মার্কিন ও ইরান পরমাণু আলোচনায় অগ্রগতি, দুই সপ্তাহের মধ্যে বিস্তারিত প্রস্তাব নিয়ে ফিরবে তেহরান

দ্বিতীয় দফার পরমাণু আলোচনার পর সতর্ক আশাবাদী সুর শোনা গেল ওয়াশিংটনের তরফে। এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে বটে, তবে এখনো বহু বিষয় খোলামেলা আলোচনা ও সমাধানের অপেক্ষায়। তাঁর কথায়, "উন্নতি হয়েছে, কিন্তু অনেক সূক্ষ্ম বিষয় বাকি। ইরান জানিয়েছে, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে তারা আমাদের অবস্থানের ফাঁকফোকরগুলি পূরণ করতে একটি বিস্তারিত প্রস্তাব নিয়ে ফিরবে।"

মঙ্গলবার জেনেভায় বসে এই সাম্প্রতিক বৈঠক। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা এই আলোচনা শেষে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন জানায়, বৈঠক শেষ হয়েছে গঠনমূলক পরিবেশে। তবে কূটনৈতিক টেবিলের এই অগ্রগতির মাঝেই উত্তেজনার পারদ চড়ায় তেহরানের সামরিক পদক্ষেপ।

আলোচনার ঠিক আগে ইরান ঘোষণা করে, সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে তারা হরমুজ প্রণালীর কিছু অংশ বন্ধ করছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হিসেবে পরিচিত এই প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন প্রায় বিশ্বের মোট তেলের এক পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। ফলে এই পথ বন্ধের ঘোষণা বিশ্ববাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ বাড়ায়।

উল্লেখযোগ্যভাবে, কয়েক সপ্তাহ আগেও একই প্রণালীতে সরাসরি গুলি চালনার মহড়া করেছিল ইরান, কিন্তু তখন প্রণালী বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়নি। এবার সেই পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বারবার সামরিক হুঁশিয়ারির জবাবে কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়তুল্লা আলী খামেনি। তিনি বলেন, "মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারবার বলেন, তাদের সেনাবাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী। কিন্তু সবচেয়ে শক্তিশালী বাহিনীও এমন আঘাত পেতে পারে, যার পর আর উঠে দাঁড়াতে পারবে না।"

সামাজিক মাধ্যম এক্স হ্যান্ডেলে একাধিক পোস্টে তিনি মার্কিন রণতরী মোতায়েন নিয়েও কটাক্ষ করেন। তাঁর বক্তব্য, "যুদ্ধজাহাজ অবশ্যই বিপজ্জনক সামরিক সরঞ্জাম। তবে তার চেয়েও বিপজ্জনক সেই অস্ত্র, যা সেই জাহাজকে সাগরের তলায় পাঠাতে পারে।"

প্রসঙ্গত, অতীতে ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি চাপের কথা উল্লেখ করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার জবাবে খামেনি লেখেন, "মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ৪৭ বছরেও যুক্তরাষ্ট্র ইসলামিক প্রজাতন্ত্রকে সরাতে পারেনি। এটা এক ধরনের স্বীকারোক্তি। আমি বলছি, ভবিষ্যতেও আপনারা তা পারবেন না।"

কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে অগ্রগতির ইঙ্গিত মিললেও সামরিক হুঁশিয়ারি ও পাল্টা বার্তায় স্পষ্ট ওয়াশিংটন ও তেহরানের সম্পর্ক এখনো গভীর অবিশ্বাস ও টানাপোড়েনের মধ্যেই আটকে আছে। আগামী দুই সপ্তাহে ইরানের প্রস্তাব কতটা সেতুবন্ধন গড়তে পারে, সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+