ইরানে সবচেয়ে বড় সামরিক হামলা হতে চলেছে! কী হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব
মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, ইরানকে আবারও সবচেয়ে বড় আঘাতের মুখোমুখি হতে হবে। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন যে চলমান উপসাগরীয় যুদ্ধ আমেরিকার শর্তেই শেষ হবে এবং ওয়াশিংটন তার অভিযান সম্পন্ন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। হেগসেথ ইরানের সামরিক সক্ষমতার ব্যাপক ক্ষতির দাবি করে বলেন, লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।
সচিব উল্লেখ করেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী এই পর্যন্ত ইরানে ৭ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। বৃহস্পতিবারের হামলা আগের দিনের মতোই সবচেয়ে বড় আঘাত হবে। হেগসেথের মতে, "আমাদের সক্ষমতা ক্রমাগত বাড়ছে, আর ইরানের সক্ষমতা কমছে"; তিনি যোগ করেন, ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা "ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে"। খার্গ দ্বীপে হামলার পর আমেরিকা দেশটির ভাগ্যের উপর নিয়ন্ত্রণ লাভ করেছে বলেও তার দাবি।

ব্রিফিংয়ের শুরুতে হেগসেথ জানান, ইরান যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনাদের দেহাবশেষ দেশে ফিরিয়ে আনার সময় তিনি ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বুধবার উপস্থিত ছিলেন। নিহত সেনাদের পরিবারের সদস্যরা প্রশাসনের কাছে "কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত" না থামতে অনুরোধ করেন। হেগসেথ প্রতিজ্ঞা করেন, "অবশ্যই, আমরা এটি শেষ করব। আমরা তাদের আত্মত্যাগকে সম্মান জানাব।"
মার্কিন জনগণের উদ্দেশে হেগসেথ "দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ" হওয়ার সমালোচনার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি জোর দেন যে ইরানে আমেরিকার উদ্দেশ্য "প্রথম দিন থেকেই" অপরিবর্তিত। এসব উদ্দেশ্য "লক্ষ্য ও পরিকল্পনা অনুযায়ী" এগোচ্ছে। হেগসেথের মতে, এর উদ্দেশ্য হল ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা ধ্বংস, ইরানের প্রতিরক্ষা-শিল্প ভিত্তি ভেঙে দেওয়া, নৌবাহিনীকে নিষ্ক্রিয় করা এবং "ইরান কখনই পারমাণবিক অস্ত্র না পায়" তা নিশ্চিত করা।
হেগসেথ আরও দাবি করেন, সংঘাত শুরুর পর থেকে মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও একমুখী ড্রোন হামলা ৯০% কমেছে। নতুন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির ইরানের ক্ষমতা "সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত" হয়েছে বলেও তার মত।
বিস্তারিত তথ্যে হেগসেথ জানান, আমেরিকা কমপক্ষে ১২০টি ইরানি নৌ জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত বা ডুবিয়ে দিয়েছে। সেখানকার সারফেস ফ্লিট এখন "আর কোনও ফ্যাক্টর নয়" এবং ইরানের ১১টি সাবমেরিনও "নেই"।
তিনি ইরানের সামরিক নেতৃত্বের ভূমিকাকে ক্রমশ অনিশ্চিত বলে বর্ণনা করেন। হেগসেথের মতে, "বর্তমানে বিশ্বে সবচেয়ে কম কাঙ্ক্ষিত কাজ" হল একজন সিনিয়র ইরানি কমান্ডারের পদ; এমন পদকে তিনি অস্থায়ী কাজ হিসেবে অভিহিত করেন।
গাজার হামাসের সঙ্গে ইরানের শাসনের তুলনা করে হেগসেথ তেহরানকে সুড়ঙ্গ, রকেট, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনে ব্যাপক বিনিয়োগের জন্য অভিযুক্ত করেন। মার্কিন বাহিনী এই সম্পদগুলিকে "সুকৌশলে, নির্দয়ভাবে এবং প্রবলভাবে" লক্ষ্যবস্তু করছে, "যা বিশ্বের অন্য কোনো সামরিক বাহিনী করতে পারে না" বলেও তিনি জানান।
হেগসেথ আবারও জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত তার অভিযান চালিয়ে যাবে। তিনি বলেন, "আমরা এটি শেষ করব। আমরা তাদের আত্মত্যাগকে সম্মান জানাব।"
ব্রিফিংয়ের আগে হেগসেথ দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের একটি প্রতিবেদন নিয়ে কথা বলেন। এতে বলা হয়েছিল, পেন্টাগন ইরান যুদ্ধের জন্য হোয়াইট হাউসের কাছে অতিরিক্ত তহবিল চেয়েছে। তিনি জানান, ২০০ বিলিয়ন ডলারের উল্লিখিত অঙ্ক "অবশ্যই পরিবর্তিত হতে পারে।" হেগসেথ মন্তব্য করেন, "দুষ্টদের মারতে টাকা লাগে" এবং মার্কিন বাহিনীকে "যথাযথভাবে অর্থায়ন" করা গুরুত্বপূর্ণ।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উদ্দেশ্য অর্জনের বিষয়ে আমেরিকা কতটা কাছাকাছি, এমন প্রশ্নের জবাবে হেগসেথ বলেন, "আমরা এর জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করতে চাই না।" তবে তিনি পুনরায় নিশ্চিত করেন যে অভিযান "পরিকল্পনা অনুযায়ী" চলছে।
আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়ে হেগসেথ ইসরায়েলকে "প্রথম দিন থেকেই" "এক অবিশ্বাস্য ও সক্ষম" অংশীদার হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি যোগ করেন, উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোও "অবিশ্বাস্যভাবে" এগিয়ে এসেছে, এই সংঘাত তাদের "পুরোপুরি আমাদের কক্ষপথে" নিয়ে এসেছে।
তিনি যুক্তি দেন যে ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করতে অস্বীকার করা কেবল "একটি আঞ্চলিক সমস্যা" নয়, বরং "আমেরিকা, স্বাধীনতা এবং সভ্যতার জন্য একটি সরাসরি হুমকি"।
তার সমাপনী বক্তব্যে হেগসেথ বলেন, "বিশ্ব, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপে আমাদের অকৃতজ্ঞ মিত্ররা এবং এমনকি আমাদের নিজস্ব গণমাধ্যমের কিছু অংশ"-এর উচিত এই সংঘাতকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানানো।
-
যুদ্ধ নয়, আলোচনায় সমাধান! হরমুজ ইস্যুতে বৈঠক ডাকল ব্রিটেন, যোগ দিচ্ছে ভারত -
প্রবল ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ইন্দোনেশিয়া, আতঙ্কে পথে মানুষ -
ইডেনে প্রথম জয়ের সন্ধানে কেকেআর-সানরাইজার্স, দুই দলের একাদশ কেমন হতে পারে? -
কালিয়াচক কাণ্ডের পর ফের অশান্তি! অমিত শাহ-র রোড শো ঘিরে ভবানীপুরে ধুন্ধুমার, হাতাহাতি তৃণমূল-বিজেপির -
'১৫ দিন বাংলায় থাকব', ভবানীপুরে মমতাকে হারানোর ডাক, শাহের চ্যালেঞ্জে তপ্ত রাজনীতি -
কালিয়াচকে প্রশাসনিক গাফিলতি? জেলাশাসক, পুলিশ সুপারকে শোকজ, CBI অথবা NIA তদন্তের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট -
ভবানীপুরে আজ শক্তি প্রদর্শনে বিজেপি, শুভেন্দুর মনোনয়নে সঙ্গী অমিত শাহ -
'খুব দ্রুত যুদ্ধ শেষ করব'! ইরান ইস্যুতে কড়া বার্তা মার্কিন প্রেসিডেন্টের, কী বললেন? -
কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্ত! দেশের বিভিন্ন শহরে আই-প্যাকের দফতর ও ডিরেক্টরের বাসভবনে ইডি তল্লাশি -
কালিয়াচক কাণ্ডে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের! 'রাজনীতি নয়, বিচারকদের নিরাপত্তাই...', কী কী বলল শীর্ষ আদালত? -
কালিয়াচক কাণ্ডে উত্তেজনা চরমে! বিচারকদের ঘেরাও-ভাঙচুরে তৃণমূলকে নিশানা সুকান্তর, কী বললেন দিলীপ? -
মালদহের অশান্তি নিয়ে বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলল মমতা, সুতির সভা থেকে শান্তির বার্তা












Click it and Unblock the Notifications