চিনের পরে এবার অন্য দেশেও ছড়াচ্ছে নিউমোনিয়া! এবার কি ভারত? উপসর্গ কী, মোকাবিলা কী ভাবে
ফের এক রহস্যময় রোগ। প্রকোপ শিশুদের মধ্যে। চিন থেকে শুরু হওয়া এই রোগ এখন ছড়িয়েছে আমেরিকায়। বিশ্বস্বাস্থ্যসংস্থা এর নাম দিয়েছে হোয়াইট লাং সিনড্রোম। গতমাসে এই রোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা।
এখনও পর্যন্ত এই রোগ সম্পর্কে যে তথ্য সামনে এসেছে, তাতে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাইকোপ্লাজমা নিউমোনিয়া ব্যাকটিরিয়ার এই রোগের প্রধান কারণ হতে পারে। এই রোগ ফুসফুসের ওপরে খারাপ প্রভাব ফেলে। আক্রান্ত রোগীর ফুসফুস ফুলে যায় এবং সাদা হতে থাকে। এক্সরের পরে যে রিপোর্ট আসে তাতে ফুসফুস কালো দেখায়। কিন্তু এই ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির এক্স-রে রিপোর্টে ফুসফুস সাদা দেখায়, তাই এর নাম হোয়াইট লাং সিনড্রোম।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ছোট শিশুরা এই রোগের শিকার হচ্ছে। এর পিছনে শিশুদের দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দায়ী করা হচ্ছে। সাধারণভাবে পাঁচ থেকে দশ বছর বয়সী শিশুদের রোগ প্রতিরোদ ক্ষমতা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়। সেই পরিস্থিতিতে এই ভাইরাস দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আক্রমম করে।
হোয়াইট লাং সিনড্রোমের লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে, শ্বাস নিতে অসুবিধা হওয়া, বুকে ব্যথা, ক্লান্ত বোধ হওয়া, সর্দি-কাশি হওয়া, জ্বর ও ঠান্ডা লাগা। এই রোগ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। হাত স্যানিটাইজ করার পাশাপাশি হাল্কা জ্বর হলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। সর্দি-কাশি হলে মাস্ক পরতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে জনগণকে ভ্যাকসিন দেওয়া, অসুস্থ ব্যক্তিদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখা এহং মাস্ক পরা-সহ বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার কথা জানিয়েছে।
গত অক্টোবরের মাঝামাঝি সময় থেকে চিনে এই রোগে অসুস্থতা বৃদ্ধি সারা বিশ্বের মানুষকে আতঙ্কিত করেছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, শীতে নিউমোনিয়ার প্রকোপ সাধারণভাবে বৃদ্ধি পায়। সেকারণে আশা করা যায় এই বৃদ্ধি মরসুমী। শিশু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিউমোনিয়া হল ফুসফুসের সংক্রমণ। নিউমোনিয়ার সাধারণ লক্ষণগুলি হল জ্বর, দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস, বমি-কাশি।
ভারতীয় চিকিৎসক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিনের এই সংক্রমণ বিশ্বে ছড়িয়ে পড়া বা ভারতে পৌঁছনোর তাৎক্ষণিক ঝুঁকি নেই। তবে এব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ভারতেরও ইনফ্লুয়েঞ্জা বৃদ্ধি পেতে পারে। সেক্ষেত্রে ভ্যাকসিনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।












Click it and Unblock the Notifications