মিউজিয়াম ভ্রমণ, নৌবিহার, লেকের ধারে ডিনার, জেনে নিন আর কি থাকছে মোদির 'ঘরোয়া' চিন সফরে
'ঘরোয়া' চিন সফর শুরু করলেন মোদি। দুদিনে বারবার চিনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করবেন। মিলতে পারে ডোকালাম ইস্যুর সমাধান, আশা কূটনীতিকদের।
গতকাল রাতেই দুদিনের সফরে চিনে পৌছেছেন প্রধামন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আজ শুক্রবার স্থানীয় সময় সাড়ে তিনটে নাগাদ ইউহান শহরে চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে তাঁর একান্ত বৈঠক হওয়ার কথা।

তবে দুই রাষ্ট্রনেতার বৈঠক বলতে যে গুরুগম্ভীর পরিবেশ মনে হয়, মোদির এই চিন সফর তার চেয়ে অনেকটাই আলাদা। একসঙ্গে মিউজিয়াম ঘুরতে যাওয়া, লেকের জলে নৌকোবিহার করতে করতে নৈশভোজে সাড়া --- এই সুরেই বাঁধা মোদি-জিনপিং'এর 'ঘরোয়া' বৈঠক। যাকে বলা হচ্ছে 'হার্ট টু হার্ট' বা হৃদয় থেকে হৃদয় বৈঠক। মেজাজটা ঘরোয়া হলেও ডোকালাম ইস্যুর মতো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত বিষয় উঠে আসবে আলোচনায়। গতকাল রওনা হওয়ার আগে মোদি জানিয়েছিলেন তাঁরা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মন খুলে কথা বলবেন।
সফরসূচি শুরু হচ্ছে হুবেই প্রদেশের একটি মিউজিয়াম ভ্রমণ দিয়ে। চিনের অন্য়তম সারা মিউজিয়াম বলা হয় যাকে। এখানে এই প্রদেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক নিদর্শনের বিপুল সম্ভার রয়েছে। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্য় মিউজিয়ামটিতে এক বিশেষ প্রদর্শনীরও বন্দোবস্ত করা হয়েছে। প্রদর্শনীর পর দুই দেশের ছ'জন করে শীর্ষকর্তার উপস্থিতিতে হবে প্রথম দফার আলোচনা।
এরপর তাঁদের আবার একসঙ্গে দেখা যাবে বিখ্য়াত ইস্ট লেকের ধারের একটি গেস্ট হাউসে। এই ইস্টলেকই ছিল চিনের প্রবাদপ্রতীম নেতা মাও জে দং-এর প্রিয় ছুটি কাটানোর জায়গা। সেখানে একান্তে নৈশভোজ সারবেন তাঁরা। নৈশভোজার মাঝেও চলবে হাল্কা আলোচনা।
রাতটা সেখানেই কাটাবেন তঁারা। শনিবার সকালে ফের শুরু হবে দুই নেতার একান্ত বৈঠক। স্থানীয় সময় সকাল দশটা থেকে লেকের ধারে পায়চারি করতে করতে কথা বলবেন মোদি-জিনপিং। তারপর লেকের জলে নৌবিহার করতে করতে সারবেন দুপুরের খাওয়া দাওয়া। খাওয়ার পর ফের বৈঠক।
এতগুলি বৈঠক, এত আলোচনা হলেও দুপক্ষই জানিয়েছে সফর থেকে সীমান্ত, এনএসজি কিংবা ডোকলাম- বা অন্য় কোনও বিষয় নিয়েই কোনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। হবে না কোনও চুক্তিও। মিলবে না কোনও যৌথ বিবৃতিও। তা সত্ত্বেও বৈঠকে মোদি ডোকলাম ইস্যুর কোনও রফাসূত্র বার করতে পারবেন বলে আশা রাখছে কূটনৈতিক শিবির। প্রথমত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমশ বাণিজ্য-যুদ্ধে জড়িযে পড়ছে বেজিং।
এ অবস্থায় ভারতকে তাদের পাশে চাই। এছাড়া রয়েছে মোদির ব্যক্তিগত ক্য়ারিশমা। দুই নেতার ঘরোয়া বৈঠকের শুরুটা হয়েছিল সেই ২০১৪ সালে। জিনপিং এসেছিলেন ভারতে। তাঁকে নিয়ে সবরমতি আশ্রমে গিয়েছিলেন মোদি। সেবারের মতো 'জাদু কি ঝাপ্পি'-তে এই সফরেরও কামাল দেখাতে পারেন প্রধানমন্ত্রী।












Click it and Unblock the Notifications