে চিন সেনার অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ করে ভারতীয় সেনা। এরপরই প্যাংগং লেকের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থানের দখল নেয় ভারতীয় সেনা। যার জেরে চিনা সেনার গতিবিধির উপর আরও কড়া নজরদারি চালাতে সক্ষম হবে ভারত। আর সেই জমি ভারতীয় অধীনস্ত রাখতেই আরও সমর সরঞ্জাম বাড়ানো হল সেখানে।

ভারতের অধীনে চুশুল
শুধু প্যাংগং লেকের দক্ষিণ প্রান্তই নয়, স্পানগার গ্যাপ এলাকাও দখল নিয়েছে ভারতীয় সেনা। জানা গিয়েছে ভারত দক্ষিণ প্যাংগং লেক সংলগ্ন এলাকার চুশুল সাবসেক্টরে গুরুত্বপূর্ণ চূড়ায় নিজেদের পা জমিয়েছে। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি স্ট্র্যাটেজিকাল রিজ পয়েন্টেও ভারতীয় সেনা পৌঁছে গিয়েছে। আর এর জেরে চিনা সেনা ভারতীয় সেনা ফায়ারিং রেঞ্জের মধ্যে চলে এসেছে।












Click it and Unblock the Notifications