ওমিক্রনের বিশ্বব্যাপী সংক্রমণ ঠেকানোর উপায় কী? কোনপথে হাঁটার পরামর্শ রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব গুতেরেসের
ওমিক্রনের বিশ্বব্যাপী সংক্রমণ ঠেকানোর উপায় কী? কোনপথে হাঁটার পরামর্শ রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব গুতেরেসের
দীর্ঘ প্রায় ২ বছর করোনার ফাঁড়া অনেকটা কাটিয়ে নিউ নর্মালে ফিরছিল ভারত তথা পৃথিবী। কিন্তু এরই মধ্যে করোনাভাইরাসের নতুন প্রজাতি 'ওমিক্রন' ইতিমধ্যেই আলোড়ন সৃষ্টি করেছে গোটা বিশ্বজুড়ে। গত সপ্তাহে এই বি.১.১.৫২৯ কোভিড ভেরিয়েন্ট বা ওমিক্রনের খোঁজ প্রথম মেলে দক্ষিণ আফ্রিকায়।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মত, ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের থেকেও নাকি শক্তিশালী এই নতুন প্রজাতি। তাই প্রথম থেকেই এবিষয়ে সতর্ক করেছে 'হু'। আর এবার 'ওমিক্রন' নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে আয়োজিত জি-৭৭ বৈঠকে মহাসচিব আগেই বলেছিলেন যে কিভাবে করোনা মহামারী উন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশগুলিতে বিপর্যয় সৃষ্টি করে চলেছে। আর এবার নতুন প্রজাতি সামনে আসার পরেই বিশ্ব স্বাস্থ্য নিয়ে ফের চিন্তা প্রকাশ করলেন গুতেরেস।

করোনা টিকাকরণ প্রসঙ্গে
এই মহামারী থেকে বাঁচার প্রধান উপায় হল বিশ্বব্যাপী টিকাকরণ। এই কথা উল্লেখ করে মহাসচিব জানিয়েছেন, " জাতিসংঘ সবসময় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার টিকানীতিকে সমর্থন করেছে। পাশাপাশি তাঁদের লক্ষ্য ছিল ২০২১-এর শেষে বিশ্বের সমস্থ দেশের গড়ে ৪০ শতাংশ জনগণ এবং ২০২২-এর মধ্যে গড়ে ৭০ শতাংশ মানুষকে টিকাদান করা"
এরসঙ্গে তিনি যোগ করেন, " পৃথিবীর সব দেশের সব মানুষের করোনা পরীক্ষা করা, চিকিৎসা পরিষেবা লাভ ও টিকা গ্রহণের আধিকার আছে।" এমনকি জাতিসংঘের শীর্ষকর্তারাও কোভ্যাক্স সুবিধার জন্য সমর্থন চেয়েছেন।

বিশ্ব অর্থনীতি প্রসঙ্গে
শুধু চিকিৎসা প্রসঙ্গেই নয়, করোনার ফলে গত দু-বছরে বিশ্ব বাজারে যে অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার খতিয়ান তুলে ধরে সিনহুয়া প্রসঙ্গ উল্লেখ করলেন জাতিসংঘের মহাসচিব। ২০২১ সালে বিশ্ব অর্থনীতির হাড় ৫.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে তা হয়েছে অনেক কম।
উদাহরণস্বরূপ তিনি বলেছেন, আগামী ৫ বছরে সাব-সাহারান আফ্রিকার দেশগুলিতে মাথা পিছু আয়ের পরিমান (per capita) অন্যান্য দেশের থেকে প্রায় ৭৫ শতাংশ কম হতে চলেছে। এই ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি ঋণ গ্রহণ এবং পরিষেবা প্রদানের ব্যয়ের উপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে ইতিমধ্যেই সতর্ক করেছিলেন আন্তোনিও গুতেরেস। আর এবার করোনার নতুন প্রজাতি যদি বৃদ্ধি পায় তাহলে ২০২২ সালে আরও একবার বিশ্ব অর্থনীতিতে তার করাল থাবা বিস্তার করবে বলেই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

জলবায়ু পরিবর্তন প্রসঙ্গে
জলবায়ু বৈষম্য ও পরিবর্তন প্রসঙ্গেও নিজের মতামত ব্যাক্ত করেছেন জাতিসংঘ প্রধান। এমনকি করোনা মহামারীকালে বিভিন্ন সমস্যা মোকাবেলায় 'কোয়ান্টাম লিপ'-এর আহ্বান জানান গুতেরেস। পাশাপাশি এই সময়ে জাতিসংঘের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি জানান , জাতিসংঘের ১৩৯টি দেশের জন্য প্রায় ৩ বিলিয়ান ডলারের বিশেষ আর্থ-সামাজিক পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। এই পদক্ষেপ প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে জাতিসংঘের গ্রহণযোগ্যতা আগের তুলনায় অনেক বেশি বাড়িয়েছে।

২০৩০ এজেন্ডা প্রসঙ্গে
২০৩০ এজেন্ডা এবং প্যারিস চুক্তি প্রসঙ্গে জাতিসংঘের প্রধান যোগ করেছেন, " উন্নয়নের লক্ষ্যে আগামী ১০ বছর জাতিসংঘের প্রচেষ্টা জোরদার করতে হবে, যা সঠিক বিশ্বায়ন, অর্থনৈতিক উন্নতি, এবং বিভিন্ন দেশের মধ্যে সংঘাত ঠেকাতে আবশ্যক।" তিনি বলেন, "জলবায়ু সংকট থেকে শুরু করে করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ, নতুন প্রযুক্তি-উন্নয়নের মুখোমুখি হওয়া, এইসব চ্যালেঞ্জের মুখমুখি হতে গেলে ঐক্য ও সংহতির একটি কোয়ান্টম লিপ দরকার।"












Click it and Unblock the Notifications