পাবজি খেলায় বাধা, মা সহ চার জনকে খুন কিশোরের
পাবজি , বিখ্যাত মোবাইল গেম। বন্দুক, গোলাগুলি, বিরোধীকে নক ডাউন করা। কিশোর থেকে যুবক যারা এই গেম একবার খেলেছে সহজে ছাড়তে পারেনি। সেই গেমের নেশায় বুঁদ হয়েই গোটা পরিবারকেই খুন করল এক পাক কিশোর।

ঘটনাটি ঘটেছে লাহোরের কাহনা এলাকায়। নিহত হয়েছেন ৪৫ বছরের নাহিদ মুবারক। পেশায় স্বাস্থ্যকর্মী ওই মহিলা। তিনি বিবাহ বিচ্ছিন্না। তাঁর সংসার চার ছেলে মেয়েকে নিয়ে। অভিযুক্ত কিশোর তাঁর দ্বিতীয় সন্তান। সূত্রের খবর পাবজির নেশায় সে মা, দাদা এবং দুই বোনকে খুন করেছে। পুলিশের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকার করেছে সে। দাবি কী? স্পষ্ট বক্তব্য। পাবজি খেলার নেশা থেকেই সে সকলকে খুন করেছে।স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনও একই দাবি করেছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ১৪ বছরের ওই কিশোর ঘণ্টার পর ঘণ্টা পাবজি খেলত। সেখান থেকে মানসিক সমস্যা শুরু হয়। এর জন্য তার পড়াশোনাও বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এর জন্য মায়ের থেকে নিয়মিত বকুনিও খেত।
জানা গিয়েছে, ঘটনার দিনও ছেলেকে বকাবকি করেছিলেন নাহিদ। এতেই ছেলের মাথা গরম হয়ে যায়। আলমারি থেকে মায়ের পিস্তল বের করে নেয়। পাবজির মতোই মাকে গুলি করে দেয়। ওই সময়ে দাদা ও দুই বোন ঘুমিয়ে ছিল। ঘুমন্ত ভাইবোনদের উপরেও গুলি চালিয়ে দেয় ওই কিশোর। ঘটনাস্থলে সকলকেই প্রাণ হারায়। এসব করার পরের দিন সকালে তার হুঁশ হয় যে সে কী করে ফেলেছে। সে
প্রথমেই খুনের দায় না নিয়ে প্রতিবেশীদের বলে বাড়িতে অঘটন ঘটে গিয়েছে। প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দেন।পুলিশকে প্রথমে ছেলেটি বলে, সে বাড়ির দোতলায় থাকে এবং কে, কখন, কীভাবে তার পরিবারকে খুন করেছে সে জানে না। ব্যবহৃত পিস্তলটিও নর্দমায় ফেলে দেয়। পরে তদন্তে গোটা ঘটনা সামনে আসে। অসংলগ্ন কথাবার্তায় পুলিশের সন্দেহ হয়। তারপর ধীরে ধীরে রক্তমাখা পোশাক উদ্ধার হয়। শেষে নিজের কীর্তি স্বীকার করে ওই কিশোর। পুলিশ গ্রেফতার করে তাকে। তবে আগ্নেয়াস্ত্রটি এখনও পাওয়া যায়নি। সেটির তল্লাশি চলছে।
গতবছরও প্রায় একই ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছিল ওই দেশে। পাবজি খেলার নেশায় পরিবারের দু'জনকে খুন করে সে। হামলায় আহত হন পরিবারের আরও তিন সদস্য। সেটিও লাহোরের ঘটনাই ছিল। বিলাল নামে ওই যুবককে পরে গ্রেফতার করে পুলিশ।












Click it and Unblock the Notifications