স্বাধীনতার পর সবথেকে ভয়ঙ্কর আর্থিক সঙ্কট, বাড়ছে বিক্ষোভ! কিন্তু কেন এমন অবস্থা?
স্বাধীনতার পর সবথেকে ভয়ঙ্কর আর্থিক সঙ্কট, বাড়ছে বিক্ষোভ! কিন্তু কেন এমন অবস্থা?
স্বাধীনতার পর সবথেকে ভয়ঙ্কর আর্থিক সঙ্কটের (Economic Crisis) মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা (Sri Lanka)। যার প্রভাব মারাত্মক। এর ফলে ক্রমশ ধর্জ্যের বাঁধ ভাঙছে সে দেশের মানুষের। এই অবস্থায় রাস্তায় নেমে প্রতিবাদে মানুষ। সেই মতো বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কয়েকশ মানুষ শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি Gotabaya Rajapaksa-এর বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। কয়েক হাজার মানুষ পোস্টার হাতে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। এমনকি আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তাঁরা। এই ঘটনা ঠেকাতে গেলে কার্যত পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক হাতাহাতি শুরু হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশাল পুলিশবাহিনীকে নামানো হয়।

রাষ্ট্রপতির ইস্তফার দাবিতে সরব
বৃহস্পতিবার রাতে দফায় দফায় চলে বিক্ষোভ। আন্দোলনকারীদের দাবি, অবিলম্বে রাষ্ট্রপতিকে ইস্তফা দিতে হবে। যদিও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে পুলিশের সঙ্গে কার্যত খন্ডযুদ্ধ বেঁধে যায় আন্দোলনকারীদের। পুলিশকে লক্ষ্য করে বোতল-পাথর ছোঁড়া হয় বলেও অভিযোগ। অবস্থা এতটাই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে যে শ্রীলঙ্কা পুলিশের তরফে লাঠিচার্জ করা হয় বলে অভিযোগ। অবস্থা এতটাই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে যে আন্দোলনকারীরা পুলিশের গাড়িতেও আগুন ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ।

কার্ফু জারি করা হয়েছে
ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে! আর সেই আঁচ ইতিমধ্যেই পেয়েছেন সে দেশের প্রেসিডেন্ট। আর এই ঘটনার পরেই কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে প্রেসিডেন্টের বাড়ি। এমনকি জারি করা হয়েছে কার্ফু। বসানো হয়েছে পুলিশ পিকেটিং। তবে রাজাপক্ষের পরিবারের উপর ক্ষোভ তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের। ফের একবার সেই ক্ষোভের আঁচ পড়তে পারে বলে আশঙ্কা।

ক্রমশ পরিস্থিতি বদল হচ্ছে-
স্বাধীনতার পর ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা। খারাপ অর্থনৈতিক সঙ্কট। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশে খাদ্য, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, জ্বালানি ও গ্যাসের ব্যাপক ঘাটতি দেখা দিয়েছে। মূল্যবৃদ্ধি ভয়ঙ্কর পর্যায়ে রয়েছে। ডিজেলের ঘাটতির কারণে সারা দেশে ১৩ ঘণ্টার জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হচ্ছে। পেট্রোল-ডিজেলের জন্যে পাম্পে ঘন্টার পর ঘন্টা লম্বা লাইন। এমনকি অনির্দিষ্টকালের জন্যে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বন্ধ রাখা হয়েছে পরীক্ষা। কাগজ না থাকার কারণেই এহেন সিদ্ধান্ত। এমনকি সে দেশে স্ট্রিট লাইট পর্যন্ত চালানোর ক্ষমতা নেই। পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ থেকে খারাপতর হচ্ছে বলে আশঙ্কা।
|
কিন্তু কেন এই পরিস্থিতি-
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, বাস কিংবা বাণিজ্যিক গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে গোটা দেশের কোনও স্টেশনেই ডিজেল কিংবা অন্যান্য ইন্ধন নেই। পেট্রোল দেওয়া হলে, এখন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। দেশের ভয়াবহ এহেন পরিস্থিতির জন্যে করোনাকে দায়ি করা হচ্ছে। এছাড়াও সে দেশের সরকারের কিছু ভুল নীতি ভয়ঙ্কর অবস্থায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। মহামারীর কারণে লংকার পর্যটন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ শেষ হয়ে গিয়েছে। এছাড়াও সরকারে থাকা সদস্যরা তো বটেই, তাঁদের পরিবারের সদস্যরা যে ভাবে খুশি চলেছে। ধণ-সম্পতি নষ্ট করেছে। আর সেই কারণেই ভয়ঙ্কর অর্থনৈতিক সঙ্কট তৈরি হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications