রুশ হামলায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে ইউক্রেনের বেশিরভাগ অঞ্চল, দাবি প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির
রুশ হামলায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে ইউক্রেনের বেশিরভাগ অঞ্চল, দাবি প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির
ক্রেমলিনের সঙ্গে রাশিয়ার সংযোগকারী সেতু ইউক্রেনের সেনারা ভেঙে দিয়েছে। তারপর থেকেই রাশিয়া ইউক্রেনের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার গতি বাড়িয়ে দিয়েছে। রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মঙ্গলবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, দেশের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্য করে রাশিয়া ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। দেশের ৩০ শতাংশ বিদ্যুৎ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গিয়েছে। রাজধানী কিয়েভ সহ ইউক্রেনের বেশ কয়েকটি শহরের একাধিক অঞ্চলে পানীয় জল ও বিদ্যুৎ পরিষেবা বন্ধ হয়ে গিয়েছে।

কী বললেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মঙ্গলবার টুইট করে বলেন, রাশিয়ার সন্ত্রাসী হামলায় ইউক্রেনের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।১০ অক্টোবর থেকে রাশিয়া ক্রমাগত ইউক্রেনের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করে চলেছে। ইউক্রেনের ৩০ শতাংশ বিদ্যুৎ কেন্দ্র ধ্বংস হয়ে গিয়েছে।যার ফলে দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। অন্ধকারে ডুবে গিয়েছে। রুশ প্রশাসন আলোচনার আর কোনও জায়গায়ই রাখল না।

ইরানের তৈরি ড্রোনে হামলা
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট অভিযোগ করেছেন, রাশিয়া দেশের একাধিক অঞ্চলে হামলা করতে কামিকাজ ড্রোন ব্যবহার করেছে। এই ড্রোনগুলো ইরানের তৈরি বলেও জেলেনস্কি দাবি করেছেন। এই ড্রোন হামলায় কিয়েভে পাঁচ জন এবং উত্তর ইউক্রেনে সুমি শহরে কমপক্ষে চার জন নিহত হয়েছেন বলে তিনি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে কিয়েভের পশ্চিমে জাইটোমির অঞ্চলে এবং মধ্য ইউক্রেনের ডিনিপ্রো শহরের কিছু অংশ বিদ্যুৎবিহীন ছিল। ক্রেমলিনের তরফে ইরানের তৈরি ড্রোন ব্যবহারের কথা অস্বীকার করা হয়েছে। পশ্চিমি দেশগুলো প্রথম থেকে অভিযোগ করছে, ইউক্রেনে সামরিক অভিযানে রাশিয়া একাধিক ইরানের অস্ত্র ব্যবহার করেছে।

অন্ধকারে ইউক্রেনের একাধিক শহর
ইউক্রেনের একাধিক শহর বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বেশ কিছু ইউক্রেনীয় পরিবার জেনারেটর বা গ্যাস বার্নার কিনলেও, বেশিরভাগের পক্ষে তা কেনা বর্তমানে সম্ভব নয়। ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে জানান হয়েছে, অক্টোবর থেকে রাশিয়ার ক্রমাগত আক্রমণে ইউক্রেনের তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, দুবার ইউক্রেনের চেনিপ্রো শহরের বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ওপর রাশিয়া হামলা চালিয়েছে।ডিনিপ্রোর কিছু জেলা, সেই সঙ্গে সিনেলনিকোভ এবং দ্যনিপ্রোপেট্রোভস্ক ওব্লাস্টের ভ্যাসিলকিভকা শহরগুলি হামলার পর থেকে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে।

রুশ আক্রমণ জোরদার
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনের চারটি অঞ্চলের সংযোগের ঘোষণা করেন। সারা বিশ্ব ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছিল। পুতিনের ঘোষণার কিছুদিনের মধ্যেই ইউক্রেন তাদের বেশ কিছু অঞ্চল পুনরুদ্ধার করে। পাশাপাশি ৮ অক্টোবর ইউক্রেনের সেনারা ক্রেমলিনের সঙ্গে রাশিয়ার সংযোগকারী সেতু ধ্বংস করে দেয়। এই ঘটনাকে সন্ত্রাসী হামলা বলে পুতিন উল্লেখ করে। পাশাপাশি রাশিয়া ইউক্রেনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বাড়িয়ে দেয়।












Click it and Unblock the Notifications