'পাঁচ সিংহের' এলাকা আফগানিস্তানের পাঞ্জশিরে দুরমুশ তালিবানরা! কাবুলের অদূরে আরও এক ইতিহাস
পাঁচ সিংহের' এলাকা আফগানিস্তানের পাঞ্জশিরে দুরমুশ তালিবানরা! কাবুলের অদূরে আরও এক ইতিহাস
পাঞ্জশির , আফগানিস্তানের একমাত্র স্বাধীন এলাকা। যার দখল নিতে গিয়ে তালিবান কার্যত ঘাড় ধাক্কা খেয়েছে, আর বিদেশী কোনও শক্তি তাকে দখল করে নিতে পারেনি। পারস্যের ভাষায় 'পাঞ্জশির' শব্দের অর্থ হল পঞ্চ 'শের' বা পাঁচটি সিংহের সমাহার। এমন প্রদেশের যোদ্ধারা যে সিংহ বিক্রমে শত্রু দমন করত পারেন, তা এলাকার নামই বলে দিচ্ছে। আফগানিস্তানের বুকে দুর্দমনীয় তালিবান যখন একের পর এক এলাকায় দখল বসাচ্ছে, তখন এই পাঞ্জশির এলাকা কার্যত, তালিবানকে দুরমুশ করে দিয়েছে। একনজরে দেখা যাক, পাঞ্জশিরে কী ঘটেছে?

অজেয় এক এলাকার বীর বিক্রমের কাহিনি
না কোনও বিদেশীর শক্তির কাছে মাথা নুইয়েছে এই এলাকা, না নিজেরে দেশের ভূমিতে গড়ে ওঠা কোনও শত্রুকে এলাকায় প্রবেশ করতে দিয়েছে আফগানিস্তানের এলাকা পঞ্জশির। যখন গোটা বিশ্ব ভাবছিল তালিবান কাবুলের মুখে ঢোকার আগে খানিকটা বাধা পাবে, তখন সময়ের আগেই কার্যত কাবুলের পতন হয়েছিল, তবে পঞ্জশির ইতিহাসের পাতায় অন্য কাহিনি লিখে দিল। সেখানে আফগান সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহর বাহিনী তালিবানকে রুখে দিয়েছে। এই প্রথম নয়, শত্রু দমনেএমনই ইতিহাস বারবার লিখেছে পঞ্জশির।

কাবুল যা পারেনি তা করে দেখাল পঞ্জশির
কাবুল থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিতত আফগানিস্তানের পঞ্জশির। যেখানে আফগানিস্তানের প্রায় ৯৮ শতাংশ এলাকা তালিবান দখল করেছে ,সেখানে পাঞ্জশির কার্যত তালিবানকে মোক্ষম জবাব দিয়ে দূর হঠিয়েছে। একমাত্র এই এলাকাতেই দাঁত ফোটাতে পারেনি তলিবানরা। কাবুলের আফগান সেনা যেখানে অসহায়ের মতো অস্ত্র ত্যাগ করেছে তালিবানের সামেন সেখনে ভাইস প্রেসিজেন্ট আমিরুল্লাহ সারেহর বাহিনীর যোদ্ধারা জানান দিয়েছে
কাবুল যা করে দেখাতে পারেনি তা করে দেখাবে পাঞ্জশির।

পাঞ্জশির ও ইতিহাস
ইতিহাস বলছে আজ পর্যন্ত পাঞ্জশিরে কোনও দিনও দাঁত ফোটাতে পারেনি তালিবানরা। শুধু তাই নয় ১৯৭০ সালে সেদেশে যখন সোভিয়েত ইউনিয়নের হানা শুরু হয়, তখনও বিদেশী শক্তির কাছে হার মানেনি পাঞ্জশির। ১৯৮০ দশকেও একই ঘটনা। এরপর তালিবান জমানাতেও বর্বরোচিত নানা অত্যাচার তালিবানরা করে গেলেও মাথা নোয়ানি পাঞ্জশির। এখানের যোদ্ধাদের রয়েছে এক অসামান্য ইতিহাস।

পাঞ্জশিরের যোদ্ধা আহমেদ শাহ মাসুদের কাহিনি
স্বপ্নসুন্দর পাঞ্জশিরে রয়েছে ৩৪ টি প্রভিন্স। যারমধ্যে ৫১২ টি গ্রাম রয়েছে। এখানের গ্রামের অধিবাসীদের অনেকেই তালিবান বিরোধী বাহিনীর যোদ্ধা। এখানে এককালে তালিবানদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন উপজাতি নেতা আহমেদ শাহ মাসুদ। তাঁর ছেলে আহমেদ মসুদ বর্তমানে নিজের বাহিনী নিয়ে হাত মিলিয়েছেন দেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহর সঙ্গে । তাঁরা চাইছেন আফগান সেনারাও তাঁদের সঙ্গে সংযুক্ত হন।
এর আগে, পাঞ্জশিরের আহমেদ শাহ মাসুদ বারবার তালিবানের পথে অন্তরায় হওয়ায়, তাঁকে ২০০১ সালে খুন করে জঙ্গি সংগঠন আল কায়দা। এরপরও মাথা নোয়ানি পাঞ্জশির ও আহমেদ শাহ পুত্র আহেমদ মাসুদ। চলছে লড়াই। যার নমুনা দেখিয়েছে আফানিস্তানের এই লড়াকু প্রদেশ।












Click it and Unblock the Notifications