আত্মরক্ষার জন্য ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহ অনৈতিক নয়, মন্তব্য পোপ ফ্রান্সিসের
আত্মরক্ষার জন্য ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহ অনৈতিক নয়, মন্তব্য পোপ ফ্রান্সিসের
রাশিয়ার সামরিক আগ্রাসানে ছবির মতো সাজানো দেশ ইউক্রেন কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ইউক্রেনের পাশে দাঁড়িয়েছে পশ্চিমি দেশগুলো। তারা ইউক্রেনকে অস্ত্র দিয়ে সামরিকভাবে সাহায্য করছে। এই প্রসঙ্গে ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস বলেন, রাশিয়ার আগ্রাসন থেকে রক্ষা করতে অস্ত্র সরবরাহ করা হচ্ছে। নৈতিকভাবে এই কাজ বৈধ।

অস্ত্র সরবরাহ অনৈতিক নয়
কাজাখস্তানে তিন দিনের সফরের শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস। সফর শেষে তিনি বিমানে সাংবাদিকদের বলেন, কিয়েভকে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। এই সমস্যার সমাধান কেবল মাত্র আলোচনার মাধ্যমেই সম্ভব। ইউক্রেনকে অস্ত্র সাহায্য বৈধ কি না, সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে পোপ ফ্রান্সিস বলেন, এটি সম্পূর্ণ একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। এটি রাজনৈতিক দিক থেকে নৈতিক। তিনি বলেন, একটি আগ্রাসী জাতির বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। নৈতিকভাবে যা সম্পূর্ণ গ্রহণযোগ্য। পাশাপাশি তিনি মন্তব্য করেন, আত্মরক্ষা শুধু বৈধ নয়, স্বদেশের প্রতি ভালোবাসাও প্রকাশ করে এই আত্মরক্ষার মাধ্যমে। যিনি নিজেকে রক্ষা করে না, যিনি কোনও কিছু রক্ষা করার চেষ্টা করে না, তিনি আসলে ভালোবাসতে জানেন না। নিজেকে রক্ষা, দেশকে রক্ষা করার থেকে ভালো আর কী হতে পারে।

ইউক্রেনকে আলোচনায় বসতে হবে
পোপ ফ্রান্সিস মন্তব্য করেছে, যদি ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহ যুদ্ধের উস্কানি দিত, তাহলে তা কখনই বৈধ হতো না। নৈতিক হতো না। তবে অস্ত্র মানেই যুদ্ধের উস্কানি দেয়, এই ধরনের ধারনা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, ইউক্রেনের সামরিক অভিযানকারী দেশটির সঙ্গে আলোচনায় বসা উচিত। তবে রাশিয়া যে হারে আগ্রাসী মনোভাব দেখাচ্ছে, তাতে সে আলোচনাতে বসতে অস্বীকার করে। কিন্তু রাশিয়ার সঙ্গে বৈঠকে কোনও রফাসূত্র বের হলে, তাতে ইউক্রেন লাভবান হবে বলে তিনি মনে করছেন।

আলোচনা থেকে শান্তির পথ বের হবে
পোপ ফ্রান্সিস বলে, যুদ্ধের উসকানি দেওয়া দেশগুলোর আগ্রাসী মনোভাব মেনে নেওয়া যায় না। কিন্তু এই আগ্রাসী মনোভাবের জেরে তাদের সঙ্গে বৈঠক করব না, এই ধরনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসাই বুদ্ধিমানের কাজ বলে মনে করছেন পোপ ফ্রান্সিস। তিনি জানিয়েছেন, যদি যুদ্ধবাজদের সঙ্গে আলোচনার সব পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়, সেক্ষেত্রে শান্তির পথও বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে তিনি মনে করেছেন। পোপ ফ্রান্সিস জানিয়েছেন, ইচ্ছা না থাকলেও যুদ্ধবাজদের সঙ্গে অনেক সময় আলোচনায় বসতে হয়। অন্তত তাদের বৈঠকের প্রস্তাব দেওয়া উচিত বলে তিনি মনে করছেন।












Click it and Unblock the Notifications