সমালোচনা এড়াতে চাইছেন ভ্লাদিমির পুতিন! জি-২০ সম্মেলনে উপস্থিত থাকছেন না রুশ প্রেসিডেন্ট
সমালোচনা এড়াতে চাইছেন ভ্লাদিমির পুতিন! জি-২০ সম্মেলনে উপস্থিত থাকছেন না রুশ প্রেসিডেন্ট
ইন্দোনেশিয়ার বালিতে জি-২০ সম্মেলনে যাচ্ছেন না রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ইউক্রেনের সামরিক অভিযানের পর থেকেই কিছুটা ব্যাকফুটে রয়েছেন পুতিন। জি-২০ সম্মেলনে চরম অস্বস্তির মুখে পড়তে পারেন তিনি। সেই অস্বস্তি ঢাকতেই সময়ের অভাবের অজুহাত রাশিয়ার তরফে দেওয়া হয়েছে। তবে পুতিনের এই ধরনের আচরণ আগেও দেখা গিয়েছিল। ২০১৪ সালে পুতিন ক্রিমিয়া দখল করেন। সেই বছর জি-২০ সম্মেলনে পুতিনকে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছিল। মস্কোর তরফে জানানো হয়েছে, পুতিন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমেও বক্তব্য রাখবেন না।

জি-২০ সম্মেলনে উপস্থিত থাকছেন না পুতিন
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, জি-২০ সম্মেলনে উপস্থিত থাকলে ভ্লাদিমির পুতিনকে প্রবল নিন্দার মুখে পড়তে হবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এই পরিস্থিতিতে পুতিন নিজেকে আন্তর্জাতিক সম্মেলন থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফেব্রুয়ারি মাসে ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের পর থেকে পশ্চিমি দেশগুলোর একাধিক নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছে রাশিয়া। যার জেরে ব্যাপত অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে মস্কোকে। ক্রেমলিনের ঘনিষ্ঠ বৈদেশিক নীতি বিশেষজ্ঞ ফায়োদর লুকিয়ানভ ইঙ্গিত দিয়েছেন যে পুতিন ইউক্রেনের বিষয়ে কোনও বিদেশি নেতার সঙ্গে আলোচনা করতে চাইছেন না। সেই কারণেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

অপমানিত হওয়ার আশঙ্কা
ডায়ালগ অফ সিভিলাইজেশনস ইনস্টিটিউটের প্রধান গবেষক আলেক্সি মালাশেঙ্কো বলেছেন, সম্মেলনে অন্যান্য বিদেশি নেতাদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। আলোচনা করতে হবে। ছবিও তুলতে হবে। কিন্তু পুতিন কার সঙ্গে আলোচনা করবেন বা কার সঙ্গে ছবি তুলবেন। জি-২০ সম্মেলনে বেশিরভাগ দেশ রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। জারি করা নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন করেছেন। এই পরিস্থিতিতে জি-২০ সম্মেলনে তাঁকে চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়তে হবে। তা তিনি চাইছেন না।

২০১৪ সালের ঘটনার পুনরাবৃত্তি চান না
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ২০১৪ সালের ঘটনার পুনরাবৃত্তি চান না। ২০১৪ সালে রাশিয়া ক্রিমিয়া দখল করে। তারপরেই জি-২০ সম্মেলনে যোগ দেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তাঁকে সম্মেলনে এড়িয়ে যাওয়া হয়। শুধু তাই নয়, পুতিনকে জি-২০ সম্মেলনের ঐতিহ্যগত ছবি, যেখানে উপস্থিত সমস্ত দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়, সেই ছবি থেকেও পুতিনকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়। এই পরিস্থিতিতে পুতিন জি-২০ সম্মেলন শেষ হওয়ার আগেই ফিরে আসেন। ইন্দোনেশিয়ার জি-২০ এর অন্তর্ভুক্ত দেশের বিদেশ মন্ত্রীদের বৈঠকেও রাশিয়া উপস্থিত ছিলেন। সেখানে রুশ বিদেশমন্ত্রীকে চরম অস্বস্তির মুখে পড়তে হয়েছিল। যার জেরে তিনি সময়ের আগেই রাশিয়া ফিরে আসেন।

উপস্থিত থাকছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট
রাজনৈতিক বিশ্লেষক কনস্ট্যান্টিন কালাচেভ বলেছেন, জি-২০ সম্মেলনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি উপস্থিত থাকবেন। ইউক্রেনকে সমর্থনকারী দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা এক জোট হয়ে পুতিনকে অপমান করতে পারেন বলে মস্কো অশঙ্কা করছেন। এই কারণেই পুতিনের পরিবর্তে রাশিয়ার প্রতিনিধিদের নেতৃত্ব দেবেন সেরগেই লাভরভ। রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সেরগেভ লাভরভ পুতিন ঘনিষ্ঠ। তাঁর বিরুদ্ধেও পশ্চিমি দেশগুলো একাধিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।












Click it and Unblock the Notifications