সফল হোক না ব্যর্থ, #Demonetisation দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে, মত চায়না গ্লোবাল টাইমসের
এটা অনেকটা জুয়া খেলার মতো পদক্ষেপ। দুর্নীতির বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ সফল হবে না ব্যর্থ তা সময়ই বলবে। তবে এই সিদ্ধান্তের দিকে নিঃসন্দেহে চিন তাকিয়ে থাকবে ও তা থেকে শিক্ষা নেবে।
বেজিং, ২৬ নভেম্বর : নরেন্দ্র মোদী সরকারের নোট বাতিলের সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত সাহসী পদক্ষেপ হিসাবে চিহ্নিত করল চায়না গ্লোবাল মিডিয়া। চিনের এই সরকারি সংবাদমাধ্যমের মতে, এটা অনেকটা জুয়া খেলার মতো পদক্ষেপ। দুর্নীতির বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ সফল হবে না ব্যর্থ তা সময়ই বলবে। তবে এই সিদ্ধান্তের দিকে নিঃসন্দেহে চিন তাকিয়ে থাকবে ও তা থেকে শিক্ষা নেবে।
পুরনো ৫০০ টাকার নোট এখনও ব্যবহার করতে পারবেন এই জায়গাগুলিতে
ব্যাঙ্কে জমা করা হিসাব বহির্ভূত টাকার ৬০ শতাংশ হারে কর বসাতে চলেছে কেন্দ্র
গ্লোবাল টাইমসের সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, মোদীর পদক্ষেপ অত্যন্ত সাহসী। আমরা ভাবতেও পারি না চিনে কী হতে পারে যদি হঠাৎ করে ৫০ ও ১০০ ইয়ুয়ানের নোট বাতিল করে দেওয়া হয়। সম্পাদকীয়টির যে শীর্ষক রাখা হয়েছে তার বাংলা তর্জমা করলে দাঁড়ায় 'আর্থিক সংষ্কার নিয়ে ঝুঁকি নিলেন মোদী'।

ভারতে নোট বাতিল নিয়ে সম্পাদকীয়তে লেখা হয়েছে যে, সংষ্কারের লক্ষ্যে এমন সিদ্ধান্ত নিতে গেলে তা গোপন রাখতে হতো সন্দেহ নেই। কালো টাকা আটকাতে বা তা বাতিল করার বিষয়ে মোদী সরকার কিছুটা বিভ্রান্ত ছিল। তা নিয়ে জনগণের মনে কী প্রভাব পড়বে তাও ভাবনায় রেখেছিল সরকার।
#NoteBan নিয়ে মানুষের রায় কি? জেনে নিন Oneindia সমীক্ষা কি বলছে
স্বেচ্ছ্বায় ব্যাঙ্কে এসে জমা করলেই 'কালো' টাকা হয়ে যাবে 'সাদা'!
ভারতে যেহেতু ৯০ শতাংশ লেনদেন নগদ টাকার মাধ্যমে হয় তাই দেশের মোট নোটের ৮৫ শতাংশ একলহমায় বাতিল করে দেওয়ায় আমজনতায় রোজনামচা চালাতে গিয়ে হয়রানি হয়েছে যথেষ্ট। এমনকী প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সমালোচনাও যে হজম করতে হয়েছে, সেটাও লেখা হয়েছে সম্পাদকীয়তে।
মোদীর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সমালোচনা করে লেখা হয়েছে, দুর্নীতি ও ছায়া অর্থনীতির প্রভাব হয়ত কমাতে পারবে নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত। তবে গভীর সামাজিক ও রাজনৈতিক সমস্যাগুলির সমাধান এর দ্বারা করা সম্ভব নয়। তবে সংষ্কারের লক্ষ্যেই যে মোদী সরকার এই পদক্ষেপ করেছে তা চিনা সম্পাদকীয়তে একবাক্যে স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে।
তবে এটা করে যে মোদী জুয়া খেলেছেন তা মনে করছে চিন গ্লোবাল টাইমস। একদিকে যেমন এর মাধ্যমে তিনি সরকারের ক্ষমতাকে দাড়িপাল্লায় চাপিয়েছেন, তেমনই আমজনতার ধৈর্য্যেরও পরীক্ষা নিয়েছেন। এর ফলে যদি সমাজের উন্নতিসাধন সম্ভব হয় তাহলে এই সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা অনুভূত হবে, মত চিনা গ্লোবই টাইমসের।
সম্পাদকীয়টিতে বলা হয়েছে, সংষ্কার করা বেশ কঠিন কাজ। কারণ এটা করতে শুধু সাহস থাকলে হয় না। মোদীর পদক্ষেপ সৎ হতে পারে তবে গোটা সিস্টেম ও সমাজের সহযোগিতা না পেলে তা সফল হবে না। আর এখন যা অবস্থা তাতে অনেক মানুষের ধৈর্য্য়ের বাঁধ ভাঙতে শুরু করেছে।
চারদশক আগে চিনে সংষ্কার হয়। আর তারপর থেকেই বিশ্ব অর্থনীতিতে তরতর করে এগিয়ে গিয়েছে চিন। ফের একবার সময় এসেছে সেদেশে সংষ্কারের। ফলে ভারতের সংষ্কারকে মেপে নিতে চাইছে চিন। এর থেকে ভালো কিছু পাওয়া গেলে তা চিনেও কার্যকর হতে পারে, এমনই ইঙ্গিত মিলেছে সম্পাদকীয়তে।












Click it and Unblock the Notifications