ইউক্রেন সংঘাত থামানোর চেষ্টা মোদী-ট্রাম্পের, প্রচেষ্টাকে ধন্যবাদ পুতিনের
ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানে বিশ্বনেতাদের প্রচেষ্টার জন্য রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা-সহ বেশ কয়েকজন নেতার নাম উল্লেখ করে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার বেলারুশের রাষ্ট্রপতি আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কোর সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে পুতিন বলেন, রাশিয়া যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবকে সমর্থন করে, তবে তা হতে হবে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও সংকট সমাধানের জন্য কার্যকরী।

পুতিন জানান, ইউক্রেন যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে আগ্রহ দেখালেও, এটি আমেরিকার চাপের কারণে হয়েছে। তাঁর কথায়, "সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক মার্কিন-ইউক্রেন আলোচনার ফলে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ যুদ্ধবিরতির বিষয়ে নমনীয় হয়েছে। রাশিয়া যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হতে পারে, তবে সংকটের মূল কারণগুলো দূর করতে হবে"।
এরপরই পুতিন বলেন, "মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদী, চীনের রাষ্ট্রপতি, ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রপতিরা এই সংকটের সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ"।
২০২২ সাল থেকে শুরু হওয়া ইউক্রেন রাশিয়া সংঘাত এখনও চলছে। কোনও পক্ষই এখনও হাল ছাড়েনি। আড়াই বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধ নিয়ে প্রথম থেকেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছেন। এই বিষয়ে তিনি বারবারই বলেছেন, "যুদ্ধের মাধ্যমে কোনো সমস্যার সমাধান হয় না"। তিনি ইউক্রেন ও রাশিয়ার রাষ্ট্রপতিদের সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় কূটনৈতিক পথকেই সমাধান মনে করছেন। গত বছরের জুলাইয়ে তিনি ভারত-রাশিয়া দ্বিপাক্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে মস্কো গিয়েছিলেন এবং আগস্টে ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি জেলেনস্কির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। সম্প্রতি মোদীর সাথে ট্রাম্পের বৈঠকেও এই প্রসঙ্গ উঠে আসে।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনের যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং রাশিয়াও এতে সম্মত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, "রাশিয়া ও ইউক্রেনের সৈন্যরা এই যুদ্ধে প্রাণ হারাচ্ছে। তাই যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ"।
গত ১১ মার্চ, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের জন্য ৩০ দিনের অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেয়, যা প্রয়োজন অনুসারে বাড়ানো যেতে পারে। সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনার পর বিষয়টি সামনে আসে। রাশিয়া এই প্রস্তাবে সাড়া দিতে আগ্রহী, তবে তারা "দীর্ঘমেয়াদী সমাধান নিশ্চিত করার শর্ত" রেখেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধবিরতির বিষয়ে রাশিয়া-ইউক্রেনের অবস্থান এখনও পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত চাপ ইউক্রেনকে শান্তি আলোচনায় আনতে বাধ্য করছে। মোদী ও অন্যান্য বিশ্বনেতাদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এই সংকট সমাধানে কতটা কার্যকর হবে, এখন সেটাই দেখার।












Click it and Unblock the Notifications